এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সুন্দরবন : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেরবিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও জীববৈচিত্র্যের আধার বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের পশ্চিম বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জাধীন কলাগাছিয়া এলাকার লেবু বুনিয়া খাল থেকে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে একটি ডিঙি নৌকাসহ চারজনকে আটক করেছে বন বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চিংড়ি ও সাদা মাছসহ বিভিন্ন ধরনের জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে টহল ফাঁড়ির লেবু বুনিয়ার টেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
যা যা জব্দ করা হয়েছে
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—একটি ডিঙি নৌকা, ৩০ কেজি চিংড়ি মাছ, ১৩৭ কেজি সাদা মাছ, একটি খালপাটা জাল, একটি বেন্দি জাল, পাঁচটি পানির ড্রাম, একটি হাইল, দুটি বৈঠা, তিনটি দা এবং একটি কাটা ড্রাম।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন জানান, রাতে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে লেবু বুনিয়া খাল এলাকা থেকে ডিঙি নৌকা ও মালামালসহ চারজনকে আটক করা হয়।
আটক চারজন
বন বিভাগ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিরা হলেন—
১. মোহাম্মদ মোস্তফা গাজী (৬৪) — পিতা: মৃত নেশার গাজী
২. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান (৪০) — পিতা: শওকত আলী গাজী
৩. মো. আলআমিন গাজী (৪০) — পিতা: শামসুর রহমান গাজী
৪. মোহাম্মদ ইয়ারুজ্জামান — পিতা: মৃত মজিবর রহমান
তাদের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা এলাকায় বলে জানা গেছে।
বন আইনে মামলা, জেলহাজতে প্রেরণ
আটক চারজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় বন মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন।
তিনি বলেন, সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ থাকার সময়ে কোনো বনজীবী যাতে অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য বন বিভাগের বিশেষ টিম নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এই অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
এরফান উদ্দিন আরও বলেন, সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পুনরায় দেওয়া হলেও বিশেষ টিমের অভিযান বন্ধ হবে না। বনজীবীরা যাতে কোনো ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সুন্দরবন রক্ষায় অব্যাহত থাকবে অভিযান
সুন্দরবন বাংলাদেশের উপকূলীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধার। বন বিভাগের নিয়মিত টহল ও অভিযান অবৈধ অনুপ্রবেশ, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার এবং অনিয়ন্ত্রিত আহরণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।