শিরোনাম
◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে ◈ আফগান লিগে নাম লেখালেন তাসকিন ◈ ইউপি নির্বাচনে ইসির নতুন বিধান, জামানত বাড়ল পাঁচ গুণ ◈ বিদ্যুতায়নে বছরে কোটি কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমানোর সুযোগ বাংলাদেশের : আইইএর প্রতিবেদন ◈ ১১টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি চূড়ান্তের পথে, এয়ারবাস নিয়ে ফ্রান্সের চাপ ◈ ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ, বাতিল ১০৩ অনাপত্তি সনদ ◈ ঢাকার আশপাশের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে বাংলাদেশকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি ◈ জ্বালানি তেলের পর এবার বাড়ল লঞ্চ ভাড়া, কিলোমিটারে সর্বোচ্চ ২৩ পয়সা ◈ জ্যাকসের ঝড়ে লঙ্কা বিধ্বস্ত

প্রকাশিত : ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৯ দুপুর
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হারাম উপার্জন: ইবাদত ও দোয়া কবুলে সবচেয়ে বড় বাধা

দৃশ্যমান অপবিত্রতা থেকে মানুষ অজু ও গোসলের মাধ্যমে বাহ্যিক পবিত্রতা লাভ করে। তবে মানুষের আত্মিক পবিত্রতার মূল ভিত্তি হলো হালাল উপার্জন। বৈধ পন্থায় উপার্জিত জীবিকা একজন মুমিনের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় জীবনকেই পরিচ্ছন্ন করে তোলে। যার উপার্জনের উৎস সৎ ও বিশুদ্ধ, তার জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বরকত ও পবিত্রতা নেমে আসে।

উপার্জন হালাল হওয়ার জন্য কেবল মানুষের পরিশ্রমই যথেষ্ট নয়। বর্তমান সমাজে এমন বহু মানুষ রয়েছে, যারা রাত-দিন কঠোর পরিশ্রম করে ঠিকই, কিন্তু শরিয়তের মানদণ্ডে তাদের উপার্জনের উৎসটি অবৈধ বা হারাম। আজকের বস্তুবাদী সমাজে মানুষ আশঙ্কাজনক হারে হারাম উপার্জনের দিকে ঝুঁকছে। দুর্নীতির ব্যাধি আজ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে; বাজারে ভেজাল কারবারি আর ওজনে কম দেওয়া যেন মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

advertisement

হারাম উপার্জনের ধ্বংসাত্মক পরিণতি

হারাম উপার্জনে হয়তো সাময়িক অর্থ-সম্পদ বা তৃপ্তির ঢেকুর আসে, কিন্তু এর আত্মিক দুর্গন্ধ পুরো সমাজ ব্যাবস্থাকে দ্রুত দূষিত করে ফেলে। এটি মানুষের ইবাদত নষ্ট করে, জান্নাতের পথ সংকীর্ণ করে এবং জাহান্নামের পথ সুগম করে। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘অবৈধ উপার্জনের খাদ্যে যে মাংসপিণ্ড বৃদ্ধি পায়, জাহান্নামই তার জন্য উপযুক্ত বাসস্থান।’ (জামে তিরমিজি: ৬১৪)

advertisement

অন্য হাদিসে প্রিয় নবী (সা.) আরও স্পষ্ট করে ইরশাদ করেছেন, ‘যে দেহ হারাম খাদ্য দিয়ে প্রতিপালিত হয়েছে, তা কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মাজমাউজ জাওয়াইদ: ১৮১০৯)

দোয়া কবুল না হওয়ার প্রধান অন্তরায়

advertisement

আমরা জীবনে কতবার হাত তুলে একান্তে কাঁদি, কান্নায় চোখের নোনা জল গড়িয়ে গণ্ডদেশ ভিজিয়ে ফেলি! মনে করি, এই বুঝি আমাদের ব্যাকুল আকুতি কবুল হয়ে গেল! কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের সেই দোয়া পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল অতিক্রম করে আরশ পর্যন্ত পৌঁছায় না। এর মূল কারণ হারাম উপার্জন। হারাম রুজি মানুষের দোয়া কবুলের পথে সবচেয়ে বড় প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে মানবসকল, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পবিত্র এবং তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। আর আল্লাহ মুমিনদের ঠিক সেই নির্দেশই দিয়েছেন, যা তিনি দিয়েছিলেন তাঁর প্রেরিত রাসুলদের।...’

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক ব্যক্তির উদাহরণ দিলেন, যে দীর্ঘ সফর করে এসে ধূলিমলিন ও এলোমেলো চুলে আকাশের দিকে হাত তুলে আকুল হয়ে বলতে থাকে, ‘হে আমার রব, হে আমার রব!’ অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পরিধেয় বস্ত্র হারাম এবং তার পুরো জীবিকাই অর্জিত হয়েছে হারাম উপায়ে। এ উদাহরণ দিয়ে রাসুল (সা.) সাহাবিদের প্রশ্ন করলেন, ‘এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে!’ (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)

হারাম উপার্জন কেবল দোয়া কবুলের পথই বন্ধ করে না, বরং মানুষের যাবতীয় নেক আমল ও ইবাদতের সওয়াব বিনষ্ট করে দেয়। তাই বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি অন্তরের সুরক্ষার জন্য উপার্জনের উৎস বিশুদ্ধ হওয়া অপরিহার্য।

  • সর্বশেষ