মনিরুল ইসলাম : গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, কখনো কখনো প্রতিবাদ, প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক বার্তা প্রকাশেরও শক্তিশালী হাতিয়ার। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রতিবাদী গান সেই ভূমিকা রেখেছে। এবার সংগীতসংশ্লিষ্ট একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে আলোচনায় এসেছে গীতিকার ও সুরকার ইথুন বাবুর গান ‘ছদ্মবেশে ফিরতে দেব না’। গানটি মৌসুমী ও পরানের কণ্ঠে উপভোগ করার পাশাপাশি এর কথার সঙ্গে একাত্ম হয়ে সম্মিলিতভাবে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইথুন বাবু বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের পরিচিত নাম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও শিল্পী হিসেবে কাজ করছেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে তাঁর লেখা প্রতিবাদী গান শ্রোতাদের মধ্যে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে।
প্রতিবাদী গানে আলোচনায় ইথুন বাবু
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ইথুন বাবুর লেখা ও সুর করা ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি, করছ ছলা কলা’ গানটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছিলেন শিল্পী মৌসুমী চৌধুরী। গানটির কথায় ক্ষমতার অপব্যবহার, অন্যায়-অবিচার ও মানুষের কণ্ঠরোধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বিষয় উঠে আসে।
মৌসুমী ও পরানের কণ্ঠে রাজনৈতিক সংগীত
ইথুন বাবুর সংগীতচর্চায় মৌসুমী ও পরানের অংশগ্রহণেরও নজির রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর বিএনপির ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয় ‘চল চল ঢাকা চল’ শিরোনামের একটি গান। গানটির কথা ও সুর করেছিলেন ইথুন বাবু এবং কণ্ঠ দিয়েছিলেন পরান ও মৌসুমী।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১ জুলাই প্রকাশিত ‘মুক্তি চাই’ গানটিতেও পরান, মৌসুমী, রোজেন ও ইথুন বাবু কণ্ঠ দেন।
২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর ইথুন বাবু ও মৌসুমীর নতুন গান ‘ওরা জন্মভূমি চুষে খেতে চায়’ প্রকাশের খবরও গণমাধ্যমে আসে। গানটি প্রকাশিত হয়েছিল বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের ব্যানারে।
‘ছদ্মবেশে ফিরতে দেব না’ কথাটির তাৎপর্য
‘ছদ্মবেশে ফিরতে দেব না’—শিরোনাম বা পঙ্ক্তিটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি প্রতিবাদী বক্তব্যের ইঙ্গিত দেয়। ছদ্মবেশ বলতে এখানে ভিন্ন পরিচয়, নতুন রূপ কিংবা আড়ালে থেকে পুরোনো অবস্থানে ফিরে আসার প্রচেষ্টাকে বোঝানো হয়ে থাকতে পারে।
গান থেকে গণমানুষের আওয়াজ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গান বহুবার মানুষের অনুভূতি, ক্ষোভ ও প্রত্যাশা প্রকাশের মাধ্যম হয়েছে। আন্দোলনের সময় কোনো কোনো গান মিছিলের স্লোগানে পরিণত হয়েছে, আবার কোনো গান মানুষের মধ্যে ঐক্য ও প্রতিবাদের চেতনা তৈরি করেছে।
ইথুন বাবুর গান নিয়েও সেই পরিচিত প্রতিবাদী সংগীতধারার প্রসঙ্গ সামনে আসছে। মৌসুমী ও পরানের কণ্ঠে গানটি উপভোগ করার পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে ‘ছদ্মবেশে ফিরতে দেব না’ আওয়াজ তোলার আহ্বান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সংগীতের শক্তি এখানেই—সুরের সঙ্গে যখন মানুষের অনুভূতি ও বক্তব্য যুক্ত হয়, তখন একটি গান নিছক বিনোদনের গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠতে পারে।