শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৯ জুলাই, ২০২৫, ০৭:৪২ বিকাল
আপডেট : ২৪ আগস্ট, ২০২৫, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গাজীপুরে কাঁঠালের বিচি যেন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার হাতছানি

এ এইচ সবুজ, গাজীপুর: হলুদ রঙের সুমিষ্ট ও রসালো গ্রীষ্মকালীন ফল কাঁঠাল। এখন চলছে পাকা কাঁঠালের ভরা মৌসুম। বর্ষাকালে সিলভার অথবা মাটির পাত্রে (তাওয়ায়) সেঁকা কাঁঠালের বিচি আর চা হলে বিকেলের নাস্তায় আর কিছু না হলেও বেশ চলে। 

তরুণ প্রজন্মের কাছে এই কদর কিছুটা কম হলেও এর বিচি দিনদিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। শহুরে মানুষের থেকে গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে এই বিচির কদর সব সময়ই তুঙ্গে। বর্তমানে বাজারে আলাদা কিনতেও পাওয়া যাচ্ছে কাঁঠালের এ বীজ। অন্যান্য ফলের বিচির তুলনায় কাঁঠালের বিচি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। শরীরে শক্তি সঞ্চয়ের পাশাপাশি হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক,অন্ত্র, মাংসপেশি ইত্যাদির রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। এছাড়াও এতে ম্যাগনেশিয়াম যথেষ্ট পরিমাণে থাকে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে। সুতরাং মন ও দেহ সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কাঁঠালের বিচি থাকতেই পারে। 

আর এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুরে কাঁঠালের বিচি সংগ্রহ করে বাজারজাত করছেন স্থানীয় অনেক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি স্বাবলম্বীও হচ্ছেন তারা। উপজেলার কয়েকজন ব্যবসায়ী দলবেঁধে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে কাঁঠালের বিচি সংগ্রহ করেন। সংগ্রহ শেষে পানিতে ভিজিয়ে ভালোভাবে পরিস্কার করে রোদে শুকিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাজারজাত করেন। এতে করে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। 

শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের যোগীরসিট গ্রামের কাঁচামাল ও মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী আইনুল হক ও গাজী মাহমুদসহ ৮ জন ব্যবসায়ী কাঁঠালের বিচির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শ্রীপুর উপজেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ঘুরেঘুরে কাঁঠাল বিচি সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো বাছাইয়ের কাজ করেন।

সরেজমিন দেখা যায়,একটি হাউজের মধ্যে পানি দিয়ে কাঁঠাল বিচি ধুঁয়ে পরিস্কার করছেন। তারপর সেগুলো রোদে শুকিয়ে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করার কাজ করছেন। নষ্ট বিচিগুলোকে আলাদা করা হচ্ছে। ভালো বিচিগুলো হুইল পাউডার দিয়ে ধোঁয়ার কাজ করছে কয়েকজন। তারা জানায়, পানিতে ভালোভাবে ধোঁয়ার পর সেগুলো রোদে শুকিয়ে বস্তাভর্তি করে বাজারজাত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আমাদের শ্রীপুরে প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল জন্মায়। তবে এই কাঁঠালের বিচি তেমন গুরুত্ব দিয়ে কেউ সংরক্ষণ করে না। এবছর থেকে কাঁঠাল বিচি বিক্রি শুরু হয়েছে দেখে বাড়ির মহিলারা কাঁঠাল বিচি যত্ন করে সংগ্রহ করছে। সেগুলো বিক্রি করে ভালো টাকা পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। 

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী আইনুল হক বলেন,আমরা ৮জন ব্যবসায়ী কাঁঠাল বিচির ব্যবসা করছি। এ কাজের জন্য আমরা কিছু লোককে আমাদের কাজে যুক্ত করেছি। তাদের টাকা-পয়সা দিয়ে গ্রামে গ্রামে পাঠিয়ে দেই কাঁঠাল বিচি সংগ্রহ করতে। সপ্তাহে তিনদিন ধোঁয়া বাছাইয়ের কাজ চলে। ৪-৫ টন কাঁঠাল বিচি সংগ্রহ হলে সেগুলো একসঙ্গে ধোঁয়ার পর রোদে শুকিয়ে বাজারজাত করা হয়।

ব্যবসায়ী গাজী মাহমুদ বলেন, যেখানে কাঁঠাল বিচিগুলো স্থানীয় বাসিন্দারা ফেলে দিতো সেগুলো আমরা কেজি দরে ক্রয় করছি। তাতে করে তারাও লাভবান হচ্ছে। গ্রাম থেকে সংগ্রহ করা কাঁঠাল বিচি প্রক্রিয়াজাত করে ঢাকার কারওয়ান বাজার ও শ্যাম বাজারসহ কয়েকটি বাজারে বিক্রি করা হয়। প্রতিকেজি কাঁঠাল বিচি ১৭-১৮ টাকা কেজি বিক্রি হয়। 

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, শ্রীপুরে কাঁঠালের বিচি সংগ্রহ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে। এটা খুবই ভালো একটা সংবাদ। এটি কিভাবে আরো বেশি প্রসারিত করে ছড়িয়ে দেয়া যায় সে ব্যাপারে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়