শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ২৮ মে, ২০২৬, ০৭:৩৬ বিকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৬৫০ টাকা কেজি দরে কোরবানির মাংস বিক্রি

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। যা কোরবানির ঈদ নামে পরিচিত। মূলত, ঈদুল আজহার নামাজ শেষে কোরবানির পশু জবাইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সবাই। রাজধানীর অলিগলি, গ্যারেজ ও নির্দিষ্ট কিছু ফাঁকা জায়গায় পশু কোরবানি হচ্ছে। কেউ কেউ আবার আগামীকালও পশু কোরবানি দেবেন।

এদিকে, গরু কেনা থেকে শুরু করে নির্দিষ্ট হাসিল পরিশোধ এবং অন্যান্য খরচ হিসেব করলে দেখা যায়, কোরবানির মাংসের দাম দাঁড়ায় কেজি প্রতি প্রায় ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা (ক্ষেত্রবিশেষে গরু কেনার ওপর নির্ভর করে এ দাম)। তবে গরুর বাজার এবার কিছুটা কমতির দিকে ছিল। বিশেষ করে চাঁদ রাতে তুলনামূলক কিছুটা কম দামেই গরু বেচা-কেনা হয়েছে হাটগুলোতে। তবে যাইহোক না কেন, সবমিলিয়ে মাংসের দাম কেজি প্রতি দাঁড়ায় কমপক্ষে ৯০০-৯৫০ টাকা। অথচ সেই মাংসই এখন হাত ঘুরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬৫০ টাকা দরে।

advertisement

প্রতি বছরের ন্যায় দুপুরের পর থেকেই এবারও চোখে পড়ছে সেই চিরচেনা দৃশ্য। মূলত সন্ধ্যার পর থেকে এ বিষয়টা আরও বেশি পরিলক্ষিত হয়। বেলা যত গড়ায় রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে চোখে পড়ে এসব অস্থায়ী মাংসের হাট। এবারও দেখা গেল সে একই চিত্র। শহরের প্রধান রাস্তা এবং সংযুক্ত অলিতে-গলিতে অস্থায়ী এ বাজারে তুলনামূলক কম দামে মাংস বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ, মিরপুরের কালশী এলাকা, উত্তর বাড্ডা, রামপুরা বাজার, খিলগাঁও তালতলা, সূত্রাপুরের লোহারপুল এলাকা, জুরাইন রেলগেট এলাকায় এ দৃশ্য পরিলক্ষিত হচ্ছে।

মূলত সকাল থেকে ভিক্ষুক এবং গরিব-অসহায় মানুষেরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি থেকে যে মাংস সংগ্রহ করেছেন, সেটাই তারা এসব স্থানে বিক্রি করছেন। কিন্তু এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ীও। বাড্ডা এলাকার এক ভ্রাম্যমাণ (ভ্যানে করে বিক্রি করেন) কাবাব বিক্রেতা জানান, দোকান থেকে মাংস কিনতে গেলে কেজি প্রতি কমপক্ষে ৭৮০ টাকা লাগে। তাই এ সময় কমদামে কিছু মাংস সংগ্রহ করে রাখছি। একই রকম জবাব দিলেন মিরপুরের কালশী রোডের এক ভ্রাম্যমাণ হালিম বিক্রেতা। তিনি হালিমের মাংস হিসেবে এগুলো সংগ্রহ করে রাখছেন। ভবিষ্যতে কাজে লাগাবেন।

advertisement

মিরপুরে ভ্যানে করে কোরবানির মাংস বিক্রি করছেন এমন বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অসহায় ও দুস্থ মানুষেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানির মাংস সংগ্রহ করেন। এরপর সেগুলো বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে দেন। এরপর তারা সেগুলো ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করেন। এসব মাংসের ক্রেতারা দাবি করে বলছেন, কসাইয়ের কাছে মাংস কিনলে সেগুলোতে চর্বি ও হাড়ের পরিমাণ অনেল বেশি থাকে। তবে, ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলো থেকে কেনা কোরবানির মাংস নাকি ভালো মানের হয়, চর্বি-হাড় কম হয়।

আজ বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে সূত্রাপুরের লোহারপুল এলাকায় এরকম অনেক মাংস বিক্রেতার দেখা মিলল। চটের ব্যাগে করে ছয় কেজি মাংস এনেছেন বিক্রির জন্য। এখানে কেন এনেছেন, এমনটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকাল থেকে অনেক মাংস সংগ্রহ করেছি। এগুলো সংরক্ষণ বা রান্না করে খাওয়ার ক্ষমতা নেই। এর চেয়ে বরং কিছু মাংস বিক্রি করে সেটা দিয়ে পরবর্তীতে সংসারের খরচে লাগানো যাবে।

advertisement

তবে ক্রেতা বা বিক্রেতা-যে যাই বলুক না কেন, একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। এসব মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে চলে যাওয়ায় মাংসের মান কতটা ঠিক থাকবে। কারণ বাসাবাড়ি থেকে বিভিন্ন মাংস একত্রিত করে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনিতেই এখন কিছুটা ভ্যাপসা গরম। এর ওপর ঠিকমতো সংরক্ষণ করা হচ্ছে না এগুলো। তাই পরবর্তীতে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যখন এসব মাংস বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করবে, তখন এর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে-এমনটাই বললেন পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

  • সর্বশেষ