পর্যাপ্ত ঘুম সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেকেরই ধারণা, সপ্তাহজুড়ে কম ঘুমিয়ে ছুটির দিনে বেশি ঘুমালেই সেই ঘাটতি পূরণ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি ইনসুলিনের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
২০২২ সালে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘কিউরেস’ এ প্রকাশিত একটি গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবের সঙ্গে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রতি রাতে সাত ঘণ্টার কম ঘুম হলে শরীরে প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া বাড়ে, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং শরীরের স্বাভাবিক জৈবঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ব্যাহত হয়। এসব পরিবর্তন ইনসুলিনের স্বাভাবিক কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক বা দুই রাত কম ঘুমালেই যে একজন সুস্থ ব্যক্তি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবেন, এমন নয়। স্বল্প সময়ের ঘুমের ঘাটতিতে ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অগ্ন্যাশয়কে বেশি ইনসুলিন উৎপাদন করতে হয়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম হলে শরীর সাধারণত আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কম ঘুম হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। ঘুমের অভাবে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়, যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ে। এর ফলে স্থূলতা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং শেষ পর্যন্ত টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি রাতে অন্তত ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করা উচিত। মাঝে মধ্যে এক-দু'দিন কম ঘুম হলেও পরে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া কিছুটা উপকার করতে পারে। তবে নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি শুধু ছুটির দিনে বেশি ঘুমিয়ে পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।