স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খল ঘটনাকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ তদন্তের আওতায় এসেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০তে হারিয়ে ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। তবে ম্যাচ শেষের বাঁশির পর দুদলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে শিরোপা উদযাপন কিছুটা ম্লান হয়ে যায়।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি ম্যাচ রেফারির প্রতিবেদন, আনুষ্ঠানিক নথিপত্র এবং ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হতে পারে।
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেস। ম্যাচ শেষের পর সহিংস আচরণের অভিযোগে তিনি লাল কার্ড দেখেন। অভিযোগ রয়েছে, স্পেনের একাধিক খেলোয়াড়ের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় শেষ বাঁশির পর তাকে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন ম্যাচ রেফারি।
একই ঘটনায় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, ম্যাচ-পরবর্তী উত্তেজনার সময় তিনি স্পেনের অধিনায়ক রদ্রির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
শুধু খেলোয়াড়ই নন, তদন্তের আওতায় রয়েছেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও। স্পেনের মিডফিল্ডার দানি ওলমোর সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনা দলের আচরণও খতিয়ে দেখবে ফিফা। সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, স্পেন ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সময় লিওনেল স্কালোনির দলের কয়েকজন সদস্য মুখ ফিরিয়ে ছিলেন। ফাইনালের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো খেলোয়াড় বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কিংবা আর্থিক জরিমানার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ফিফা। সংস্থাটি নিয়মিত শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে বলে জানা গেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক রায় আসতে পারে।
এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জয়ের পর রাজনৈতিক বার্তা-সংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাও তদন্তের আওতায় এনেছিল ফিফা। ফলে টুর্নামেন্টের শেষভাগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার কর্মকাণ্ড নিয়ে নজরদারি আরও বাড়িয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।