শিরোনাম
◈ শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল ডিসেম্বরেও পুরোপুরি চালু হচ্ছে না ◈ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার যে কারণ উঠে এসেছে তদন্তে ◈ জামায়াত এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’র ৭ দিন পরও স্ত্রীর বায়োডাটায় লেখা ‌‘আনম্যারিড’ ◈ প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিটসহ বিশেষ সুবিধা যুক্ত করা হবে: বিমানমন্ত্রী ◈ স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক, পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার হবে প্রশাসক ◈ হাম কেড়ে নিল আরও ৪ শিশুর প্রাণ, মৃত্যু বেড়ে ৮০০ ছুঁই ছুঁই ◈ সরকারের ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা, ১০ মাসেই ছাড়াল লক্ষ্যমাত্রার ৮৪% ◈ দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম ◈ জিয়াউর রহমানকে হত্যা: বৃহস্পতিবার মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ ◈ জামায়াত এমপির ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন সেই তরুণী ও তার বাবা (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২১ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৭ দুপুর
আপডেট : ২১ জুলাই, ২০২৬, ০৬:৪৪ বিকাল

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছে ঢাকা

যানজট কমাতে নতুন উদ্যোগ: ঢাকার ১২০ মোড়ে আসছে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল

মনিরুল ইসলাম: রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার টেকসই সমাধানে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার দিকে এগোচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী ছয় মাসের মধ্যে নগরীর অন্তত ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা নগর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে ১২টি পয়েন্টে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। চলতি এক মাসের মধ্যে তা ৬০টির বেশি পয়েন্টে সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সড়কে যানবাহনের চলাচল আরও গতিশীল হবে এবং ম্যানুয়াল নির্ভরতা কমে আসবে।

ডাইভারশন ও প্রকৌশলগত পরিবর্তনে ইতিবাচক ফল

গত এক বছরে যানজট কমাতে রাজধানীর ৭৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়ক ডাইভারশন ও প্রকৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোথাও ইউটার্ন ব্যবস্থা, কোথাও লেন পরিবর্তন কিংবা সরাসরি চলাচল বন্ধ করে বিকল্প পথ তৈরি—এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে।

উদাহরণ হিসেবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আসাদ গেট সংলগ্ন চার রাস্তার মোড়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আগে যেখানে নিয়মিত যানজট লেগে থাকত, সেখানে সরাসরি চলাচল বন্ধ করে বাম দিকে ঘুরে ইউটার্ন নেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে এবং ট্রাফিক সদস্যের প্রয়োজনীয়তাও কমেছে। সড়ক  চলাচল সিষ্টেম পরিবর্তনের  ফলে বিজয়স্মরণী ফ্লাইওভারে দীর্ঘ যানজট কমেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে।

একই ধরনের পরিবর্তন মোহাম্মদপুরের বসিলা, বনানীর কাকলী, মিরপুরের ইসিবি চত্বর ও কালশী এলাকায় বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপে বড় ধরনের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি; বরং মাঠপর্যায়ে যানজট কমার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

জানা যায়, বর্তমানে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগে প্রায় ৪,১০০ সদস্য কর্মরত থাকলেও কার্যত প্রতিদিন ৩,৬০০ থেকে ৩,৭০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তারা রাজধানীর ৬৬৮টি ট্রাফিক পয়েন্টে কাজ করছেন, যার মধ্যে প্রায় ২৫টি পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা তিন পালায় দায়িত্ব পালন করতে হয়।

এ বাস্তবতায় শুধু জনবল বাড়িয়ে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বরং সড়কের নকশা বিশ্লেষণ করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডাইভারশন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা করাই বেশি কার্যকর বলে তারা মত দিয়েছেন।

সেমি-অটোমেটিক থেকে পূর্ণ অটোমেশনের পথে

বর্তমানে চালু হওয়া সেমি-অটোমেটিক সিগন্যালগুলো ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। পরিস্থিতি অনুযায়ী সিগন্যালের সময় পরিবর্তন করা যায়। তবে ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ অটোমেটিক সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে যানবাহনের চাপ অনুযায়ী সিগন্যালের সময় নির্ধারণ হবে এবং একাধিক জংশনের মধ্যে সমন্বয় থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত দেশের মতো পুরোপুরি অটোমেটিক ব্যবস্থা চালু করতে হলে সড়ক অবকাঠামোকে আরও পরিকল্পিত ও আধুনিক করতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান সড়ক কাঠামো সেই মানে পৌঁছায়নি বলেই ধাপে ধাপে সেমি-অটোমেটিক ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ডিএমপি ভবিষ্যতে জিপিএস ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও করছে। এর মাধ্যমে কোথায় কখন যানজট তৈরি হচ্ছে, তা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এছাড়া পিক ও অফ-পিক আওয়ার অনুযায়ী ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন, সিগন্যাল সমন্বয় এবং ডাটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে: বৃষ্টি, অবরোধ ও সমন্বয়হীনতা

যদিও বিভিন্ন উদ্যোগে যানজট কিছুটা কমেছে, তবুও বড় চ্যালেঞ্জগুলো এখনো রয়ে গেছে। ভারী বৃষ্টিপাত হলে রাজধানীর অনেক সড়ক অচল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি রাজনৈতিক বা অন্যান্য কারণে সড়ক অবরোধ, মিছিল ও বিক্ষোভও যান চলাচলে বড় প্রভাব ফেলে।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব। অনেক সময় পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সড়ক কেটে উন্নয়নকাজ শুরু করা হয়, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।

নাগরিক সহযোগিতায় মিলছে ইতিবাচক পরিবর্তন

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নগরবাসীর সচেতনতা ও ট্রাফিক আইন মানার প্রবণতা বেড়েছে। মানুষ সিগন্যাল অনুসরণ করছে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখছে—যা যানজট কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

সমন্বিত উদ্যোগই টেকসই সমাধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার যানজট সমস্যার সমাধান একক কোনো সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয়। ট্রাফিক পুলিশ, সিটি করপোরেশন, সড়ক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রযুক্তির ব্যবহার, সড়ক পরিকল্পনার উন্নয়ন এবং নাগরিক সচেতনতা—এই তিনের সমন্বয় ঘটাতে পারলেই রাজধানীর যানজট পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়