শিরোনাম
◈ ব্রিকস সম্মেলনে ডলারের বিকল্প খোঁজার চেষ্টা, কতটা সফল হবে জোট? ◈ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলা‌দে‌শের আপাতত জায়গা হচ্ছে না, বুঝিয়ে দিল পাকিস্তান! ◈ তারেক রহমান ভারত সফরে আগ্রহী, তবে আগে চূড়ান্ত করতে হবে এজেন্ডা: দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন ◈ সংবাদমাধ্যমের অবদানেই আজকের অবস্থান, ফ্রি মিডিয়ার আশ্বাস তথ্যমন্ত্রীর ◈ ভারতের কাছে ১৯ গোল হজম কর‌লো পাকিস্তান ◈ ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগের অভিষেকেই দলকে জেতালেন মে‌হেদী মিরাজ ◈ বিলুপ্ত হলো র‍্যাব, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল সংসদে পাস ◈ ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন ◈ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত হতে পারে পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চল: পাউবো ◈ ‘বন্ধু’ আমিরাতের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ডাক, সঙ্গে আরও ৭ মুসলিম দেশ

প্রকাশিত : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩৬ রাত
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুরে নদীগর্ভে বিলীন ৩ গ্রাম, স্থায়ী বাঁধের দাবিতে নদীপাড়ে হাজারো মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ​ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের চর খোলাবাড়িয়া গ্রামে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে মধুমতী নদীর তীব্র ভাঙন। ভিটেমাটি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষায় স্থায়ী বাঁধের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই এলাকার নদীপাড়ে হাজারো নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​স্থানীয়রা জানান, ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে দুটি মসজিদ, ১২০ থেকে ১৩০টি বসতঘর এবং প্রায় ৫০০ একর ফসলি জমি। ভাঙনের মুখে বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী এনডিসি আল হেরা দাখিল মাদ্রাসা, দিগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর খোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি সাব-পোস্ট অফিস, একটি এতিমখানা ও ছয়টি মসজিদসহ সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা।

​আল হেরা দাখিল মাদ্রাসার মাত্র ৪০ গজের মধ্যে চলে এসেছে নদী। প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থী ও ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল জব্বার ও ফাতেমা খানম জানায়, সামনেই ফাইনাল পরীক্ষা। এখনই ভাঙন না রোধ করা গেলে তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

​মাদ্রাসার সুপার মো. আব্দুর রব এবং চর খোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর খান জানান, প্রতিষ্ঠানগুলো নদীগর্ভে চলে গেলে এ অঞ্চলের শিক্ষার আলো নিভে যাবে। তাই জিও ব্যাগের সাময়িক ব্যবস্থা নয়, স্থায়ী সমাধান চান তারা।

​স্থানীয় কৃষক খোকন মিয়া ও আব্দুস ছত্তার মিয়া আক্ষেপ করে জানান, এবারই তাদের একরের পর একর ফসলি জমি ও বসতঘর নদীতে তলিয়ে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে এখন তারা অন্যের জমিতে ঘর তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু বলেন, “চর মাকড়াইল গ্রামটি ইতোমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে চর খোলাবাড়িয়া ও দিগনগর গ্রাম দুটিও আলফাডাঙ্গার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।”

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.কে.এম রায়হানুর রহমান জানান, স্থায়ী বাঁধের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আপাতত ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

​ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী দুই দিনের মধ্যে জরুরী ভিত্তিতে নদীভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হবে। তবে স্থায়ী বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন করতে কিছুটা সময় লাগবে।

  • সর্বশেষ