শিরোনাম
◈ প্রটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এগিয়ে যাওয়ার পরই বদলি রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (ভিডিও) ◈ বিশ্বজুড়ে ভয়ংকর ‘তাপঝড়’, প্রভাব পড়েছে পৃথিবীর ৮৫ শতাংশ এলাকায় ◈ ফোডেনের হ্যাটট্রিক, ম‌্যান‌চেস্টার সিটির বড় জয় ◈ বৃহস্প‌তিবার থেকে চট্টগ্রামে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‌ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হ‌চ্ছে ◈ রজনীকান্তের টানে হলের সব টিকিট কিনলেন ক্রিকেটার সঞ্জু স‌্যামসন! ◈ রাজপথে লড়াই করা নেতারাই আজ কোণঠাসা ◈ মিনিটেই শেষ ট্রেনের সব টিকিট, এবার টিকেটিং ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনছে রেলওয়ে ◈ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল ◈ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৩ লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা, ঘণ্টায় গড় আয় ২০ ডলারের বেশি ◈ সৌদি আরবের স্বাস্থ্য খাতে ৪ হাজার ২৯১ চাকরি, বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন?

প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট, ২০২২, ০৬:৩১ বিকাল
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২২, ০১:৪৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মার্কিন নাগরিকের আইফোন পেয়ে ফিরিয়ে দিলেন রিকশাচালক

আমিনুল ইসলাম

মিনহাজুল আবেদীন: রিকশাচালকের নাম আমিনুল ইসলাম। তিনি রাজধানীর গুলশান এলাকায় রিকশা চালান। ৫ আগস্ট রিকশায় যাত্রী বসার গদির ফাঁকে বন্ধ অবস্থায় তিনি একটি মুঠোফোন (আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স) পান। ৯ আগস্ট পুলিশের মাধ্যমে মুঠোফোনটি তিনি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেন।

আমিনুল বলেন, ৮ বছর ধরে গুলশান এলাকায় রিকশা চালান। ৫ আগস্ট গুলশান-২ নম্বর এলাকায় যাত্রী নামিয়ে দেয়ার পর তিনি গদির ফাঁকে মুঠোফোনটি দেখতে পান। দেখে মনে হয়, মুঠোফোনটি বেশ দামি। মুঠোফোনটি বন্ধ অবস্থায় ছিলো। চার্জ না থাকায় চালু করা যাচ্ছিলো না। ফলে মুঠোফোনটির মালিক কে, তা বুঝতে পারছিলেন না।

তিনি বলেন, মুঠোফোনটির মালিককে খুঁজে বের করাতে তা চালু করার দরকার ছিলো। তাই তিনি উত্তর বাড্ডার একটি দোকানে গিয়ে চার্জার কেনার চেষ্টা করেন। কিন্তু দোকানদার চার্জারের দাম অনেক বেশি চান। তাই তিনি চার্জার না কিনে ফিরে আসেন। পরে তিনি মুঠোফোনটির সিম খুলে ফেলেন। নিজের মুঠোফোনে সিমটি চালু করেন। সিম চালু করার পর এক নারীর ফোন আসে। তিনি মুঠোফোনটির মালিকানা দাবি করেন। তখন তিনি ওই নারীকে মুঠোফোনটি নিয়ে যেতে বলেন। পরে তিনি পুলিশের মাধ্যমে মালিকের কাছে মুঠোফোনটি ফিরিয়ে দেন।

সীমা আহম্মেদ নামের ওই নারীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, মুঠোফোনটি তার ছেলে স্যামি আহম্মেদের। তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন। সেদিন তিনি ছেলেকে নিয়ে রিকশায় করে রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন। পথে মুঠোফোনটি হারিয়ে ফেলেন। মুঠোফোনে চার্জ ছিলো না। তাই কলও করা যাচ্ছিলো না। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। একপর্যায়ে সিম চালু পান। ফোন করলে এক রিকশাচালক ধরেন। তিনি মুঠোফোনটি পাওয়ার কথা জানান। মুঠোফোনটি নিয়ে যেতে বলেন। তারা পুলিশকে এ তথ্য জানান। পরে আমিনুল পুলিশের কাছে মুঠোফোনটি পৌঁছে দেন। মুঠোফোন ফিরে পেয়ে তারা বেশ খুশি।

গুলশান থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল কাদির বলেন, মার্কিন নাগরিক সীমা আহম্মেদ তার ছেলেকে নিয়ে রিকশায় চড়ে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন। সে সময় অসাবধানতাবশত মুঠোফোনটি পড়ে যায়। পরে তিনি গুলশান থানায় জিডি করেন। মুঠোফোনটিতে রোবট তৈরির একটি প্রকল্পের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত ছিলো। আমিনুল মুঠোফোনটি পেয়ে সততার সঙ্গে ফেরত দিয়েছেন।

আমিনুল জানান, তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে। স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে নিয়ে তিনি থাকেন বাড্ডা এলাকায়। জেসমিন একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাদের দুই সন্তান আছে। তারা নানির কাছে থেকে লেখাপড়া করে। অভাবের কারণে আমিনুল অষ্টম শ্রেণির পর আর লেখাপড়া করেননি। তবে তিনি কষ্ট করে হলেও তার দুই সন্তানকে লেখাপড়া করাতে চান। সন্তানদের নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন। ঢাকায় থাকাখাওয়া, লেখাপড়ার খরচ অনেক বেশি। তাই সন্তানদের গ্রামে রেখেছেন আমিনুল। তিনি প্রতি মাসে সেখানে খরচের টাকা পাঠিয়ে দেন। প্রথম আলো

তিনি আরও বলেন, তিনি গরিব। সংসারে অভাব আছে। কিন্তু অন্যের সম্পদের ওপর তার কোনো লোভ নেই। সততা নিয়েই বাঁচতে চান তিনি।