শিরোনাম
◈ অসমাপ্ত মেগা প্রকল্পে বাড়ছে ব্যয়ের বোঝা, কঠিন চ্যালেঞ্জে সরকার ◈ গাবতলী থেকে হাতিরঝিল হয়ে দাশেরকান্দি যাবে পাতাল মেট্রোরেল, একনেকে উঠছে প্রকল্প ◈ তারেক রহমানের ভারত সফরে বাংলাদেশের ‘কঠিন শর্ত’ : ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর ◈ অসমাপ্ত প্রকল্প, বাড়তি ব্যয়—মেগা বোঝায় চাপে অর্থনীতি ◈ ‘ভিসা পলিসি ২০২৬’: নতুন নীতিমালায় বাংলাদেশের ভিসা ক্যাটাগরিতে যেসব পরিবর্তন আসছে ◈ নারীদের হাতে স্টিয়ারিং: রাজধানীতে দুইতলা বাস চালাবেন নারী চালকরা, স্বপ্ন ও সাহসের নতুন যাত্রা ◈ বিমানের পি‌ঠে মালপত্র, প্রাণ হাতে নিয়ে আকাশপথে যাত্রা ◈ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ: ভারতীয় আইনে কী হতে পারে পরবর্তী ধাপ ◈ বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামানকে দুদক চেয়ারম্যান নিয়োগ ◈ পোশাকের পর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের দ্বিতীয় শীর্ষ রপ্তানি পণ্য ফুটওয়্যার, এক বছরে রপ্তানি বেড়েছে ৫২%

প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৩৮ সকাল
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গাবতলী থেকে হাতিরঝিল হয়ে দাশেরকান্দি যাবে পাতাল মেট্রোরেল, একনেকে উঠছে প্রকল্প

শিগগির আলোর মুখ দেখতে পারে এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ রুট)। প্রকল্পের সবকিছু মোটামুটি প্রস্তুত। রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এ মেট্রো লাইন। হাতিরঝিল অংশের লাইন যাবে টানেল দিয়ে। আফতাবনগর থেকে বাকিটা হবে উড়াল।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। বাকি ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি টাকা যৌথভাবে দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল (ইডিসিএফ)।

প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য রাজধানীর গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে গাবতলী-টেকনিক্যাল-কল্যাণপুর-শ্যামলী-কলেজ গেট-আসাদ গেট-শুক্রাবাদ-কারওয়ান বাজার-হাতিরঝিলের নিচ দিয়ে তেজগাঁও-আফতাবনগরে যাবে মাটির নিচ দিয়ে। মেট্রোরেলের টানেল মাটির উপরিভাগ থেকে ১৬ থেকে ৩৮ মিটার গভীরতায় নির্মাণ করা হবে।

শহরের পশ্চিম থেকে পূর্ব প্রান্তকে মেট্রোরেলের মাধ্যমে যুক্ত করতে এ প্রকল্পকে জাদুকরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

প্রকল্পটি একনেক (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) সভায় তোলার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পরিকল্পনা কমিশন। একনেক সভায় তোলার জন্য অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এরই মধ্যে প্রকল্পের ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) রোববার সই করেছেন।

গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার মেট্রোরেল হবে পাতাল। আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বাকি ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ হবে উড়ালপথে। পুরো রুটে মোট ১৫টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি পাতাল স্টেশন এবং চারটি উড়াল

আগামী বুধবার (১৯ আগস্ট) একনেক সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করবেন। ওই সভায় প্রকল্পটি যদি না ওঠানো হয় তবে পরবর্তী একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে।

গাবতলী থেকে আফতাবনগর পর্যন্ত ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার মেট্রোরেল হবে পাতাল। আফতাবনগর থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত বাকি ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার অংশ হবে উড়ালপথে। পুরো রুটে মোট ১৫টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি পাতাল স্টেশন এবং চারটি উড়াল।

ডিএমটিসিএল জানায়, ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন ও পরিবেশ উন্নয়নে লক্ষ্য দ্রুতগামী, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময়-সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎচালিত, দূরনিয়ন্ত্রিত ও পরিবেশবান্ধব অত্যাধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রবর্তন।

এডিবির সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবছরে যাত্রীরা রুটটি ব্যবহার করতে পারবেন। এই রুট ব্যবহারে ২১ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। বছরে জ্বালানি সাশ্রয় হবে ৪১ দশমিক ২২ হাজার টন। গাড়ি চলাচলের মাধ্যমে অতিক্রান্ত দূরত্ব বছরে ৬৪২ হাজার কিলোমিটার কমবে। রাস্তায় গাড়ি চলাচল কমে যাবে। বায়ুতে প্রতি বছর ২ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ টন কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গমন হ্রাস পাবে।

প্রথমে ছয় কোচবিশিষ্ট ১৯ সেট মেট্রোরেল দিয়ে পরিচালনা শুরু করা হবে। তবে ২০৪০ সাল থেকে ছয় কোচবিশিষ্ট ট্রেন থেকে আট কোচবিশিষ্ট ট্রেনে উন্নীত হবে। মাঝের চারটি কোচের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৩৯১ জন এবং ড্রাইভিং ট্রেলার কোচের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৩৭৪ জন করে প্রতিটি মেট্রোরেলে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৩১২ জন যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা থাকবে।

