খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংসের রং লাল থেকে সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক উদয় কুমার মণ্ডল। বৃহস্পতিবার রাতে তিনি এ তথ্য জানান।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার মডার্ন বেকারি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকেরা পিকনিকের জন্য বুধবার সকালে স্থানীয় বাজার থেকে গরুর মাংস কেনেন। দুপুরে রান্নার সময় মাংসের রং ধীরে ধীরে লাল থেকে সবুজ হয়ে যায়। বিষয়টি দেখে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিস্মিত হন।
মডার্ন বেকারির কর্মচারী লিটন হোসেন বলেন, পিকনিকের জন্য তারা স্থানীয় মাংস ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেনের দোকানে গেলে দোকানে মাংস না থাকায় তিনি বাড়ি থেকে ফ্রিজে রাখা মাংস এনে দেন। পরে সেই মাংস রান্না শুরু করা হয়। রান্না প্রায় অর্ধেক হওয়ার পর দেখা যায়, মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং বদলে সবুজ হয়ে গেছে। এরপর তারা কড়াইসহ মাংস নিয়ে প্রথমে বিক্রেতার দোকানে এবং পরে থানায় যান।
মডার্ন বেকারির মালিক আমানুল্লাহ গাজী বলেন, ঘটনাটি জানাজানি হলে মাংসটি দেখতে কারখানায় মানুষের ভিড় জমে। পরে মাংসটি ফেলে দেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অনুরোধে পরে ডাস্টবিন থেকে কিছু মাংস সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মাংস বিক্রেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, তিনি ভালো মানের মাংসই বিক্রি করেছেন। তার দাবি, মাংসে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। একই দোকান থেকে আরও অনেকে মাংস কিনেছেন, কিন্তু তাদের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী বলেন, বুধবার কয়েকজন রান্না করা মাংস নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তারা মৌখিকভাবে অভিযোগ করলেও লিখিত অভিযোগ করেননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক উদয় কুমার মণ্ডল বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। তাই মাংসের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই রং পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।