হাবিবুর রহমান, পূর্বধলা (নেত্রকোনা): নেত্রকোনার পূর্বধলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে এক হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। উপজেলার সাধারণ শিক্ষধারার সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটিতেই কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে, কারিগরি (বিএম) শাখায়ও বড় ধরনের ফল বিপর্যয় ঘটেছে। এ বিভাগে একটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৬ দশমিক ৮১ শতাংশে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া যায়।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, সাধারণ শিক্ষধারায় শূন্য পাস করা তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো—খলিশাপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, এম্বিশন মডেল কলেজ এবং জোবায়দা জহুর উদ্দিন সরকার মহিলা কলেজ। এই তিন প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই এবার উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
সাধারণ শিক্ষধারার সাতটি প্রতিষ্ঠানে মোট ২ হাজার ৪৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র ৭৪২ জন। অন্যদিকে অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৩০৫ জন। এই বিভাগে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ২৪ শতাংশে।
এদিকে কারিগরি (বিএম) শাখার ফলাফলও অত্যন্ত সন্তোষজনক নয়। এ বিভাগে পূর্বধলা সরকারি কলেজ থেকে ১৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭০ জন (পাসের হার ৫০ দশমিক ৩৬ শতাংশ)। প্রতিভা কলেজ থেকে ৪৯ জনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১০ জন (পাসের হার ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ)। আর ইকরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র তিনজন (পাসের হার ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ)। কারিগরি বিভাগের তিনটি প্রতিষ্ঠানে মোট ২৩২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৮৩ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ১৪৯ জন। এ বিভাগে সামগ্রিক পাসের হার ৩৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
তবে এর বিপরীতে মাদ্রাসা বিভাগে তুলনামূলক ভালো ফলাফল দেখা গেছে। এই বিভাগের তিনটি মাদ্রাসায় মোট ৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩১ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ২৬ জন। মাদ্রাসা বিভাগে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ ও কারিগরি—উভয় বিভাগেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। বিশেষ করে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস না করা এবং কারিগরি বিভাগের একটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৬ শতাংশের ঘরে নেমে আসার বিষয়টি স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জোরালো দাবি উঠেছে।