শিরোনাম
◈ ৫ ব্যাংকের আমানত ফেরত সিদ্ধান্ত, কিন্তু শেয়ার বিনিয়োগকারীরা রয়ে গেল অনিশ্চয়তায় ◈ কর ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারে ৫৫ সুপারিশ, প্রতিবেদন গ্রহণ করলেন প্রধান উপদেষ্টা ◈ খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে একমাত্র বিএনপিই কাজ করে: তারেক রহমান ◈ নিরবতা ভাঙলো আইসিসি, বিশ্বকা‌পের জন‌্য অ্যাক্রেডিটেশন পাচ্ছে বাংলাদেশি সাংবাদিকরা ◈ টেকনাফে পাহাড় থেকে ৬ কৃষককে অপহরণ ◈ বেনাপোল বন্দরে ৩ মাস পর ৫১০ টন চাল আমদানি ◈ ৯০ দিন গাম্বিয়া ভ্রমণ করতে পারবেন ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশি নাগরিকরা ◈ তারেক রহমানের গাড়ি থামিয়ে কী বললেন তরুণী (ভিডিও) ◈ অতিরিক্ত সচিব পদে ১১৮ কর্মকর্তার পদোন্নতি ◈ জাতীয় দলে সাকিবের ফেরার গুঞ্জন: বিসিবির সঙ্গে আলোচনা শুরু

প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:৪৩ রাত
আপডেট : ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৫ ব্যাংকের আমানত ফেরত সিদ্ধান্ত, কিন্তু শেয়ার বিনিয়োগকারীরা রয়ে গেল অনিশ্চয়তায়

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও এখনও অনিশ্চয়তায় একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা। এমনকি এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয়ার ৪ মাস পার হলেও কোনো সদুত্তর পায়নি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেনা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ভুয়া ব্যালেন্সশিটের মাধ্যমে এসব ব্যাংককে সবল দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।

দুর্নীতি, অনিয়ম আর খেলাপি ঋণের ভারে যখন প্রায় অস্তিত্ব শূন্য তখনো পুঁজিবাজারে হয়েছে একীভূত হওয়া পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের শেয়ার বেচাকেনা। অডিট ফার্মগুলোর দেয়া অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি ব্যালেন্সশিটে ব্যাংকগুলোকে লাভজনক দেখানোর অভিযোগ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।
 
ইউনিয়ন ব্যাংকে বিনিয়োগকারী মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলো আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসার পর আমরা শেয়ার কিনেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক অডিটের পরই ব্যাংকগুলো আইপিওতে এসেছে। তারা অনুমোদন দিয়েছে। তাই এর দায় বাংলাদেশ ব্যাংকের।
 
বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মহসিন খান বলেন, এটার দায় বিনিয়োগকারীদের নয়। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দায়, কারণ তারা ভালো কোম্পানি দেখেই লিস্টিং করেছে।
 
এদিকে, পুঁজিবাজারে আইপিওভুক্ত হতে জমা দেয়া ব্যালেন্সশিটের অডিট যাচাই করে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এমন অভিযোগ স্বীকার করে অডির্ট ফার্মগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছে সংস্থাটি। বিএসইসির পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, অডিট ফার্মদের বিরুদ্ধে কমিশনও ব্যবস্থা নেয়। এফআরসিও ব্যবস্থা নিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও ব্যবস্থা নেবে।
  
গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দেয় বিএসইসি। চিঠিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে পাঁচটি সুপারিশ করা হয়। বিষয়টি জানানো হয় সরকারকেও। কিন্তু ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি অর্থ মন্ত্রণালয় অথবা কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
 
বিএসইসির পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ফাইন্যানশিয়াল স্টেটমেন্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রাই পার্টি মিটিং করে এডপ্ট করেছে। রেগুলেটরও বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং দেখেছেন, এটি ঠিকমতো প্রকাশিত হয়েছে। এজন্য এই দায় আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। যেই বিনিয়োগকারী কোনোভাবেই দায়ী নয় ব্যাংকের দুরবস্থার জন্য, তাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
 
পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুঁজিবাজারে একীভূত পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার কেনা বিনিয়োগকারীদের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, স্টক মার্কেটের বিনিয়োগকারীর হাতে কোম্পানির কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। যারা লার্জ শেয়ারহোল্ডার বা বোর্ডে বসে কন্ট্রোলিং সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের কেউ কেউ হয়ত লুটপাটের সঙ্গে জড়িত। এই প্রেক্ষিতে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।
 
দেশের বিনিয়োগ প্রবাহ স্বাভাবিক করতে আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিতের ওপর জোর দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতিকে মাটিতে পুঁতে দিতে হবে, না হলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ বাংলাদেশ আর পাবে না।
 
এদিকে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের ৭৫ লাখ আমানতকারীকে ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। উৎস: সময়নিউজটিভি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়