শিরোনাম
◈ ‘ক্রসফায়ার’ শব্দ ব্যবহারে আইজিপিকে সতর্ক করা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতা শুরু, উদ্বোধনী দিনেই ছয়টি নতুন রেকর্ড ◈ ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী ◈ জাতিসংঘে কিউবা-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, অধিবেশন স্থগিত করলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ মেয়াদ শেষের পথে গঙ্গা চুক্তি, সাড়া নেই ভারতের ◈ বাংলাদেশ-নেপালের পর ইউরোপজুড়ে জেন-জি আন্দোলন, ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন হারানোর ক্ষোভে রাজপথে তরুণেরা ◈ এবার এক নারীর সঙ্গে নাটোর-৪ আসনের এমপি আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল! ◈ অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে সেশেলসকে হারালো বাংলাদেশ ◈ এশিয়া কাপ আর্চারিতে কাজাখস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্বর্ণজয় ◈ সেঞ্চুরির দুয়ারে সাদমান, দাপুটে দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৩০ রাত
আপডেট : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৩০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাউফলে মায়ের কিডনি প্রস্তুত, শুধু টাকার অভাবে থমকে আছে ২১ বছরের রাকিবের জীবন

রুশমি আক্তার (বাউফল) পটুয়াখালী : একটি সন্তানের মুখে আবারও হাসি দেখতে চান মা। যে সন্তানকে কোলে-পিঠে বড় করেছেন, সেই সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের শরীরের একটি কিডনি দিতেও প্রস্তুত তিনি। প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছেন। অথচ অর্থের অভাব আর চিকিৎসার অনিশ্চয়তায় প্রতিটি দিন কাটছে গভীর উৎকণ্ঠায়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা ছেলেটির মুখের দিকে তাকিয়ে মা-বাবার মনে একটাই প্রশ্ন—সন্তান কি আবার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে?

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের নুরাইনপাশা গ্রামের ২১ বছর বয়সী রাকিবুল ইসলাম এখন বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই করছেন। তাঁর দুটি কিডনিই বিকল। রাজধানীর সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই তরুণের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন কিডনি প্রতিস্থাপন। কিন্তু চিকিৎসার বিপুল ব্যয় মেটানোর সামর্থ্য নেই দরিদ্র পরিবারটির।

দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে রাকিব একজন। কৃষিকাজ করে সংসার চালান তাঁর বাবা মোস্তাফা হাওলাদার। সীমিত আয়ের এই মানুষটির কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজন প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। এর বাইরে নিয়মিত চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিসের ব্যয়ও বহন করতে হচ্ছে তাঁদের।

**সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস**

Advertisement

রাকিবের চিকিৎসা যেন থেমে না যায়, সে জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছেন তাঁর মা-বাবা। বর্তমানে সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে তাঁকে। একদিকে চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে ছেলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে দিশেহারা পরিবারটি।

রাকিবের মা হাসিনা বেগম নিজের একটি কিডনি ছেলেকে দান করতে প্রস্তুত হয়েছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেছেন তিনি। সন্তানের জীবন বাঁচানোর আশায় একজন মায়ের এমন প্রস্তুতি পরিবারের গভীর অসহায়ত্বের পাশাপাশি তাঁর সন্তানের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসারও প্রতিচ্ছবি।

কিন্তু শুধু কিডনি দানের প্রস্তুতি থাকলেই তো শেষ হয় না চিকিৎসার পথ। প্রয়োজন অর্থ, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রতিস্থাপনের পরবর্তী চিকিৎসার ব্যবস্থা। এসবের ব্যয় কীভাবে মেটাবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না রাকিবের স্বজনেরা।

**অনিশ্চয়তায় কাটছে প্রতিটি দিন**

রাকিবের মামা সবুজ হাওলাদার জানান, পরিবারের সামর্থ্য সীমিত হলেও তাঁরা ছেলেটির চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। রাকিবের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া এবং প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা, দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠছে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ ও হাসপাতালের নিয়ম মেনে রাকিবের কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করছেন তাঁরা।

**বাঁচতে চায় রাকিব, প্রয়োজন সবার সহযোগিতা**

অসুস্থতার মধ্যেও বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন রাকিব। আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চান। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান, ফিরে যেতে চান নিজের চেনা পরিবেশে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য।

রাকিবের আকুতি, তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিয়ে সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে হয়তো নতুন করে বাঁচার সুযোগ তৈরি হবে। তাঁর পরিবারও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও সহৃদয় মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।

একজন তরুণের জীবন বাঁচানোর এই লড়াইয়ে সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতা হতে পারে বড় অবলম্বন। কারও সামান্য সহায়তা, কারও আন্তরিক উদ্যোগ কিংবা একটি মানবিক প্রচেষ্টা রাকিবের চিকিৎসার পথ কিছুটা সহজ করে দিতে পারে।

রাকিবের পরিবার জানিয়েছে, চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে আর্থিক সহায়তা পাঠানো যাবে নিচের বিকাশ নম্বরে।

**বিকাশ নম্বর: ০১৭৪৬-৬৪৬৫৮৯**
*অ্যাকাউন্ট: পারসোনাল (রাকিবের নিজের)।*

সহায়তা পাঠানোর আগে নম্বরটির মালিকানা, পরিবারের পরিচয় এবং রাকিবের চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

একটি পরিবারের কাছে রাকিব শুধু অসুস্থ একজন তরুণ নন; তিনি তাঁদের স্বপ্ন, ভালোবাসা ও বেঁচে থাকার প্রেরণা। ছেলেকে বাঁচাতে মা নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত, বাবা সামর্থ্যের শেষটুকু দিয়ে চেষ্টা করছেন। এখন তাঁদের প্রয়োজন সমাজের মানবিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

রাকিবের জীবন বাঁচানোর লড়াইয়ে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। হয়তো আপনার একটু সহায়তাই একটি পরিবারকে ফিরিয়ে দিতে পারে বেঁচে থাকার নতুন আশা।

  • সর্বশেষ