শিরোনাম
◈ কক্সবাজারের পাহাড়ি সড়কে দুই দফায় ডাকাতি, ১৫-১৬টি যানবাহনের যাত্রীদের মালামাল লুট ◈ ঢাকা-২৩ আসনের উপনির্বাচন: বিএনপির মনোনয়ন পেতে ৬৯ প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিলেন তারেক রহমান ◈ সরকারি চাকরিজীবীদের এ মাসেই বাড়তি বেতন-ভাতা নিয়ে যা জানাল অর্থ মন্ত্রণালয় ◈ পরমাণু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে চাপ নিতে প্রস্তুত কি দেশের গ্রিড? বড় চ্যালেঞ্জ স্পিনিং রিজার্ভ ◈ ওমা‌নের মা‌ঠে সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ ◈ শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে সময় লাগছে মাত্র ১৫-২০ মিনিট, জানালেন বিমানমন্ত্রী ◈ হা‌রের ক্ষত না শুকা‌তেই আইসিসির শাস্তি পেলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ◈ ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির মামলায় ৯৯ বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন ◈ সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ের তথ্য নিয়ে যা বলল পরিবার ◈ ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত : ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৪১ দুপুর
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

উখিয়া–টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে আবারও ২৪ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ, বাড়ছে স্থানীয়দের উদ্বেগ

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে আবারও নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দফায় দফায় সীমান্ত পেরিয়ে নতুন রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ায় সীমান্ত এলাকার স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া।

সীমান্ত এলাকা ঘুরে জানা যায়, রোববার (১ ডিসেম্বর) ভোর ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত এবং টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত দিয়ে নতুন করে সাতটি পরিবারের মোট ২৪ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে—৭ জন পুরুষ, ৫ জন নারী ও ১২ জন শিশু।

নতুন অনুপ্রবেশে স্থানীয় দালালচক্র সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তে ওত পেতে থাকা এসব দালাল রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে সীমান্ত পার করে দিচ্ছে। এ কাজে কিছু সীমান্তরক্ষীদেরও যোগসাজশ রয়েছে বলে জানান সীমান্তসংলগ্ন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

অনুপ্রবেশের পর পরই এসব রোহিঙ্গা বিনা বাধায় ক্যাম্প–১৩–এর জি/৩ ব্লকে এবং ক্যাম্প–১৯–এর এ/১৬, বি/১৩ ও ৬ নম্বর ব্লকে অবস্থানরত তাদের স্বজনদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

Advertisement

অনবরত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, আট বছর ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগোয়নি, অথচ নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকেনি। এতে উখিয়া–টেকনাফের জনজীবন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

একজন স্থানীয় স্কুলশিক্ষক বলেন, নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। না হলে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বালুখালীর বাসিন্দা ওসমান গণি বলেন, ‘আট বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি, কিন্তু প্রতিদিনই নতুন রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ছে। মিয়ানমারের সমস্যা দেখা দিলেই তারা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল জানলেও দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেই।’

অন্য বাসিন্দা বেদার উদ্দিনের মন্তব্য, শোনা যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই খবর রোহিঙ্গাদের আরও আশান্বিত করছে। এতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও পিছিয়ে যাবে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ গফুর উদ্দিন বলেন, রোহিঙ্গারা শুধু আসতেই আছে, কিন্তু দেশে ফেরার কোনো লক্ষণ নেই। আট বছরে স্বেচ্ছায় একজনও ফেরত যায়নি। এ অবস্থার নেতিবাচক প্রভাব স্থানীয়দেরই বহন করতে হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের ১৩ ও ১৯ নম্বর ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিনিয়র সহকারী সচিব) আল ইমরান বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়টি আমিও শুনেছি এবং এ–সম্পর্কে মেসেজ পেয়েছি।

তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘নবাগত রোহিঙ্গারা ঠিক কোথায় অবস্থান করছে—এটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সব তথ্য পাওয়া যাবে,’ বলেন তিনি। সূত্র: ইনকিলাব

  • সর্বশেষ