শিরোনাম
◈ কাল পাস হচ্ছে বাজেট, আসছে যেসব পরিবর্তন ◈ ৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা পরিস্কার করা উচিত: মির্জা ফখরুল  ◈ চাহিদা ও দাম দুটোই কমেছে, ইউরোপে চাপে বাংলাদেশের পোশাক খাত ◈ জামায়াতের বয়স ৮৪ বছর, ১০০ বছর নয়: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ◈ অর্থ বিল সংশোধন করে করমুক্ত আয়সীমা ৪-৫ লাখ টাকা করা হচ্ছে ◈ কারিগরি ত্রুটিতে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, বাড়তে পারে লোডশেডিং ◈ প্রিপেইড মিটার রিচার্জে ভোগান্তি, নেই সমাধান ◈ জাপানের বিরুদ্ধে প্রথম দলে দেখা যাবে নেইমারকে? লাখ টাকার প্রশ্ন ব্রাজিল শিবিরে ◈ বিরোধী দল সেই সংস্কারের কথা বলে, যে সংস্কার তাদের ক্ষমতার ভাগ দেবে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ◈ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় সমঝোতা কি ভেস্তে যাবে

প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:২৯ বিকাল
আপডেট : ১৫ জুন, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লক্ষ্মীপুরে আগাম টমেটো চাষে ভাইরাসের হানা, দিশেহারা কৃষকরা

জাহাঙ্গীর লিটন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের মিয়ারবেড়ি ও সুতার গোপ্টা এলাকায় আগাম টমেটো চাষ করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। জমিতে মারাত্মক লিফ কার্ল ভাইরাসের আক্রমণে গাছ মরে যাচ্ছে, ফলে উৎপাদনের আগেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষিরা।

চাষি মহিউদ্দিন জানান, তিনি এক একর জমিতে আগাম টমেটো চাষ করেছেন। প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। দেড় মাস আগে রোপণ করা গাছে এখন ফুল আসতে শুরু করেছে। আরও দেড় মাস পর ফল বিক্রির আশা ছিল। কিন্তু ভাইরাস আক্রমণে গাছগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। নানা ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করেও লাভ হচ্ছে না। একই পরিস্থিতি পাশের ৮ একর জমিতে টমেটো চাষ করা কৃষক জালালের ক্ষেতেও।

মাঠ পর্যায়ে কাজ করা কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ভাইরাসটির নাম ‘লিফ কার্ল ভাইরাস’। সাদা মাছির মাধ্যমে এটি এক ক্ষেত থেকে আরেক ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে। এবারই প্রথম এই এলাকায় এমন সংক্রমণ দেখা গেল। কৃষকদের অনেকেই ভাইরাসটি সম্পর্কে জানতেন না, ফলে সঠিক সময়ে ওষুধ প্রয়োগ করতে পারেননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এই ভাইরাসের বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে। ঋতুর স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙে গিয়ে অক্টোবর মাসে বৃষ্টিপাত, দিনে অতিরিক্ত গরম ও রাতে শীত পড়ার কারণে ভাইরাসের বিস্তার দ্রুত ঘটছে। এতে করে গাছের পাতা কোঁকড়ে যায়, পুরু হয়ে যায়, ফুল ঝরে পড়ে এবং ফল ধারণ ক্ষমতা কমে যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদ বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। ভাইরাস আক্রান্ত গাছগুলো তুলে ফেলে মাটিতে পুঁতে দিতে বলা হয়েছে। তবে কৃষকদের অনেকেই গাছ তুলে ফেলার ব্যাপারে অনীহা দেখাচ্ছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজি আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে টমেটো চাষ হচ্ছে প্রায় ৭৭৮ হেক্টর জমিতে। এখনও পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার হেক্টরে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা যেমন আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন, তেমনি জেলা কৃষি দপ্তরও সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে এই ভাইরাস মোকাবেলায় সময়মতো সচেতনতা ও ব্যবস্থাপনা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়