শুরুতে (২০৩০ সালে) একমুখী ট্রেনে প্রতি ঘণ্টায় ২০ হাজার ১০৭ জন যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে, যা ২০৬০ সালে ৩৮ হাজার ২৫৫ জনে উন্নীত হবে। প্রতিটি ট্রেনে নারীদের জন্য একটি করে আলাদা কোচ থাকবে। ৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড সময়ের মধ্যে মিলবে মেট্রো কোচ। উড়াল মেট্রোরেলের গতি ১০০ কিলোমিটার হলে পাতালে গতি কমে ৯০ কিমি হবে।

প্রকল্পটি একনেক সভায় ওঠানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবারের একনেক সভায় না উঠলেও পরবর্তী একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রকল্পের বড় অংশই পাতাল। গাবতলী থেকে শুরু করে হাতিরঝিল হয়ে আফতাবনগর পর্যন্ত পাতাল হবে, বাকি আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি হবে উড়াল সড়ক।-ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫) দক্ষিণ রুটের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব

ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৫) দক্ষিণ রুটের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রকল্পটি একনেক সভায় ওঠানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বুধবারের একনেক সভায় না উঠলেও পরবর্তী একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে।’

প্রকল্পের বড় অংশই পাতাল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গাবতলী থেকে শুরু করে হাতিরঝিল হয়ে আফতাবনগর পর্যন্ত পাতাল হবে, বাকি আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি হবে উড়াল সড়ক।’

তিনি বলেন, ‘রোলিংস্টকগুলোতে ব্রেক কন্ট্রোল স্কিমে ইলেক্ট্রো-নিউমেটিক সার্ভিস সিস্টেম থাকবে। ফলে ব্রেকিং কন্ট্রোলের সময় ঝাঁকুনির হারও কম হবে। উড়াল মেট্রোরেলের ভায়াডাক্টের উভয় পাশে শব্দ প্রতিবন্ধক দেওয়াল থাকবে এবং পাতাল মেট্রোরেলের টানেল সংলগ্ন মাটি শব্দ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে।’

সার্বিকভাবে পরিবেশ দূষণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, বরং পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।

ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, পাতাল উড়াল স্টেশনে থাকবে আধুনিক লিফট ও চলন্ত সিঁড়ি। স্টেশনের সিঁড়ি, লিফ্ট ও এস্কেলেটর ব্যবহার করে রাস্তার এপার থেকে ওপারে আসা যাওয়া করা যাবে। একইভাবে উড়াল স্টেশনের সিঁড়ি, লিফ্ট ও এস্কেলেটর ব্যবহার করে রাস্তার এপার-ওপার যাতায়াত করা যাবে।

পাতাল অংশে ১১টি স্টেশন রয়েছে, যা অত্যাধুনিক কাট ও কভার পদ্ধতিতে নির্মাণ করা হবে। প্রথমে সড়কের অর্ধেকাংশ ব্যবহার করে উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে প্রায় ২২০ মিটার দীর্ঘ স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ সময়ের পর নির্মাণাধীন স্টেশন ঢেকে দেওয়া হবে অংশ পুরু স্টিল পাত দিয়ে। এ পাতের ওপর দিয়ে অনায়াসে যানবাহন চলাচল করতে পারবে

পথচারীরা রাস্তা পারাপারের জন্য এ ব্যবস্থাকে বিদ্যমান ফুটওভার ব্রিজ/আন্ডারপাসের অতিরিক্ত সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে পথচারীরা পেইড জোন এলাকায় ও প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারবেন না।

পাতাল অংশে ১১টি স্টেশন রয়েছে, যা অত্যাধুনিক কাট ও কভার পদ্ধতিতে নির্মাণ করা হবে। প্রথমে সড়কের অর্ধেকাংশ ব্যবহার করে উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে প্রায় ২২০ মিটার দীর্ঘ স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ সময়ের পর নির্মাণাধীন স্টেশন ঢেকে দেওয়া হবে অংশ পুরু স্টিল পাত দিয়ে। এ পাতের ওপর দিয়ে অনায়াসে যানবাহন চলাচল করতে পারবে এবং অভ্যন্তরে স্টেশন নির্মাণের অবশিষ্ট কাজ চলতে থাকবে।

পাতাল স্টেশন অংশে কাজ চলাকালীন সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোর দুদিকের সমান্তরাল সড়কগুলোতে ট্রাফিক ডাইভারশনের ব্যবস্থা করা হবে।

উন্মুক্ত খনন পদ্ধতিতে প্রতিটি পাতাল স্টেশন নির্মাণকালে উত্তোলন করা মাটির পরিমাণ হবে আনুমানিক ৭০ হাজার ঘনমিটার এবং টানেলসহ মোট ১১টি পাতাল স্টেশন নির্মাণকালে মোট উত্তোলন করা মাটির পরিমাণ হবে আনুমানিক ৩১ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার।

এ বিপুল পরিমাণ মাটি দাশেরকান্দি ও তৎসংলগ্ন নিন্মাঞ্চলের ভূমি উন্নয়ন ও ডিপোর সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যবহার করা হবে। সরকারি মহাসড়ক, সড়ক, বাঁধ ইত্যাদি নির্মাণেও ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানায় ডিএমটিসিএল।

অন্য এমআরটি লাইনগুলোর ডিপোর ভূমি উন্নয়নেও এ মাটি ব্যবহার করা যেতে পারে। কোনো মাটি অবশিষ্ট থাকলে উন্মুক্ত দরপত্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। টানেল মাটির উপরিভাগ থেকে ১৬ থেকে ৩৮ মিটার গভীরতায় নির্মাণ করা হবে।

নতুন এই রুট চালু হলে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন আসবে বলে মনে করে ডিএমটিসিএল।

সূত্র: জাগো নিউস ২৪ 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়