শিরোনাম
◈ মিথিলার পর ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬’-এর মুকুট উঠল সামিরা খান মাহির মাথায় ◈ লাইসেন্স ছাড়া অনলাইনে বিক্রি করা যাবে না চাঁদপুরের ইলিশ, আবেদন করতে হবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ◈ আসামি ছিনিয়ে নেওয়া থেকে পুলিশ হত্যা, বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তাঝুঁকি ◈ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার দেখা মিলল বিপন্ন প্রজাতির ‘যশোরের হনুমান’, ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য ◈ ৭ নভেম্বর কোনো দলের একক সম্পত্তি নয়, এটি জাতীয় অর্জন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ এইচএসসি ফল চ্যালেঞ্জে ১০ লাখের বেশি আবেদন, শিক্ষা বোর্ডের আয় ১৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ◈ শ্রীলঙ্কাকে ৪৫ রা‌নে হারিয়ে যুব এশিয়া কা‌পের সেমিফাইনা‌লের পথে বাংলাদেশ  ◈ জীবিত থাকতে সাবধান! মৃত্যুর পরও যেসব কাজের কারণে কবরে গুনাহ পৌঁছায়, জানুন ইসলামের নির্দেশনা ◈ যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী, বড় ধাক্কায় চীন-ভারত: তবে কমছে পণ্যের দাম ◈ জামায়াত-এনসিপির সম্পর্কে ফাটল নাকি রাজনৈতিক কৌশল?

প্রকাশিত : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৯ রাত
আপডেট : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আসামি ছিনিয়ে নেওয়া থেকে পুলিশ হত্যা, বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তাঝুঁকি

পুলিশ সদর দফতরের অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে সারা দেশে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৪৪০টি মামলা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৪৬২। মামলার সংখ্যা কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে হামলার ধরন, প্রকাশ্যে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরের প্রথম কয়েক দিনে ঘটে যাওয়া কয়েকটি আলোচিত ঘটনা সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

হাতকড়া পরানো আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ জনতা। গ্রেফতার অভিযানে দলবদ্ধ হয়ে হামলা চালানো হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের ওপর। ভাঙচুর করা হচ্ছে পুলিশের গাড়ি। মিছিল-বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েও আক্রান্ত হচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কোথাও অপরাধীদের সহযোগীরা, কোথাও রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি, আবার কোথাও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর চড়াও হচ্ছে। এমনকি দায়িত্বের বাইরে থাকা পুলিশ সদস্যরাও রেহাই পাচ্ছেন না হামলা থেকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক এসব ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তা এবং অপরাধীদের বেপরোয়া আচরণের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। 

পুলিশের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুলিশের ওপর হামলা এখন আর শুধু ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান কিংবা সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ নেই। নিয়মিত তল্লাশি, মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণের সময়ও হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। কোথাও পুলিশ সদস্যদের ঘিরে মারধর করা হচ্ছে, কোথাও হামলা চালিয়ে হাতকড়া পরানো আসামিকে ছিনিয়ে নিচ্ছে তার সহযোগীরা। এসব ঘটনায় পুলিশের তাৎক্ষণিক আইন প্রয়োগের সক্ষমতা ও অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

হাতকড়া পরিয়েও আসামিকে রাখতে পারছে না পুলিশ

Advertisement

গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বগুড়ার সোনাতলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে প্রতারণা মামলার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ সময় পুলিশের পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করা হয়। হামলায় পুলিশের কর্মকর্তাসহ তিন সদস্য আহত হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। জড়িত থাকার অভিযোগে চার নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ৯ জুন ঢাকার সাভারের বক্তারপুর এলাকায় মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম শামীম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মশিউর রহমান খান। পুলিশ জানায়, আসামিকে হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করলে তার সহযোগীরা ইট ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল হামলায় অংশ নেয় এবং গ্রেফতার আসামিকে ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে ৫৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জুলাইয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায়ও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। সেখানে গ্রেফতার এক আসামিকে থানায় নেওয়ার সময় প্রায় ৫০ জনের একটি দল পুলিশের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। চার পুলিশ সদস্যকে মারধর করে হাতকড়া পরানো আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার এবং ৬৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার তথ্য জানায় পুলিশ।

গত ২ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে একাধিক মামলার আসামি আসির মিয়াকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তার স্বজন ও সহযোগীরা হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়। পরে ওই আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়।

