কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেরা ১৮ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। নৌকায় থাকা মাঝিমাল্লাসহ আরও ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের দাবি, নিখোঁজদের কেউ কেউ সাঁতরে অন্যত্র উঠেছেন। উদ্ধার হওয়া ১৮ জনকে টেকনাফ-২ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকা ঘাটসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এলাকায় এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় জেলে এনায়েত জানান, মোট ৩১ জন লোক নিয়ে নৌকাটি শাহপরীরদ্বীপ উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে ডুবে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, মিয়ানমারে সরকারি বাহিনী ও আরাকান আর্মির চলমান সংঘর্ষের কারণে তাঁরা বাংলাদেশে আশ্রয়ের উদ্দেশে পালিয়ে আসছিলেন। শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে পৌঁছার পর নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জীবিতদের উদ্ধার করে।
উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের এক আত্মীয় নুরুল আমিন দাবি করেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন এবং আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁরা পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করলে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।
এ দিকে আজ বিকেল ৫টার দিকে বিজিবি উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের টেকনাফ মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।