শিরোনাম
◈ কুষ্টিয়া সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করল বিজিবি ◈ দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কত ◈ ঢাকার রেলপথ হবে লেভেল ক্রসিংমুক্ত, নির্মাণ হবে একাধিক আন্ডারপাস ◈ থাইল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরলেন স্পীকার ◈ ভাইরাল ভিডিও থেকে অনুদান বিতর্ক, একের পর এক ঘটনায় চাপে জামায়াত, চাপে দলের ভাবমূর্তি ◈ প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ প্রসঙ্গ নিয়ে যা বললেন মির্জা ফখরুল ◈ যুক্তরাষ্ট্রে ১০% শুল্ক ছাড়ের মেয়াদ শেষ, বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যের ওপর ট্রাম্পের নতুন শুল্কারোপ ◈ যে কারণে কোনো অবস্থাতেই নামাজ অবহেলা করা উচিত নয় ◈ সংবিধান সংস্কার নাকি সংশোধন, বিএনপি ও জামায়াত-এনসিপি জোটের বিরোধ কোন দিকে যাবে? ◈ চট্টগ্রা‌মের বাঁশখালীর পাহাড় ছে‌ড়ে লোকাল‌য়ে নে‌মে এ‌সে‌ছে দলছুট হা‌তি

প্রকাশিত : ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫০ দুপুর
আপডেট : ২৪ জুলাই, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রতি ১৫ মিনিটে রেলগেট নয়, সমাধান আন্ডারপাস

ঢাকার রেলপথ হবে লেভেল ক্রসিংমুক্ত, নির্মাণ হবে একাধিক আন্ডারপাস

রাজধানীর একমাত্র টিটিপাড়া রেলওয়ে আন্ডারপাসটি এরই মধ্যে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর রেল করিডোরের ব্যস্ত লেভেল ক্রসিংগুলোয় পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হবে আন্ডারপাস। আর যেসব ঘনবসতিপূর্ণ বা জটিল স্থানে আন্ডারপাস নির্মাণ সম্ভব নয়, সেখানে বিকল্প বা সমান্তরাল (প্যারালাল) সড়ক নির্মাণ করে ছোট রেলগেটগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো পুরো রেল পথটিকে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ লেভেল ক্রসিংমুক্ত করা। সূত্র: বণিক বার্তা প্রতিবেদন

রাজধানীর একমাত্র টিটিপাড়া রেলওয়ে আন্ডারপাসটি এরই মধ্যে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। এটি চালুর পর থেকে ট্রেন আসার সময় কমলাপুর এলাকায় আর দীর্ঘ গাড়ির লাইন তৈরি হয় না। এর ফলে মতিঝিলের সঙ্গে মুগদা, মাণ্ডা, মানিকনগর ও সবুজবাগ এলাকার যাতায়াত অত্যন্ত সহজ ও গতিশীল হয়েছে। বেঁচে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মূল্যবান সময় ও শ্রম। টিটিপাড়ার এ সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই ঢাকার অন্য স্থানগুলোয়ও নতুন আন্ডারপাস তৈরির পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে জানা যায়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে কমলাপুর হয়ে টঙ্গী ও জয়দেবপুর পর্যন্ত রুটে বর্তমানে প্রায় ৫০টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে শুধু তেজগাঁও থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মাত্র সাড়ে ছয় কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে নয়টি ব্যস্ত রেলগেট। গড়ে প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ট্রেন আসার কারণে এ গেটগুলো বন্ধ রাখতে হয়, যা আশপাশের প্রধান সড়কে তৈরি করে কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট। আবার এ যানজট ও বিশৃঙ্খলার প্রভাবে সময়মতো ট্রেন চালানোও রেলওয়ের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) কার্যালয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট কমিটির (টিএমসি) ৩৮তম সভায় এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে ঢাকা ও আশপাশ এলাকার তীব্র যানজট নিরসন এবং ট্রেন চলাচলের গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে নেয়া রূপরেখাটি তুলে ধরা হয়। ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বাংলাদেশ রেলওয়ে, দুই সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, বর্তমানে ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর রুটে নতুন ট্র্যাক বসিয়ে চার লাইনে উন্নীত করার কাজ চলছে। ভবিষ্যতে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলাগুলোর মধ্যে অনেক বেশিসংখ্যক কমিউটার বা লোকাল ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বর্তমান লেভেল ক্রসিংগুলো রেখে অতিরিক্ত ট্রেন চালানো একেবারেই অসম্ভব।

বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (অপারেশন) শহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক সমীক্ষায় ঢাকা থেকে জয়দেবপুর অংশের অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে তুলনামূলক সহজে আন্ডারপাস নির্মাণের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। প্রথম ধাপে এসব পয়েন্টের নকশা তৈরি ও বাজেট বরাদ্দের কাজ শুরু হবে।

নগরীর ঘনবসতি, দুই পাশের বহুতল ভবন, বাণিজ্যিক অবকাঠামো ও জমি অধিগ্রহণের মতো নানা জটিলতাও রয়েছে। এসব বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার কৌশল ব্যাখ্যা করে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‌যেসব স্থানে সরাসরি আন্ডারপাস করা কঠিন, সেখানে সমান্তরাল রাস্তা বানিয়ে গাড়িগুলোকে পার্শ্ববর্তী নিরাপদ আন্ডারপাসের দিকে ঘুরিয়ে দেয়া হবে এবং আগের ঝুঁকিপূর্ণ রেলগেটটি স্থায়ীভাবে সিল করে দেয়া হবে।’

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা একমত হন যে ট্রাফিক সংকট সমাধান ও কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা রেল পরিকাঠামোর পূর্ণ সুফল পেতে পুরো করিডোরকে ক্রসিংমুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। এতে যেমন শহরের প্রাণকেন্দ্র মুক্ত হবে, তেমনি ট্রেনের সার্বিক সক্ষমতা ও ফ্রিকোয়েন্সি বহু গুণ বেড়ে যাবে।

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, ‘যেসব স্থানে দ্রুত ও সহজে আন্ডারপাস করা সম্ভব, সেগুলোর কারিগরি নকশা দ্রুত চূড়ান্ত করা উচিত। স্বরাষ্ট্র ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে বাস্তবায়নযোগ্য স্থানগুলোর তালিকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়