ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে স্ত্রীর কাছে মাদকের টাকা চেয়ে না পেয়ে পবিত্র
কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জুয়েল রানা (৪০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার সাঁড়াগোপালপুর বকশিরচক তালতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ওই ব্যক্তিকে ধরে পিটুনি দেওয়ার পর পুলিশে সোপর্দ করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জুয়েল রানা দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত।
মঙ্গলবার বিকেলে তিনি মাদক কেনার জন্য তাঁর স্ত্রীর কাছে টাকা চান। স্ত্রী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জুয়েল ঘরে ঢুকে কোরআন শরিফের পাতা উল্টে টাকা খুঁজতে থাকেন। কোনো টাকা না পেয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পবিত্র গ্রন্থটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। খবরটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জুয়েলকে বাড়ি থেকে আটক করে তালতলা মোড়ে নিয়ে আসেন। তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নানা স্লোগান দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথের তালতলা রেলগেটের পিলারের সঙ্গে তাঁকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। উত্তেজিত জনতা তাঁর চুল ও দাড়ি কেটে, মুখে চুনকালি মেখে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে গণপিটুনি দেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, জুয়েল রানা একজন চিহ্নিত মাদকসেবী। নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁর স্ত্রী মাঝেমধ্যে কোরআন শরিফের ভেতরে কিছু টাকা লুকিয়ে রাখতেন। জুয়েল সেখানে টাকা না পেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পবিত্র ধর্মগ্রন্থে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
ওসি আরও জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।