ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের ওয়াসরুমে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শাহ আলম নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে গেলে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তাকে মারধর করে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের শান্ত করে বিকাল ৪ টার দিকে শিক্ষক শাহ আলমকে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ, সোমবার (১৭ আগস্ট) বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীকে তার হাতে চিরকুট লিখে বিদ্যালয়ের ওয়াসরুমে যেতে বলেন। এরপর ছাত্রী ওয়াসরুমে গেলে শিক্ষক তার সঙ্গে যৌন নিপীড়নমূলক আচরণ করেন । পরে ওই ছাত্রী কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়।
পরদিন সকালে শিক্ষক শাহ আলম বিদ্যালয়ে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এতে স্থানীয় গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয়ে এসে তাকে মারধর ও ৩ ঘন্টা ধরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়রা প্রশাসনকে বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন।
বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিয়ার আলী বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রীর কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে প্রায়ই টাকা দিতেন। তবে সোমবারের ঘটনার বিষয়ে ছাত্রীটি বিদ্যালয়ের অন্য কোনো শিক্ষককে না জানিয়ে বাড়িতে চলে যায়। মঙ্গলবার সকালে শিক্ষক শাহ আলম বিদ্যালয়ে এলে স্থানীয় লোকজন তাকে প্রায় তিন ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে তিনি বিদ্যালয়ে যান এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসে বিষয়টি জানান।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, স্থানীয়দের অবরোধ থেকে শিক্ষক শাহ আলমকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে এজাহার দিয়েছেন। এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে বুধবার আদালতে পাঠানো হবে।