শিরোনাম
◈ মাথাপিছু বরাদ্দ ৮ হাজার টাকা বাড়লেও বাড়ছে ঋণের দায় ◈ সস্তায় পেয়ে ৩৪ তলায় ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, পরে জানলেন বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই নেই ◈ বিসিবির প‌রিচালকরা কে কোন ক‌মি‌টির দায়িত্ব পে‌লেন ◈ নির্বাচনের আগে একটি দলকে ইসলামী ব্যাংক ১১ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ পুশইন ঠেকাতে বেনাপোল সীমান্তে দেড়গুণ বাড়ানো হলো বিজিবি মোতায়েন ◈ ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ, ব্যাংকটি বিএনপি সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ: অর্থমন্ত্রী ◈ কী থাকবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন চার বিষয়ের মধ্যে? ◈ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান, নাহিদ-মোসাদ্দেকের দাপটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় ◈ এবার বাতিল হ‌লো ইরানের জন্য বরাদ্দ থাকা ‌বিশ্বকা‌পের টিকিটও ◈ ইউপি নির্বাচনকে ‘টেস্ট কেস’ ভাবছে সরকার, আ.লীগ নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন আলোচনা

প্রকাশিত : ১০ জুন, ২০২৬, ১২:৫১ রাত
আপডেট : ১০ জুন, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাথাপিছু বরাদ্দ ৮ হাজার টাকা বাড়লেও বাড়ছে ঋণের দায়

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সম্ভাব্য বাজেট দেশের মানুষের জন্য একদিকে বাড়তি সরকারি ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসছে, অন্যদিকে বাড়াচ্ছে ঋণের দায়ও। চলতি অর্থবছরের তুলনায় মাথাপিছু বাজেট ব্যয়ের বরাদ্দ একলাফে ৮ হাজার ৩৫৮ টাকা বাড়তে চলেছে। একই সময়ে মাথাপিছু আয় করার লক্ষ্য বাড়তে যাচ্ছে ৭ হাজার ১১৫ টাকা।

তবে সরকার অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ব্যয়ের পরিধি বাড়ালেও এর বড় একটি অংশ জোগান দিতে হবে ঋণের মাধ্যমে। ফলে মাথাপিছু ঋণের বোঝা আরও ১ হাজার ২৪৩ টাকা বাড়ছে। অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয়ে বড় সম্প্রসারণের ফলে মাথাপিছু এডিপি বরাদ্দ বেড়েছে ৩ হাজার ৫২৩ টাকা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থনীতির আকার বড় করা, বিনিয়োগ টেনে আনা এবং উৎপাদন ও কর্মসংস্থাননির্ভর প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সরকারের নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এসব পরিসংখ্যানে।

আগামী অর্থবছরের জন্য মোট বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। জিডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। বাজেটের আকার জিডিপির প্রায় ১৪ শতাংশ হলেও এবার সরকার এটিকে একটি সম্প্রসারণমূলক বাজেট হিসেবে দেখছে। কারণ, কয়েক বছর ধরে রাজস্ব সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় যে সংযম দেখা গিয়েছিল, এবার তার বিপরীতে উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি সামনে রেখে বড় আকারের ব্যয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৭০ লাখ ৮৬ হাজার। সেই হিসাবে আগামী অর্থবছরে মাথাপিছু বাজেট বরাদ্দ দাঁড়াচ্ছে ৫২ হাজার ৯৬৯ টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ৪৪ হাজার ৬১১ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রতিজনের জন্য সরকারি ব্যয়ের সক্ষমতা ৮ হাজার ৩৫৮ টাকায় উন্নীত হচ্ছে।

একইভাবে বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আর সরকারের কাছে যা আয়, সাধারণের কাছে তা রাজস্ব আকারে জমা করার দায়। এ হিসাবে মাথাপিছু রাজস্ব প্রদানের দায় বর্তাচ্ছে ৩৯ হাজার ২৪৬ টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ৩২ হাজার ১৩১ টাকা। অর্থাৎ মাথাপিছু রাজস্ব পরিশোধের দায় বছরের ব্যবধানে বাড়ছে ৭ হাজার ১১৫ টাকা।

সরকারের প্রত্যাশা, রাজস্ব আহরণে সংস্কার, বিনিয়োগ কার্যক্রমের সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধির মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি থেকে এই আয় সংগ্রহ সম্ভব হবে।

এদিকে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণও। আগামী অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ২ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার চেয়ে ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি। জনসংখ্যার হিসাবে মাথাপিছু ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ১৩ হাজার ৭২২ টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ১২ হাজার ৪৮০ টাকা।

এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে আরও বেশি ঋণ নিতে হবে। ফলে প্রত্যেক নাগরিকের কাঁধে পরোক্ষভাবে নতুন করে ১ হাজার ২৪২ টাকার ঋণের বোঝাও যুক্ত হচ্ছে।

উন্নয়ন ব্যয়ের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে বড় ধরনের সম্প্রসারণ। আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে যা ছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০৯ কোটি টাকা। এ হিসাবে মাথাপিছু উন্নয়ন ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১৭ হাজার ৩৯৩ টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ১৩ হাজার ৮৭০ টাকা। অর্থাৎ আগামী অর্থবছর মাথাপিছু উন্নয়ন বরাদ্দ বেড়েছে ৩ হাজার ৫২৩ টাকা।

অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই এ ব্যয় বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এসব সংখ্যা শুধু বাজেটের আকার বৃদ্ধির গল্প বলে না; বরং সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দেয়। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের ভাষায়, প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এখন বড় পরিসরের সরকারি ব্যয় প্রয়োজন। তবে সেই ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে না পারলে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী মনে করেন, বাজেটের আকার বড় হওয়া ইতিবাচক হলেও মূল চ্যালেঞ্জ থাকবে বাস্তবায়নে। উন্নয়ন ব্যয় যদি উৎপাদনশীল খাতে যায় এবং বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে, তাহলে এই ব্যয় ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করবে। অন্যথায় এই বড় ব্যয় অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে, যার উপশমের চেষ্টায় নেওয়া পদক্ষেপ আবার মূল্যস্ফীতি উসকে দিতে পারে। উৎস: আজাকের পত্রিকা।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়