ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী : রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ২০২৬ সালের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের বিতর্কিত অফিস আদেশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সিকদার মাহমুদ রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিট পিটিশন নম্বর ১৪৭৩৩/২০২৬-এর নথি অনুযায়ী, রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ২০২৬ সালের নির্বাচন পরিচালনার জন্য গত ২৭ আগস্ট রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আদেশটির স্মারক নম্বর ০৫.৪৩.৮১০০.০১৩.০৩.০০১.২৪.৩২৬।
পরবর্তী সময়ে গত ৮ অক্টোবর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও নির্বাচন কমিশনারের স্বাক্ষরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের আদেশ ও নির্বাচনী তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ইউনিয়নের সদস্য মো. মোমিনুল ইসলাম। রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. গোলাম আক্তার জাকির।
রিটের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে আদালত ২৭ আগস্ট জারি করা অফিস আদেশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেন। বিবাদীদের ওপর রেজিস্টার্ড ডাকযোগে ও প্রচলিত আইনানুগ পদ্ধতিতে নোটিশ জারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে রিটসংক্রান্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
রিটে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছেন, চ্যালেঞ্জ করা সিদ্ধান্ত আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না কেন।
আদালতের এ আদেশের ফলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত অফিস আদেশের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজি শহিদুল ইসলামকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও নির্বাচন কমিশনার মো. মহিনুল হাসান বলেন, ‘হাইকোর্টের একটি আদেশ হয়েছে বলে মানুষের মুখে শুনেছি। তবে এ-সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ বা চিঠি এখনো হাতে পাইনি। আদেশের কপি হাতে পেলে তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’