সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারে টানা ৮ দিনের ভারী বৃষ্টি কিছুটা কমলেও প্লাবিত এলাকার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে পাহাড় ধস ও পানিতে ডুবে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে শনিবার রাতে কক্সবাজার শহরে পাহাড় ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে শনিবার রাত ও বিকালে পেকুয়া ও চকরিয়ায় পানিতে ডুবে মারা যায় ২ শিশু।
কক্সবাজার শহরে পূর্ব কলাতলী ঝিরিঝিরি পাড়ায় শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে এক গৃহবধূ নিহত এবং তার স্বামী আহত হয়েছেন।
নিহত রোজিনা বেগম (৩০) একই এলাকার আব্দুল মজিদের স্ত্রী। তিনি তিন সন্তানের জননী।
ঘটনায় নিহতের স্বামী আব্দুল মজিদ (৩৭) সামান্য আহত হয়েছেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, আব্দুল মজিদ ও তার স্ত্রী রোজিনা বেগম রাতে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাতে সাড়ে ৯ টার দিকে রোজিনা পাহাড়ের খাদের নিচে থাকা রান্না ঘরে খাবারের পাতিল আনতে যান। এসময় আকস্মিক পাহাড়ধ্বসে বড় একখন্ড মাটি রান্না ঘরের উপর পড়ে। এসময় মুহূর্তেই তিনি মাটিচাপা পড়ে যান। তার স্বামী রান্না ঘরের পাশে কক্ষে থাকায় সামন্য আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। তবে সন্তান ও শ্বশুর অন্য কক্ষে থাকায় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান।
স্থানীয় সমাজ প্রতিনিধি মুফিজুর রহমান জানান, ঘটনার সময় তিনি স্থানীয় একটি দোকানে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ শোর চিৎকার শোনার পাশাপাশি খবর পান মজিদের ঘরে তার স্ত্রী মাটিচাপা পড়েছেন। খবরটা শোনার সাথে সাথে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দিলে তারাও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টার পর রোজিনা বেগমকে মৃত উদ্ধার করা হয়েছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক ছৈয়দ মো. মোরশেদ হোসাইন বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর মাটিচাপা পড়া ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার করার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
টানা বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অপরদিকে, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ৯ টার দিকে পেকুয়া উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে ২ বছর বয়সের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
নিহত শিশুটি নাম মুশফিকুর রহিম। সে বলিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাছির উদ্দীনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খাচ্ছিল শিশুটি। একপর্যায়ে মা-বাবার অগোচরে খাবারের বাটি হাতে নিয়ে ঘরের দরজার বাইরে বের হলে বাড়ির সামনে জমে থাকা বন্যার পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির দরজার সামনের বন্যার পানিতে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য সাহেদুল ইসলাম বলেন, "মা-বাবার অগোচরে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে বন্যার পানিতে পড়ে যায়। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির সামনেই তার মরদেহ পাওয়া যায়।"
অপরদিকে, শনিবার বিকেলে চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খোঁজাখালী জলদাস পাড়ায় বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে সজীব জলদাস (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সজিব স্থানীয় তুফান জলদাসের ছেলে।
রবিবার বিকাল ৩ টায় চকরিয়ার ইউএনও শাহীন দেলোয়ার জানান, ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ সজীব জলদাসের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মিদের পাশাপাশি স্বজনরাও উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছিল। রবিবার সকালে তাদের সাথে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় চট্টগ্রাম থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলও। এক পর্যায়ে বিকাল ৩ টার দিকে ঘটনাস্থল কিছুটা বন্যার পানিতে ডুবে থাকা অবস্থায় শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ নিয়ে গত ৪ জুলাই থেকে টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ধস ও ঢলের পানিতে ভেসে গিয়ে জেলায় রোহিঙ্গা নাগরিকসহ মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩১ জনে।