শিরোনাম
◈ গার্মেন্টস শ্রমিকদের বর্তমান বেতন কত, ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবির যৌক্তিকতা কতটা, কতটা সক্ষম মালিকপক্ষ? ◈ শ্রমিক অসন্তোষে জরুরি তৎপরতা, মন্ত্রীদের বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী; আমিরাত সফর বাতিল শ্রমমন্ত্রীর ◈ সুইজারল্যান্ডে রাইন নদীতে মিলল খণ্ডিত মরদেহ, বাংলাদেশি রুমমেট গ্রেপ্তার ◈ শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ১১ নেতাকর্মী আটক ◈ গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের মাঝেই গাজীপুরে কারখানার ঝুট গুদামে আগুন, যানজটে বিপাকে ফায়ার সার্ভিস ◈ তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় বান্ধবী দিশা গ্রেফতার, দীপের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ ◈ আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে লোডশেডিং কমানোর আশা বিদ্যুৎমন্ত্রীর ◈ মিরপুরে মজুরির দাবিতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেলের ৫ স্টেশন ◈ শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানের যে ৪ কঠিন শর্তে সরকারের সম্মতি ◈ পল্টনে সাবেক সিআইডি প্রধানের গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক গুরুতর আহত, চালকের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রকাশিত : ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ০৫:৩৯ বিকাল
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ০৫:৩৯ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে মেডিকেল হাসপাতালে বাড়ছে চুরি-ছিনতাই

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর: ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যে হাসপাতালটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নামেই অধিক পরিচিত। দুটি ভিন্ন ভিন্ন ভবনে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পূর্বে এ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি ২৫০ শয্যা ছিল, পরে এ অঞ্চলের মানুষের দাবীর মুখে ২০১৩ সালে ৭তলা একটি ভবনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সহ আরও ২৫০ শয্যা বাড়িয়ে মোট ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল উদ্ভোধন করা হয়। 

উন্নত চিকিৎসার আশায় বৃহত্তর ফরিদপুরের ৫টি জেলাসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ টি জেলার রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু এ হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিনের দালাল চক্রের দৌরাত্মের পাশাপাশি ইদানীং ফরিদপুরের এ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিতরে দিন দিন বেড়েই চলছে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। রোগী কিংবা রোগীর স্বজন কেউই রেহাই পাচ্ছে না এর থেকে। হাসপাতালের বহিরাগত রোগীদের টিকিট কাউন্টারসহ হাসপাতালটির বিভিন্ন ওয়ার্ড এবং হাসপাতালটির ভিতর থেকে গত দুই মাসে অন্তত শতাধিক চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও হাসপাতাল প্রশাসন রয়েছে নিরব ভূমিকায়।

একাধিক রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, বিভিন্ন অজুহাতে সারা রাত বহিরাগতরা টহল দেয় বিভিন্ন ওয়ার্ডে। কেউ এম্বুলেন্স ড্রাইভার আবার কেউ ওষুধের দোকানের প্রতিনিধি পরিচয় দিলেও সার্বক্ষণিক দলবেঁধে ওয়ার্ডের ভিতর মহড়া দেয়। এতে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হুঁমকিতে পড়েছে। এরাই সুযোগ বুঝে বহিরাগতদের সহযোগিতায় চুরি কিংবা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছেন। 

গত কয়েকদিন আগে রাতে মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে কামরুল নামে এক রোগীর স্বজনের কাছ থেকে মোবাইল চুরি হয়। তার কয়েকদিন আগে হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা শিউলী বেগম নামে আরও একজনের মোবাইল চুরি হয়।

ভুক্তভোগী কামরুলের স্বজনরা জানান, সারারাতই প্রায় সজাগ ছিলেন। শেষ রাতে আধা ঘন্টা ঘুমাতে গেলেই উঠে আর মোবাইল পাননি তার। এরকম আরও কয়েকজনের মোবাইল ও টাকা-পয়সা চুরি হয়েছে বলে দাবী তাদের। 

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নারীদের টার্গেট করে হাসপাতালে চোরদের উপদ্রব বাড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন সময়ে সেবা নিতে এসে শুধু এই হাসপাতাল থেকেই অর্ধশতাধিক নারীর স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল খোয়া গেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, অনেক সময় হাতেনাতে চোর ধরা পড়ার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়সারা মনোভাবের কারণে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এ জন্য চুরির ঘটনা দিনে দিনে বাড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ছিনতাইযের শিকার হয়েছেন অসুস্থ স্বামীকে সেবা করতে আসা এক নারী। ছিনতাইকারীরা লক্ষাধিক টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় তখন। হাসপাতালের এ ঘটনায় হাসপাতাল জুড়ে আলোচিত হয়।

একাধিক রোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে চোর ও ছিনতাইকারীদের হাতেনাতে ধরে থানা পুলিশে দেওয়া হলেও। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট থানাতে কোনো অভিযোগ কিংবা মামলা দায়ের না করায় সহজেই আবার বেড়িয়ে তারা এসব কাজে পুনরায় জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া হাসপাতাল প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানো হলেও তারা শুনেও না শুনার ভান করে প্রতিনিয়ত এড়িয়ে যাচ্ছেন।

হাসপাতালটির পরিচালক ডাঃ এনামুল হক বলেন, "হাসপাতালে কিছু চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনছি। তবে, ভুক্তভোগী কোনো রোগী কিংবা রোগীর স্বজনরা আমাদের লিখিত কোনো অভিযোগ না দেওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়াটা একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে, আমাদের পক্ষ থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনদের এ ব্যাপারে বারবার সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। 

আপনাদের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসন কিংবা জেলা প্রশাসনকে এব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে লিখিত কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কি-না?  এমন প্রশ্নের জবাবে এ পরিচালক বলেন, " আমি এ হাসপাতালটিতে নতুন যোগদান করেছি। তাই, এখন পর্যন্ত প্রশাসনকে জানানো হয়নি।  তবে, এব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এ পরিচালক। 

প্রতিনিধি/এইচএ

  • সর্বশেষ