ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় ৩৯তম ফোবানা সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মুলত আটলান্টা থেকে ৩৫ মাইল দূরে ডুলুথ শহরের প্রাণকেন্দ্র গ্যাস সাউথ কনভেনশন সেন্টারে গতকাল শুক্রবার (২৯ আগষ্ট) থেকে শুরু হয়েছে উত্তর আমেরিকার প্রবাসীদের বাঙালিদের মিলনমেলাখ্যাত ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোশিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) সম্মেলন।
সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন ঘোষনা করেন ৩৯তম ফোবানা সম্মেলনের আহবায়ক নাহিদুল খান সাহেল। ৩৯তম ফোবানা সম্মেলনের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ রব চৌধুরী, নির্বাহী সাদস্য সচিব আবীর আলমগীর, হোস্ট কমিটির সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া, প্রেসিডেন্ট ডিউক খান, প্রধান সমন্বয়ক গোলাম মওলা দিলু এবং সিনিয়র সহ-আহ্বায়ক কাজী নাহিদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার (তিন দেশের) জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। আয়োজনে আগামী রবিবার (৩১ আগষ্ট) পর্যন্ত চলবে এ সম্মেলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শতশত সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
দু'সপ্তাহ আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের দৃষ্টি পড়ে আটলান্টার ফোবানা সম্মেলনে। কারণ এটিই হচ্ছে মূল ফোবানা সম্মেলন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০টিও বেশি বাংলাদেশি সংগঠনের সাংস্কৃতিককর্মীরা তাদের বৈচিত্রময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনার জন্য আটলান্টায় ছুটে আসেন। ২৫টিরও বেশি অঙ্গরাজ্য থেকে শতশত শিল্পী ও কলা-কুশলীরা এখন অবস্থান করছেন আটলান্টায় ।
আটলান্টায় ৩৯তম ফোবানা সম্মেলন মাইলফলক অর্জনের প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে। আটলান্টার জনপ্রিয় বাংলাদেশি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন 'বাংলাধারা' সম্মেলনের আয়োজক। তিন দিনের এ সম্মেলনে 'প্রবাসী প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈশ্বিকরণে বাংলাদেশের অবস্থান' শীর্ষক শ্লোগানে এবার বৈচিত্রময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ ব্যতিক্রমী সম্মেলন সফলের আশা করছেন আয়োজকরা।
এবারের ফোবানা সম্মেলনে থাকছে মানবাধিকার ও সামাজিক-রাজনৈতিক দিক নিয়ে আলোচনা। স্বাস্থ্য ও সুস্থতা: প্রতিরোধমূলক এবং চিকিৎসাগত দিক। প্রযুক্তি: প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। শিক্ষা, ক্যারিয়ার ও যোগাযোগে প্রযুক্তির প্রভাব। গঠিত পরিবেশ ও জলবায়ু: স্থাপত্য, পরিকল্পনা, শহরায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন।
ব্যবসা ও অর্থনীতি: ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি, উদ্যোক্তা, বাজার এবং অর্থনৈতিক নীতি। শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতি: পাঠদান, সৃজনশীল শিল্প, ডিজাইন, চলচ্চিত্র, মিডিয়া এবং সাহিত্য। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য: ঐতিহ্য সংরক্ষণ, ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মূলধারায় সম্পৃক্ততা। এবারের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটের ইয়থ ও নারী সংগঠনগুলোর বড় ধরনের পার্টিসিপেশন থাকবে।
কন্ঠশিল্পী সামিনা চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি দল সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেবেন। তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর মনোজ্ঞ সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সেমিনার, কাব্য জলসা, সাহিত্যালোচনা, ফোবানা গ্রন্থমেলা, যুব ফোরাম ও নেটওয়ার্কিং, এনআরবি ব্যবসায়ী এবং ব্যবসা সংক্রান্ত আলোচনা,তরুণ মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের স্কলাশিপ অ্যাওয়ার্ড, কারুপণ্য শিল্পের প্রদর্শনী ও বর্ণীল ফ্যাশন শো থাকছে এবারের সম্মেলনে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৮/১০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবারের আটলান্টার ফোবানা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।