শিরোনাম
◈ আর্মব্যান্ড ছাড়াই হামজা নেতা: থমাস ডুলি ◈ তুচ্ছ ঘটনায় বারবার সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ ◈ পাথর নিক্ষেপ ঠেকাতে কক্সবাজারগামী ট্রেনে বসছে সিসি ক্যামেরা ◈ গোয়েন্দা নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য: পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নাকচ করেনি সৌদি ◈ দফায় দফায় হামলা, ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি ◈ ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক দাম ও কৃত্রিম সংকট নিয়ে কড়া বার্তা বাণিজ্যমন্ত্রীর, ব্যবসায়ীদের যা বললেন ◈ জার্মানিতে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার চাকরি, আবেদন করতে পারবেন যারা ◈ আকাশসীমার জটিলতা কাটল, ১ অক্টোবর থেকে আসছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম ◈ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার জন্য প্রস্তুত: পাকিস্তানকে রাজনাথ সিংয়ের কড়া বার্তা ◈ এবার লাইভে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কড়া বার্তা দিলেন সালমান মুক্তাদির! (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩৮ সকাল
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৫৪ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভালো ফলনের সঙ্গে ভালো দাম, খুশি নওগাঁর পাটচাষিরা

অনুকূল আবহাওয়ায় উত্তরের জেলা নওগাঁয় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষা আর পানিতে জাগ দেওয়ার পর টানা এক মাস ধরে জমজমাট সোনালি আঁশ পাটের হাট-বাজার। গুণগত মান ভালো হওয়ায় প্রায় এক যুগ পর এবার মৌসুমের শুরু থেকেই পাটের ভালো দাম মিলেছে। গত বছরের চেয়ে এবার মৌসুমের শুরুতেই প্রতি মণ পাটের দাম বেড়েছে অন্তত ৬০০ টাকা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নায্য দাম পেয়ে হাসি ফুটেছে পাট চাষিদের মুখে।

জেলার বৃহত্তর পাটের হাট হিসেবে পরিচিত মান্দার সতীহাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই বিভিন্ন যানবাহনে করে দেশি, তোষা এবং মেস্তা জাতের পাট নিয়ে আসছেন কৃষকেরা। মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দরে। হাটে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বেশ দরদাম করেই পাট বিক্রি করছেন কৃষকেরা। এর প্রভাবেই গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে পাটের দাম।

আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া ইউনিয়নের চকশিমলা গ্রাম থেকে সতীহাটে পাট বিক্রি করতে আসা ওমর ফারুক বলেন, ‘এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়াও অনুকূলে ছিল। ১০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। পাট জাগ দেওয়ার আগেই ব্যবসায়ীরা অগ্রিম ৩ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে ২০ মণ পাটের বুকিং দিয়েছিল। অবশিষ্ট পাট এখন ৪ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করলাম। গত বছর যে দামে বিক্রি করেছি; এবার তার চেয়ে মণপ্রতি ৭০০ টাকা বেশি পাচ্ছি।’

হাটে আসা আরেক চাষি আহসান হাবীব বলেন, ‘বিঘাপ্রতি ১৮ হাজার টাকা খরচ করে ১২ মণ করে ফলন পেয়েছি। এবার বৃষ্টি ভালো হওয়ায় সেচের খরচ কমেছে। জলাশয় ও ডোবায় পর্যাপ্ত পানি থাকায় পাট জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়াতেও সুবিধা হয়েছে। ৩ হাজার ৯৫০ টাকা মণ দরে ২৭ মণ পাট বিক্রি করলাম। গত এক যুগে এটাই সর্বোচ্চ পাটের দর।’

advertisement

তিলকপুর ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামের পাট চাষি নোমান আহম্মেদ বলেন, ‘পাট কাটার পর পানিতে জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজ বেশ শ্রমসাধ্য। তবে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে জলাশয়গুলোতে পানি থাকায় জাগ দেওয়ার জন্য বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি। এতে পাটের আঁশের রংও ভালো হয়েছে। ভালো রং ও মানের কারণে বাজারে চাহিদাও আছে। কিছুদিন ঘরে রেখে পরে বিক্রি করতে পারলে মণপ্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাবো বলে আশা করছি।’

সতীহাটের পাট ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার পাটের রং ও মান ভালো। বাজারে চাহিদাও আছে। তাই গত সপ্তাহের তুলনায় এবার মণপ্রতি প্রায় ৬০০ টাকা বেশি দামে পাট কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে মানভেদে ৩ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা মণ দরে পাট কেনাবেচা হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে।’

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘চলতি বছর জেলায় ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। এ পরিমাণ জমি থেকে ৮ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় কৃষকেরা বাম্পার ফলন পাচ্ছেন। পাট শুধু আঁশ হিসেবে নয়, পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পাটজাত পণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব। দেশে পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো গেলে কৃষক পর্যায়ে পাটের চাহিদা ও দাম দুটিই বাড়বে।’

সূত্র: জাগো নিউস ২৪ 

  • সর্বশেষ