শিরোনাম
◈ সরকারি চাকরিজীবীদের এ মাসেই বাড়তি বেতন-ভাতা নিয়ে যা জানাল অর্থ মন্ত্রণালয় ◈ পরমাণু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে চাপ নিতে প্রস্তুত কি দেশের গ্রিড? বড় চ্যালেঞ্জ স্পিনিং রিজার্ভ ◈ ওমা‌নের মা‌ঠে সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ ◈ শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে সময় লাগছে মাত্র ১৫-২০ মিনিট, জানালেন বিমানমন্ত্রী ◈ হা‌রের ক্ষত না শুকা‌তেই আইসিসির শাস্তি পেলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ◈ ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির মামলায় ৯৯ বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন ◈ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ের তথ্য নিয়ে যা বলল পরিবার ◈ ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ দুই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে বার্সেলোনা শিবিরে জোড়া ধাক্কা ◈ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: রায়ের কপি পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ, জানালেন শামা ওবায়েদ

প্রকাশিত : ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৭:১৫ বিকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্থানীয় একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে ১০ হাজার কলাগাছ ধ্বংস করেছে পদ্মার চরে

লিয়াকত আলী লাভলু, চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পদ্মা নদীর চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের শেষ সীমানা ঘেষে চর মোজাফ্ফরপুর মৌজার ছোনেরটেক নামক পদ্মার চরে গড়া ৩০০ শত বিঘার বিশাল কলা বাগানের প্রায় ১০ হাজার  কলাগাছ ধ্বংস করে দিয়েছে প্রতিবেশী দুর্বৃত্তরা।

পার্শ্ববতী সদরপুর উপজেলার মধ্যে দুর্গম পদ্মার চরে উক্ত কলা বাগানটির অবস্থান। দুর্বৃত্তরা, শত্রতা করে দিনের পর দিন বাগানের মধ্যে গরু ছাগলের পাল চড়িয়ে এবং রাতের আধারে কলাগাছ কেটে রেখে বাগানটির ক্ষতি করেছে বলে অভিযোগ। উক্ত কলা বাগানের পাশের বসতি শেখ আঃ মান্নান (৫০), রহিম হাওলাদার (৫৫), মোহন বেপারী (৬০), ফারুক কাজী (৪৫) ও সিরাজ কাজী (৫০) এদের নেতৃত্বে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গত ক’য়েক দিনে বাগানের প্রায় ১০ হাজার কলাগাছ ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, পদ্মা নদীর ছোনেরটেক নামক চরটি একটু উচু এলাকা হওয়ায় সবরি কলা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তাই তিনজন অংশীদার মিলে প্রায় ১০০ একর জমির উপর উক্ত বাগানটি গড়া হয়েছে। ওই বাগানের মালিকরা হলেন আলাউদ্দিন ফকির (৫০), মোহাম্মদ ফকির (৪৮) ও মান্নান মুন্সি (৬০)। বাগান মালিকরা পার্শ্ববতী দোহার উপজেলা ও চরভদ্রাসন উপজেলার বসতি। তারা মজুর খটিয়ে ও লোক রেখে বাগানটি গড়েছেন। এ কলাবাগানে মোট প্রায় ৮০ হাজার সবরি কলাগাছ রয়েছে। 

বাগান মালিক আলাউদ্দিন ফকির জানান, প্রায় দু’বছর ধরে পদ্মার চরে তিনি কলাচাষ করে চলেছেন।  এ বছর বাগান আরও বাড়িয়ে ১০০ একর জমি নিয়ে গড়া হয়েছে। পদ্মার চরে বিশাল এ কলাবাগান গড়তে প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। প্রতিদিন বাগানে প্রায় ২০/২৫ মজুর কাজ করে খাকে। কলাবাগানে সেচকার্য বা পানি সরবরাহর জন্য ইঞ্জিন চালিত ১৫টি নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে। বাগানে প্রতিনিয়ত সার কীটনাশক ও ভিটামিন ঔষধ সরবরাহ করতে প্রচুর অর্থ ব্যায় হচ্ছে। এ বাগানের উৎপাদিত সবরি কলা পাইকারী ব্যাবসায়ীরা রাজধানী ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করেন থাকেন। 

Advertisement

ক্ষতিগ্রস্থ বাগান মালিক আরও জানান, পদ্মা চরের এ কলা বাগানের আশেপাশে রয়েছে ১২০ ঘর কৃষক পরিবার। এসব বসতিদের মধ্যে দুর্বৃত্তরা দিনের বেলায় বাগানের মধ্যে গরু ছাগল চড়িয়ে এবং রাতের আধারে কলাগাছ কেটে রেখে পাকা কলার ছড়া প্রতিনিয়ত চুরি করে চলেছে। তিনি জানান, একই জমিতে তিন দফায় কলাগাছ রোপন করেছি। দুর্বৃত্তরা তিনবারই কলাগাছগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। বাগান সীমানায় স্থাপিত লোহার বেড়া ভেঙে দুর্বৃত্তরা ১০ হাজার কলাগাছ বিনষ্ট করে দিয়েছে। এ ব্যপারে তিনি মামলা করার প্রস্তুতী নিচ্ছেন বরেও জানিয়েছেন। 

বাগান ঘুরে জানা যায়, বিস্তৃর্ণ এলাকার কলা বাগানের কোনো কোনো অংশে হাজার হাজার কলার চারা মরা ও আধামরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বাগানের আরেক অংশে দেখা যায়, প্রতিবেশীদের গরু ছাগলের পাল বাগানে ঢুকে কলা গাছগুলো বিনষ্ট করে চলেছে। আরবাগানের  প্রতিবেশী গৃহস্থরা দেখেও না দেখার ভান করে চলেছেন। 

রবিবার উক্ত এলাকার বসতি এবং চরঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার রহিম হাওলাদারকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, “বিশাল এলাকা জুড়ে এ কলাবাগানটি গড়া হয়েছে।এলাকাবাসী জনচলাচলের জন্য বাগানের মধ্যে দিয়ে মালিকের কাছে ১৬ হাত চওড়া পথ চেয়েছিল। কিন্তু বাগান মালিক চলাচলের রাস্তা দিয়েছে মাত্র ৯ হাত চওড়া। এজন্য চরের লোকজন উক্ত কলা বাগানের উপর ক্ষেপে রয়েছে”। ওই এলাকার আরেক মাতুব্বর কালাম চৌকদার (৫৫) জানায়, “আমি বাগানের ক্ষতি না করার জন্য এলাকাবাসীদের বার বার অনুরোধ করেছি। এমনকি, বাগানে গরু ছাগল ঢুকলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে এ ঘোষনাও দিয়েছি। কিন্তু আাদের কথা কেউ শুনছে না”।        

  • সর্বশেষ