শিরোনাম
◈ ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শুরু, ৭ শ্রেণির ব্যক্তি যেতে পারবেন না ◈ ১২ দলীয় জোটে ভাঙনের শঙ্কা: বহিষ্কারের পথে দুই শরিক, জরুরি বৈঠক শিগগির ◈ সুন্দর সমাজ গড়তে নতুন প্রজন্মের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ আন্দোলন শেষে কোন পথে ককরোচ জনতা পার্টি? ◈ বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত ◈ আশিয়ান সিটি নিয়ে পুরোনো অভিযোগে নতুন গতি, নজরুল ভূঁইয়াকে ঘিরে তদন্ত ও আইনি তৎপরতা জোরদার ◈ ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতজুড়ে স্লোগান—‘এবার মোদির পালা’ ◈ বিশ্বকা‌পে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের সেই রেফারি হঠাৎ অবসরে গেলেন ◈ ৩ শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, মিলল কার্যক্রম চালানোর অনুমতি ◈ ৩০ জুলাই দিনব্যাপী সিএনজি স্টেশন বন্ধের কর্মসূচি প্রত্যাহার

প্রকাশিত : ২৭ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৪৮ বিকাল
আপডেট : ২৭ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৪৮ বিকাল

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

আশিয়ান সিটি নিয়ে পুরোনো অভিযোগে নতুন গতি, নজরুল ভূঁইয়াকে ঘিরে তদন্ত ও আইনি তৎপরতা জোরদার

মনিরুল ইসলাম: রাজধানীর আলোচিত আবাসন প্রকল্প আশিয়ান সিটি এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নজরুল ইসলাম ভূঁইয়াকে ঘিরে দীর্ঘদিনের জমি দখল, আর্থিক অনিয়ম ও ঋণসংক্রান্ত অভিযোগগুলো আবারও আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এক মডেল-অভিনেত্রীর দায়ের করা নির্যাতনের মামলার পর বিষয়টি নতুন করে জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোই এখনও তদন্তাধীন বা বিচারাধীন এবং অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা আগের মামলাগুলোর তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। সরকারি খাস জমি দখল ও প্লট বিক্রির অভিযোগে বিভিন্ন নথি পুনঃযাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্পদের উৎস এবং ব্যাংক লেনদেন সম্পর্কেও নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, আশিয়ান গ্রুপের বিপুল ঋণ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কিছু ঋণ পুনঃতফসিলের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পুরো বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি। পাশাপাশি আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।

এদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) আশিয়ান সিটি প্রকল্পের অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়ে পূর্বের অবস্থান বহাল রেখেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্পটির বৈধতা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং নতুন কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যদিও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উপায়ে প্লট বিক্রির কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

দক্ষিণখান ও আশপাশের এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, জমি দখল, উচ্ছেদের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদাবাজির মতো ঘটনাগুলো নিয়ে এখনও বিরোধ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বেশ কয়েকটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং আদালতে বিচারাধীন।

নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় পর্যায়ে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম আলোচনায় এলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিএনপি নেতা আমিনুল হক জানিয়েছেন, নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, ভূমি ও আর্থিক অনিয়মসংক্রান্ত বড় মামলাগুলোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বরাবরের মতোই সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, আশিয়ান সিটির প্রকল্প বৈধ, আদালতের রায়ও তাদের পক্ষে রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পরও প্রতিষ্ঠানটির প্লট বিক্রির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০০৪ সালের ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা এবং ২০১০ সালের রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া জমি বিক্রি বা বিজ্ঞাপন দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।

দুদকের মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পে বিদ্যমান জমির তুলনায় অনেক বেশি প্লট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। নথি অনুযায়ী, প্রায় ৩,১৮০ কাঠা জমির বিপরীতে প্রায় ৩২ হাজার কাঠা প্লট বিক্রির অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া প্রকল্প থেকে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ সংগ্রহের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার প্রায় ৭.৮৯ একর সরকারি খাস জমি দখল করে প্লট বিক্রির অভিযোগে ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল দুর্নীতি দমন কমিশন নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

সাম্প্রতিক নির্যাতনের মামলাসহ চলমান তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার কারণে আশিয়ান সিটি-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণ হবে তদন্ত ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়