শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৭ অক্টোবর, ২০২২, ০৬:৫০ বিকাল
আপডেট : ০৭ অক্টোবর, ২০২২, ০৬:৫০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কুমিল্লায় চেয়ারম্যানের গাড়িবহরে হামলায় মামলা, বাদি ছাত্রদল নেতা

রুবেল মজুমদার, কুমিল্লা : কুমিল্লার দেবীদ্বারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদের গাড়িবহরে হামলা ও গুলি বর্ষণের ঘটনার অভিযোগে থানায় দায়েরকৃত মামলার বাদি হয়েছেন দেবিদ্বারের বড়কামতা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের  সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন। দেবীদ্বার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেনসহ এজাহারনামীয় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ৪০-৫০ জনকে আসামী করে ৫ অক্টোবর রাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর মামলার স্বাক্ষী হয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদসহ আরো অনেকে । 

এ মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন, আনিসুর রহমান(৪০), আমিনুল ইসলাম সুমন(৩৩), জহিরুল ইসলাম(৩৮), ওমর ফারুক(৩৬), জামিউর রহমান(২৬), আহাম্মেদ শুভ(২৪), মোঃ নিশান মিয়া(২৪), নুরুন্নবী(২৪)সহ আরো অজ্ঞাত ৪০-৫০ জন।

তবে মামলার বাদি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হওয়ায় তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে।

এছাড়া স্থানীয় আ’লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মামলার বাদি এবং সাজানো ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তীব্র সমালোচনা করছেন।

আ’লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মী জানান, ৩ অক্টোবর রাতে আ’লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই সময় দুই গ্রুপের নেতাকর্মী আহত হয়েছে। কিন্তু মামলা দায়ের করেছে উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপ।

আবার সেই মামলার বাদি গিয়াস উদ্দিন নামের এক সাবেক ছাত্রদল নেতা । তাঁর পুরো পরিবার বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত।

আ’লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মামলার বাদি কেন ছাত্রদল নেতা হবে ? তাহলে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে আ’লীগের এক গ্রুপ বিএনপি ও এর অংগসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে মূল ধারার আ’লীগকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে নেমেছে। মূলত এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুলকে ঠেকানোর জন্যই বিএনপি ও আ’লীগের একটি অংশ একত্র হয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়টিকে দু:খজনক বলে অভিহিত করছেন নেতাকর্মীরা। 

দেবিদ্বার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দেব রায় জানান, মামলার বাদি গিয়াস উদ্দিন বরকামতা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের  সাবেক সভাপতি ছিলেন।

তাঁর ভাই সাকিল ছাত্রদল কর্মী। তাঁর পিতা রফিকুল ইসলাম বিএনপির সক্রিয় কর্মী। আর এই মামলাটিও সাজানো। ওই দিন হামলা এমপি রাজী সাহেবের গাড়ি বহরেও হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের আ’লীগের দলে প্রবেশ করিয়ে এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও অপপ্রচারের চেষ্টা করছে, যা সত্যিই নিন্দনীয়। 

কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান সৈকত জানান, মামলার বাদি গিয়াস উদ্দিন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল।

ফেসবুকে পোস্ট করা বিএনপির বিভিন্ন মিছিলে তার ছবি দেখা গেছে। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যখন দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের পিতা নুরুল ইসলাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন তখন ওই ছেলেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে দেখা গেছে।  

কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন সরকার জানান, আ’লীগের পক্ষের মামলার বাদি একজন ছাত্রদল নেতা ভাবতেই ঘৃণা লাগছে। এই ছেলে ২০১৩/১৪ সালের আন্দোলনের সময় বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন অরাজকতায় সক্রিয় ছিলেন।

সাজানো মামলায় আসামি করা হয়েছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেনসহ আরো অনেককে। মূলত এমপি রাজী মো: ফখরুলের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাঁর নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সাজানো মামলায় আসামি করা হচ্ছে।

ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত হলে দেখা যাবে কোন গুলিবর্ষণ কিংবা গাড়ি ভাংচুরের কোন ঘটনাই হয়নি। আশা করি তারা নোংরা রাজনীতির পথ ছেড়ে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসবে। 

স্থানীয় সূত্র আরো জানায়, সম্প্রতি দেবিদ্বার রাজনীতিতে আ’লীগে স্পষ্টভাবে দুই ভাগ পরিলক্ষিত। এমপি রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

অপর গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রৌশন আলী মাষ্টার ও এ বি এম গোলাম মোস্তফা। যদিও দুই গ্রুপকেই সাংগাঠনিক কর্মকান্ডে এক সারিতেই দেখা যায়। তবে তাদের মধ্যে গ্রুপিং এখন তুঙ্গে। 

উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, ৩ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে রাত সাড়ে ১০টায় উপজেলার ভিংলাবাড়ি সাহাপাড়া পুজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে আমার গাড়ি বহরে হামলা করে এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যবহুত সরকারি গাড়ী ভাংচুর করা হয়।

পরে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক  মো. সাদ্দাম হোসেন, আনিছুর রহমান ও আমিনুল ইসলাম সুমনের নেতৃত্বে এলোপাথারী গুলিবর্ষণ করতে থাকে। প্রতিপক্ষের এ হামলায় আমার ৫ সমর্থক আহত হন।

দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ কমলকৃষ্ণ ধর মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার তদন্ত ও গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রতিনিধি / এ এইচ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়