শিরোনাম
◈ বৈধ অস্ত্রের ভয়-ভীতি দেখালে কী শাস্তি, লাইসেন্স পেতে কী যোগ্যতা লাগে জানুন নিয়ম ◈ ছবি চালিয়ে বিদ্যুৎ বিলের টাকাও উঠছে না, চিরতরে বন্ধ হচ্ছে গাজীপুরের ‘উল্কা’ সিনেমা হল ◈ কক্সবাজারের পাহাড়ি সড়কে দুই দফায় ডাকাতি, ১৫-১৬টি যানবাহনের যাত্রীদের মালামাল লুট ◈ ঢাকা-২৩ আসনের উপনির্বাচন: বিএনপির মনোনয়ন পেতে ৬৯ প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিলেন তারেক রহমান ◈ সরকারি চাকরিজীবীদের এ মাসেই বাড়তি বেতন-ভাতা নিয়ে যা জানাল অর্থ মন্ত্রণালয় ◈ পরমাণু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে চাপ নিতে প্রস্তুত কি দেশের গ্রিড? বড় চ্যালেঞ্জ স্পিনিং রিজার্ভ ◈ ওমা‌নের মা‌ঠে সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ ◈ শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে সময় লাগছে মাত্র ১৫-২০ মিনিট, জানালেন বিমানমন্ত্রী ◈ হা‌রের ক্ষত না শুকা‌তেই আইসিসির শাস্তি পেলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ◈ ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির মামলায় ৯৯ বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:২৮ দুপুর
আপডেট : ১২ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শিকারীদের বেপরোয়া কার্যকলাপ: নকল ডাক ও ফাঁদে ধরা হচ্ছে অতিথি পাখি

শীতের আগমনে অতিথি পাখিতে ভরে উঠতে শুরু করেছে খুলনার দাকোপের খাল–বিল–ঝিল। কিন্তু এর মাঝেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে স্থানীয় অসাধু শিকারীরা। মোবাইলে রেকর্ড করা নকল ডাক, বিভিন্ন ফাঁদ, আলো ফেলা ও বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে নির্বিচারে ধরা হচ্ছে অতিথি পাখি। পরে এসব পাখি অগ্রিম অর্ডার নেওয়া ক্রেতাদের কাছে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে।

সচেতন মহলের অভিযোগ—অতিথি পাখি নিধন রোধে আইন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ, মাঠ পর্যায়ে নেই বাস্তব প্রয়োগ।

এলাকাবাসীর তথ্যে জানা যায়, প্রতি বছরের মতো এ বছরও নভেম্বর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিলে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসতে শুরু করেছে। পাখির কিচির-মিচিরে এলাকা হয়ে উঠছে মুখরিত। কিন্তু সেই সৌন্দর্যকে বিবর্ণ করে তুলছে শিকারীদের সক্রিয়তা।

শিকারীরা মোবাইলে রেকর্ড করা পাখির নকল ডাক বাজিয়ে সহজেই পাখি নিচে নামিয়ে ফাঁদে ফেলছে। এছাড়াও তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলের খাল-বিল-নদী ও মাঠে নাইলনের সুতার ফাঁদ, কোচ মারা, কারেট জাল পাতা, কেঁচো দিয়ে বশি পেতে—বিভিন্ন উপায়ে পাখি শিকার করছে। পরে এসব পাখি ২৫০–৩০০ টাকা দরে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, কিছু ব্যক্তি এই শিকারীদের ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রচণ্ড শীত থেকে বাঁচতে হিমালয়, সাইবেরিয়া ও শীতপ্রধান দেশগুলো থেকে প্রতি বছর অতিথি পাখি এই এলাকায় আসে। বালি হাঁস, জলপিপি, কোম্বডাক, সরালী, কাস্তে চাড়া, পাতাড়ি হাঁস, কাদা খোচা, হুরহুর, খয়রা, সোনা রিজিয়াসহ বহু প্রজাতির পাখি এখানে দেখা যায়।

১৯৮০-এর দশকে দেশে প্রায় সাড়ে ৩০০ প্রজাতির অতিথি পাখি দেখা গেলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৬০–৭০ প্রজাতিতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিকারী জানান, প্রতি রাতে ধানক্ষেতে বসে মোবাইলে রেকর্ড করা পাখির ডাক অথবা বাঁশির নকল সুর বাজিয়ে পাখি নামিয়ে ফাঁদে ফেলি। পরে আগেই অর্ডার নেওয়া ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করি।

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ (খুলনা অঞ্চল) বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, অতিথি পাখি শিকার বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। কোথাও শিকার বা বিক্রির খবর পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: ইত্তেফাক 

  • সর্বশেষ