শিরোনাম
◈ বৈধ অস্ত্র দিয়ে ভয়-ভীতি দেখালে কী শাস্তি, লাইসেন্স পেতে কী যোগ্যতা লাগে জানুন নিয়ম ◈ ছবি চালিয়ে বিদ্যুৎ বিলের টাকাও উঠছে না, চিরতরে বন্ধ হচ্ছে গাজীপুরের ‘উল্কা’ সিনেমা হল ◈ কক্সবাজারের পাহাড়ি সড়কে দুই দফায় ডাকাতি, ১৫-১৬টি যানবাহনের যাত্রীদের মালামাল লুট ◈ ঢাকা-২৩ আসনের উপনির্বাচন: বিএনপির মনোনয়ন পেতে ৬৯ প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নিলেন তারেক রহমান ◈ সরকারি চাকরিজীবীদের এ মাসেই বাড়তি বেতন-ভাতা নিয়ে যা জানাল অর্থ মন্ত্রণালয় ◈ পরমাণু ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লে চাপ নিতে প্রস্তুত কি দেশের গ্রিড? বড় চ্যালেঞ্জ স্পিনিং রিজার্ভ ◈ ওমা‌নের মা‌ঠে সুপার ওভারে আফগানিস্তানকে হারালো বাংলাদেশ ◈ শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে সময় লাগছে মাত্র ১৫-২০ মিনিট, জানালেন বিমানমন্ত্রী ◈ হা‌রের ক্ষত না শুকা‌তেই আইসিসির শাস্তি পেলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ◈ ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির মামলায় ৯৯ বার পেছাল তদন্ত প্রতিবেদন

প্রকাশিত : ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:৫২ বিকাল
আপডেট : ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ধামরাইয়ে দিশেহারা কৃষক: পানি নিষ্কাশন না থাকায় শত শত হেক্টর জমি পানির নিচে

মো: আদনান হোসেন, ধামরাই ঢাকা: ঢাকার ধামরাইয়ে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সোমভাগ ইউনিয়নের তিন গ্রামের শত শত হেক্টর কৃষিজমি জলাবদ্ধতায় তলিয়ে আছে। সরিষা, ধানসহ শীতকালীন মৌসুমি চাষাবাদ বন্ধ হয়ে পড়েছে, দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারের বেশি কৃষক। কলকারখানার মালিকদের অপরিকল্পিতভাবে মাটি ভরাট ও পানির গতিপথ বন্ধ করে দেওয়াকে জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হিসেবে দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষকরা।

উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের উত্তর জয়পুরা পশ্চিম পাড়ার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ঘুরে দেখা গেছে, বর্ষা শেষ হওয়ার পরও পানি সরতে না পেরে জমি এখনো হাঁটু–সমান পানিতে ডুবে আছে। একসময় এই এলাকায় বর্ষা শেষে খুব সহজেই পানি নিষ্কাশন হতো। ধান, পাট, সরিষা থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের চাষাবাদ হতো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে দুই পাশে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা ও রাস্তা নির্মাণের কারণে পানি যাওয়ার নালা-খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।

৭০ বছরের অভিজ্ঞ কৃষক মো. দুলু মিয়া বলেন,“আগে বর্ষা গেলেই পানি নেমে যেত। জমিতে ধান–পাট–সরিষা সবই চাষ করতাম। এখন মিল–কারখানার মালিকরা যেভাবে খুশি মাটি কেটে বাঁধ দিচ্ছে, ফলে পানি বের হতে পারছে না। তাই জমি বছরের পর বছর পানির নিচে পড়ে আছে।”

সোমভাগ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন,“ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের উত্তর পাশে গড়ে ওঠা কারখানাগুলো নিজেদের সুবিধামতো পানির গতিপথ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হলে হাজার টনের বেশি সরিষা ও ধান উৎপাদন সম্ভব।”

Advertisement

স্থানীয় কৃষক মো. হারুন রশীদ জানান, “এই সময়ে আমরা সরিষা লাগাতাম, পরে ধান। এখন জমিতে এত পানি যে ধান লাগানোও সম্ভব নয়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে আমরা বছরে দুই–তিন ফসলের সুযোগ হারাচ্ছি।”

একই কথা জানান এলাকার এক স্কুলশিক্ষকও। তিনি বলেন,“সহস্রাধিক কৃষকের একমাত্র দাবি—পানি নিষ্কাশন। সময়মতো পানি বের হলে ফসল উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়বে।”

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বলেন,অপরিকল্পিত কলকারখানায় স্থাপনের ফলে মাটি দিয়ে খাল ভরাট হয়ে যাওয়া জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে “সরেজমিনে যাচাই করে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামনুন আহমেদ অনিক বলেন,“এটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। জয়পুরা বাজার এলাকা থেকে নালায় ময়লা ফেলা হয়, পাশাপাশি অপরিকল্পিত মিল–কারখানা নির্মাণে পানি যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। যেহেতু ক্যানেলটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিতে পড়েছে, তাই যৌথ উদ্যোগে সমাধান করা হবে।”

স্থানীয়কৃষকেরা বলছেন,দ্রুতপানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নাহ লে ধামরাই ফসল উৎপাদনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

  • সর্বশেষ