মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কোনাঘাট থেকে শ্যামগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বিভিন্ন স্থানে পিচঢালাই উঠে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি সেতুর সংযোগস্থলও ঝুঁকিপূর্ণ। এতে প্রতিদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নবীনগরের পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক বাসিন্দা।
নবীনগর থেকে বাঞ্ছারামপুরের কড়ইকান্দি ফেরিঘাট হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। কয়েক বছর আগে কোনাঘাট থেকে শ্যামগ্রাম পর্যন্ত সড়কে কার্পেটিং করা হলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গেছে। বৃষ্টিতে গর্তে পানি জমে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। শুকনো মৌসুমে ধুলাবালিতে ভোগান্তি বাড়ে।
শ্যামগ্রাম কাঠালবাগান সংলগ্ন সেতু, বাজারের সামনের সেতু এবং শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সেতুর সংযোগস্থল বেশি নাজুক। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
রসুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমি স্ট্রোকের রোগী। চিকিৎসার জন্য নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। কিন্তু রাস্তার খারাপ অবস্থার কারণে অনেক সময় নিয়মিত চেকআপ করানো সম্ভব হয় না।’
শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান খান মাসুম বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জনদুর্ভোগ লাঘব ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম সিয়াম বলেন, ‘কোনাঘাট থেকে শ্যামগ্রাম পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ থাকায় প্রতিদিন যাতায়াতে আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হোক।’
নবীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাহবুব হোসেন বলেন, সড়কটির বেশির ভাগ অংশের অবস্থা খারাপ। সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে।
এদিকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি ও নবীনগরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান নবীনগর–বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের বাঞ্ছারামপুর অংশের উদ্বোধন করেন। প্রায় ১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকার বৃহত্তর আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি কোনাঘাট থেকে শ্যামগ্রাম পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে এলাকাবাসীকে মুক্তি দেবে।