মিছিল থেকেও হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা

গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বন্দর থানার ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৬ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বিকেলে হঠাৎ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সেখানে মিছিল বের করেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মিছিলে বাধা দেয়। এ সময় মিছিলকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। ভাঙচুর করা হয় পুলিশের একটি গাড়িও। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বন্দর থানায় মামলা হয়েছে।

ডেকে নিয়েও করা হচ্ছে হামলা

গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার উত্তর মাসাবো এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আবুল কালাম নামে এক পুলিশ সদস্যকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি পায়ের রগ কেটে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত আবুল কালাম আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উত্তর মাসাবো এলাকায় মাদকবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন। এলাকায় মাদক কারবারিদের তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করায় তিনি বেশ কিছুদিন ধরে হুমকি ও চাপের মুখে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েও আক্রান্ত পুলিশ

গত ৩ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীদের ছদ্মবেশে থাকা একদল বিশৃঙ্খলাকারী দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের চারদিক থেকে ঘিরে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় লাঠিসোঁটা ও ভারী ইটপাটকেল দিয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন।

ওই দিন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের আড়ালে থাকা কিছু ব্যক্তি পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।

এদিকে গত সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এক অটোরিকশা গ্যারেজের মালিককে মারধরের প্রতিবাদ করায় হামলাকারীরা আলতাফ হোসেন ও তার ছেলের ওপর চড়াও হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আলতাফকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয় এবং পরে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ৯ অক্টোবর ভোররাতে খুলনা মহানগরীর কলেজিয়েট স্কুলের সামনে ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হন পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ আলম। দায়িত্ব শেষে সাদা পোশাকে রিকশাযোগে ফেরার সময় তিন ছিনতাইকারী তার মানিব্যাগ ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে চাপাতি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এতে তার দুই হাত গুরুতর জখম হয়। এ ঘটনার পর রাতে একা চলাচল না করার বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের সতর্কতামূলক নির্দেশনা দেয় খুলনা জেলা পুলিশ। পরে নির্দেশনাটি প্রকাশ্যে আসা নিয়ে আলোচনা তৈরি হলে পুলিশ সদর দফতর এর ব্যাখ্যা দেয়।

সংশ্লিষ্টদের বিশ্লেষণে পুলিশের ওপর হামলার পেছনে একাধিক কারণ উঠে এসেছে। অপরাধীকে গ্রেফতারের সময় তার সহযোগীদের প্রতিরোধ, সংঘবদ্ধভাবে জনতাকে জড়ো করা, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাধা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। তবে সব হামলার উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা এক নয়।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা এবং পরবর্তী সহিংসতায় বাহিনীটির ওপর যে প্রভাব পড়েছিল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট বলে মনে করেন অনেকে। তৎকালীন সরকারবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের কারণে বাহিনীটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। সরকার পরিবর্তনের পর পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো, মনোবল ও জনআস্থায় সংকট তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসার চেষ্টা চলার মধ্যেই নতুন করে বিভিন্ন স্থানে হামলার মুখে পড়ছেন পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) সায়েদুর রহমান বলেন, ‘উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতেই হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে পুলিশ অনেক সময় হামলার শিকার হয়। সারা দেশেই এমন ঘটনা ঘটে। বর্তমান সময়েও একটি মহল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণকে বিভ্রান্ত ও জনজীবনে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে। কিন্তু এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করা পুলিশের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে যারা হামলা বা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলা করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিচারের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে কঠোর হতেই হয়। পুলিশ অতিরিক্ত নমনীয় হলে অনেক ক্ষেত্রে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আমরা কঠোর অবস্থানেই আছি। তবে কঠোরতা আর নির্মমতা এক বিষয় নয়। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনও পুলিশ সদস্যের নির্মম আচরণ কাম্য নয়। আমরা চাই, পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করবে, কিন্তু কোনওভাবেই নির্মম হবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। এটি শুধু পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের সক্ষমতা ও কর্তৃত্বের সঙ্গেও সম্পর্কিত।

অপরাধীরা যখন সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায় কিংবা আসামি ছিনিয়ে নেয়, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়। এর পেছনে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, রাজনৈতিক প্রভাব, পুলিশের প্রতি জনআস্থার সংকট এবং অপরাধীদের বেপরোয়া মনোভাব কাজ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে দ্রুত তদন্ত ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশের পেশাদারত্ব, জবাবদিহি ও জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক পুনর্গঠন জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।’

  • সর্বশেষ