শিরোনাম
◈ সরকারি চাকরিজীবীদের এ মাসেই বাড়তি বেতন-ভাতা নিয়ে যা জানাল অর্থ মন্ত্রণালয় ◈ পরমাণু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে চাপ নিতে প্রস্তুত কি দেশের গ্রিড? বড় চ্যালেঞ্জ স্পিনিং রিজার্ভ ◈ ওমা‌নের মা‌ঠে সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ ◈ শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে সময় লাগছে মাত্র ১৫-২০ মিনিট, জানালেন বিমানমন্ত্রী ◈ হা‌রের ক্ষত না শুকা‌তেই আইসিসির শাস্তি পেলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ◈ ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির মামলায় ৯৯ বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন ◈ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ের তথ্য নিয়ে যা বলল পরিবার ◈ ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ দুই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে বার্সেলোনা শিবিরে জোড়া ধাক্কা ◈ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: রায়ের কপি পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ, জানালেন শামা ওবায়েদ

প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৯:২২ রাত
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তানোরে সারের কৃত্রিম সংকট, সিন্ডিকেটে বিপর্যস্ত আলু চাষ

ইফতেখার আলম বিশাল, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে আলু মৌসুমকে কেন্দ্র করে নন-ইউরিয়া সার—এমওপি, টিএসপি ও ডিএপি নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সার ডিলারদের সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত দামে বিক্রি, ক্রয় রশিদ না দেওয়া এবং বাইরে থেকে চোরা পথে আনা সারের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষক।

কৃষকদের অভিযোগ—টিএসপি ১৩৫০ টাকার বস্তা ১৮০০-১৯৫০ টাকায়, ডিএপি ১০৫০ টাকার বস্তা ১৪৫০-১৬০০ টাকায় এবং এমওপি ১০৫০ টাকার সার ১১৫০-১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারি দামে সার প্রায় মেলেই না; তবে বাড়তি দাম দেওয়া হলে তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়। কিন্তু এতে কোনও রশিদ দেওয়া হয় না, ফলে সারের আসল-নকল বা ভেজাল নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

কৃষকেরা অভিযোগ করেন, তানোরের বেশিরভাগ সার ডিলার বহিরাগত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। তারা সার সংকট দেখিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করছে। স্থানীয়দের মতে, কৃষি বিভাগ মনিটরিং জোরদার করলে এই সিন্ডিকেট ভেঙে যেত, কিন্তু তাদের ‘গা–ছাড়া’ ভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

এবার লোকসান পুষিয়ে নিতে মাঠে নামতে আগ্রহী কৃষকেরা সার না পেয়ে হতাশ।

Advertisement

তানোর পৌর এলাকার কৃষক আব্দুল মালেক ও তালন্দ এলাকার ইমরুল হক অভিযোগ করেন-সার না পেয়ে দিনের পর দিন কৃষি অফিসে ধর্ণা দিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না।

গোল্লাপাড়া বাজারের কৃষক তরিকুল বলেন, “প্রতি বছর একই অবস্থা-চাহিদা নেই ডিলারের দোকানে; অথচ বেশি দাম দিলেই সার পাওয়া যায়।”

কৃষকদের দাবি—প্রতিদিন মান্দা, মোহনপুর, নাচোল, নিয়ামতপুর, গোদাগাড়ী, নওগাঁ সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থেকে শত শত বস্তা সার চোরাই পথে তানোরে ঢুকছে। এসব সার ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।

কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন-বাইরের সার ঢুকছে, বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে; তবে অভিযান চালালে আলু চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আরও বলেন, “সারা বছরের বরাদ্দ দিয়েও আলু মৌসুমের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।”

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে-এবার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর।
ডিসেম্বর মাসে সার বরাদ্দ: টিএসপি: ২৯০ মেট্রিক টন, ডিএপি: ১০৯০ মেট্রিক টন, এমওপি: ৭০০ মেট্রিক টন, ইউরিয়া: ১৪৫৯ মেট্রিক টন।

অতিরিক্ত কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুভাষ কুমার মণ্ডল বলেন, “বরাদ্দ সীমিত। কৃষকরা জৈব সার ব্যবহার না করে অতিরিক্ত রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভর করায় চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।”

সরকারি মনিটরিং জোরদার করা, ন্যায্য দামে সার সরবরাহ ও সিন্ডিকেটবিরোধী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন আলু চাষিরা।

  • সর্বশেষ