শিরোনাম
◈ সরকারি চাকরিজীবীদের এ মাসেই বাড়তি বেতন-ভাতা নিয়ে যা জানাল অর্থ মন্ত্রণালয় ◈ পরমাণু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে চাপ নিতে প্রস্তুত কি দেশের গ্রিড? বড় চ্যালেঞ্জ স্পিনিং রিজার্ভ ◈ ওমা‌নের মা‌ঠে সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ ◈ শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে সময় লাগছে মাত্র ১৫-২০ মিনিট, জানালেন বিমানমন্ত্রী ◈ হা‌রের ক্ষত না শুকা‌তেই আইসিসির শাস্তি পেলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ◈ ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির মামলায় ৯৯ বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন ◈ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ের তথ্য নিয়ে যা বলল পরিবার ◈ ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ দুই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে বার্সেলোনা শিবিরে জোড়া ধাক্কা ◈ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: রায়ের কপি পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ, জানালেন শামা ওবায়েদ

প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:২৯ বিকাল
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লক্ষ্মীপুরে আগাম টমেটো চাষে ভাইরাসের হানা, দিশেহারা কৃষকরা

জাহাঙ্গীর লিটন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের মিয়ারবেড়ি ও সুতার গোপ্টা এলাকায় আগাম টমেটো চাষ করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। জমিতে মারাত্মক লিফ কার্ল ভাইরাসের আক্রমণে গাছ মরে যাচ্ছে, ফলে উৎপাদনের আগেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষিরা।

চাষি মহিউদ্দিন জানান, তিনি এক একর জমিতে আগাম টমেটো চাষ করেছেন। প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। দেড় মাস আগে রোপণ করা গাছে এখন ফুল আসতে শুরু করেছে। আরও দেড় মাস পর ফল বিক্রির আশা ছিল। কিন্তু ভাইরাস আক্রমণে গাছগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। নানা ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করেও লাভ হচ্ছে না। একই পরিস্থিতি পাশের ৮ একর জমিতে টমেটো চাষ করা কৃষক জালালের ক্ষেতেও।

মাঠ পর্যায়ে কাজ করা কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ ভাইরাসটির নাম ‘লিফ কার্ল ভাইরাস’। সাদা মাছির মাধ্যমে এটি এক ক্ষেত থেকে আরেক ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে। এবারই প্রথম এই এলাকায় এমন সংক্রমণ দেখা গেল। কৃষকদের অনেকেই ভাইরাসটি সম্পর্কে জানতেন না, ফলে সঠিক সময়ে ওষুধ প্রয়োগ করতে পারেননি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এই ভাইরাসের বিস্তারে বড় ভূমিকা রাখছে। ঋতুর স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙে গিয়ে অক্টোবর মাসে বৃষ্টিপাত, দিনে অতিরিক্ত গরম ও রাতে শীত পড়ার কারণে ভাইরাসের বিস্তার দ্রুত ঘটছে। এতে করে গাছের পাতা কোঁকড়ে যায়, পুরু হয়ে যায়, ফুল ঝরে পড়ে এবং ফল ধারণ ক্ষমতা কমে যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদ বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। ভাইরাস আক্রান্ত গাছগুলো তুলে ফেলে মাটিতে পুঁতে দিতে বলা হয়েছে। তবে কৃষকদের অনেকেই গাছ তুলে ফেলার ব্যাপারে অনীহা দেখাচ্ছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন শাকসবজি আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে টমেটো চাষ হচ্ছে প্রায় ৭৭৮ হেক্টর জমিতে। এখনও পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার হেক্টরে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা যেমন আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন, তেমনি জেলা কৃষি দপ্তরও সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে এই ভাইরাস মোকাবেলায় সময়মতো সচেতনতা ও ব্যবস্থাপনা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