মনিরুল ইসলাম: রাজধানীতে নারী চালকদের মাধ্যমে গণপরিবহন পরিচালনার নতুন উদ্যোগ ‘পিংক বাস সার্ভিস’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে আজ। প্রথম দিনেই নারী চালকদের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
সকালে রাস্তায় নামার পর মিডিয়াকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নারী চালকরা তাদের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন। এক চালক বলেন, “ওস্তাদ চাপ দিয়েন না, মহিলা—এই কথা শুনতে হয়। কিন্তু আমি বলি, আমার শরম লাগবে কেন? প্লেনও তো মহিলা চালাচ্ছে।” তার এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, পেশাগত দক্ষতায় নারী-পুরুষ ভেদাভেদ মানতে নারাজ তারা।
আরেক চালক জানান, দীর্ঘ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা বাস চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছেন এবং যাত্রীদের নিরাপদ সেবা দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
প্রথম দিনেই দুর্ঘটনা
তবে যাত্রার প্রথম দিনেই একটি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। জানা যায়, বলাকা পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয় নারী চালিত একটি পিংক বাসকে। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনার জন্ম দেয়।
দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলাকা পরিবহনকে দায়ী করে এবং নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা আরোপ করা হয়। পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এই উদ্যোগের শুরুতেই এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও এটি সামগ্রিক কার্যক্রমে বড় প্রভাব ফেলবে না।
নারী চালকদের আত্মবিশ্বাস
নারী চালকরা বলছেন, সমাজে এখনও অনেকেই নারী চালকদের নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন, কিন্তু তারা কাজের মাধ্যমে সেই ধারণা বদলাতে চান। তাদের মতে, দক্ষতা থাকলে নারী-পুরুষ ভেদাভেদ করার কোনো সুযোগ নেই।
এক চালক বলেন, “আমরা ট্রেনিং নিয়েছি, নিয়ম মেনে গাড়ি চালাই। যাত্রীদের নিরাপত্তা আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী চালকদের মাধ্যমে বাস পরিচালনা শুধু কর্মসংস্থানই বাড়াবে না, বরং গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
পিংক বাস সার্ভিসের মাধ্যমে রাজধানীতে নারীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও প্রথম দিনের দুর্ঘটনা কিছুটা শঙ্কা তৈরি করেছে, তবুও নারী চালকদের আত্মবিশ্বাসী অবস্থান এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।