হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফেরার পথে মো. মেহেদী হাসান নামের এক কাপড় ব্যবসায়ীকে ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে তুলে নিয়ে সাত লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তরা তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ও চোখ-মুখ বেঁধে বেধড়ক মারধর করে টাকা লুটে নেয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের চারাবটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান উপজেলার মুনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি কেনার উদ্দেশ্যে ভাঙ্গা বাজারের পূবালী ব্যাংক শাখা থেকে নিজের হিসাবের সাত লাখ টাকা তোলেন ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান। টাকা নিয়ে একটি অটোভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে চারাবটতলা এলাকায় পৌঁছালে একটি সাদা প্রাইভেটকার অটোভ্যানটির গতিরোধ করে।
গাড়ি থেকে চারজন নেমে নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে মেহেদীকে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ বলে দাবি করেন। তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মারধর শুরু করা হয়। একপর্যায়ে মুখে কাপড় পেঁচিয়ে ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে তুলে নেওয়া হয় তাকে। গাড়ির ভেতরেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
ঘটনার প্রায় সাড় তিন ঘণ্টা পর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের শিবচর উপজেলার পুলিয়া গাবতলী এলাকার একটি ঝোপ থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে প্রথমে ভাঙ্গা থানা ও পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান অভিযোগ করে বলেন, "ডিবি পরিচয়ে আমাকে গাড়িতে তুলে পিটিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলা হয়। আমার কাছে থাকা জমি কেনার সাত লাখ টাকা নিয়ে তারা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।"
এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, "রোববার ভাঙ্গায় ডিবি পুলিশের কোনো দল অভিযানে যায়নি। ডিবি পরিচয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি আমরা শুনেছি।"
ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খালেদ হোসেন জানান, হ্যান্ডকাফ পরিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের খবর পেয়ে পুলিশ তদন্তে নেমেছে। ব্যাংক থেকে বের হওয়ার পর থেকে কেউ ভুক্তভোগীকে অনুসরণ করেছিল কি না এবং এর পেছনে সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।