শিরোনাম
◈ শ্রম খাতে সংস্কার ও আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নে সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ-আইএলও ◈ এনজোর লাল কার্ডই কি আর্জেন্টিনার হা‌রের কারণ?  ◈ কও‌মি ধারার ক‌য়েক‌টি রাজ‌নৈ‌তিক দলের জামায়াত জোট থেকে বের হ‌য়ে হেফাজতে ইসলামে একজোট হওয়ার চেষ্টা ◈ তোমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই ক‌রে‌ছো, তোমা‌দের ধন‌্যবাদ, হারের পরও মেসিদের পাশে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ◈ কুমিল্লায় মহাসড়কে ৫ কিলোমিটার যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ◈ সাঁড়াশি অভিযানেও অধরা ডেভিড ইমন, কোথায় আছেন তিনি? ◈ ভারত এবার ইংল্যান্ডের কা‌ছে ওয়ানডে সি‌রিজ হার‌লো  ◈ অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে দুশ্চিন্তা বাড়‌লো বাংলা‌দেশ শি‌বি‌রে, লিটনের পর এখন অনিশ্চিত তারকা পেসার না‌হিদ ◈ মাত্র ১০ ডলারের চশমায় বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প ◈ তীব্র তাপদাহে বাংলাদেশের মানুষের দ্বিমুখী সংকট: কমছে আয়, বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়

প্রকাশিত : ১৯ জুলাই, ২০২৬, ০৮:২২ রাত
আপডেট : ২০ জুলাই, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাগেরহাটে পেঁপে চাষে কৃষকদের সাফল্য : ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্যে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার বাগেরহাট: বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের ৯ উপজেলায় পেঁপে চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। আশানুরূপ ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পেঁপে চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

সরেজমিনে ৯ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে সবুজ পেঁপে বাগান। গাছে গাছে ঝুলছে কাঁচা ও পাকা পেঁপে। কৃষকদের ব্যস্ত সময় কাটছে পরিচর্যা, সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ নিয়ে।

মোরেলগঞ্জ গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল খালেক শেখ জানান, লাভজনক হওয়ায় তিনি এ বছর ১০ বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন। চারা রোপণ ও প্রাথমিক পরিচর্যায় প্রতি বিঘায় তার খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, “নতুন লাগানো ক্ষেত থেকেই পেঁপে বিক্রি শুরু করেছি। বর্তমানে প্রতি মণ পেঁপে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ২০ দিন পরপর প্রায় ৪০০ মণ পেঁপে বিক্রি করা যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে শুধু নতুন ক্ষেত থেকেই ৬ থেকে ৮ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রির আশা করছি।”

তিনি আরও জানান, একবার পেঁপের চারা রোপণ করলে প্রায় তিন বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। প্রথম বছরের পর গাছের পরিচর্যা ব্যয়ও তুলনামূলক কম। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি না হলে আগামী তিন বছরে তার বাগান থেকে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি হতে পারে বলে আশা করছেন।

একই গ্রামের কৃষক মো. কাদের শেখ বলেন, “পেঁপে একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। আমি এ বছর তিন বিঘা জমিতে পেঁপে চাষ করেছি। চলতি বছরে এ ক্ষেত থেকে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার পেঁপে বিক্রি হবে বলে আশা করছি।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ৪৯৮ হেক্টর জমিতে পেঁপে চাষ হয়েছে। এসব জমি থেকে সবজি হিসেবে প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন পেঁপে উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, পেঁপে গাছকে গোড়া পচা রোগ, পোকামাকড় ও ভাইরাসজনিত আক্রমণ থেকে রক্ষায় কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গাছের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে বোরনসহ প্রয়োজনীয় অনুখাদ্য ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উন্নত ফলনের জন্য প্রতি বিঘায় অন্তত দুটি পুরুষ গাছ রাখতেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এ বছর স্থানীয় জাতের পাশাপাশি বারি উদ্ভাবিত শাহি, কাশিমপুরি, হানিডিউ ও অন্যান্য উন্নত জাতের পেঁপে চাষ করেছেন কৃষকরা। এসব জাতের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় পেঁপে ব্যবসায়ী মো. আল আমীন ও মোক্তার হোসেন জানান, তারা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ পেঁপে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে পাঠাচ্ছেন। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পেঁপে সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “পেঁপে চাষের অন্যতম সুবিধা হলো একবার চারা লাগালে প্রায় তিন বছর ফলন পাওয়া যায়। প্রথম বছরের পর পরিচর্যা ব্যয় অনেক কমে আসে। তাই কৃষকরা তুলনামূলক বেশি লাভবান হন। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারও পেঁপে চাষে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।”

পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ পেঁপে মানুষের হজমশক্তি বৃদ্ধি ও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। তাই কৃষি কর্মকর্তারা পারিবারিক চাহিদা মেটাতে বাড়ির আঙিনাতেও পেঁপে চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন।*

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়