প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্বের প্রথম থ্রিডি প্রিন্টেড মাংস, দেখতে অবিকল আসলের মতো

নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের প্রথম থ্রিডি প্রিন্টেড ‘ওয়াগউ বিফ’ প্রকাশ্যে এনেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, এই মাংসটি ‘অবিকল আসলের মতো’ এবং ল্যাবে স্টেম সেল থেকে এই মাংস তৈরি করা হয়েছে। খবর ডেইলি মেইলের। আরটিভি

এর আগে বিজ্ঞানীরা কখনও ল্যাবে স্টেক তৈরি করতে পারেননি। আগে ল্যাবে তৈরি হওয়ার বেশির ভাগ ‘কালচারড’ মাংসই ছিল ছোট ছোট দানাদার। এসব মাংসের ফাইবার খুব জটিল ছিল না।

কিন্তু স্টেক বিশেষ করে ওয়াগউ বিফে চর্বি, পেশী এবং শিরা রয়েছে যা মার্বেলিং ইফেক্ট সৃষ্টি করে। আর থ্রিডি প্রিন্টিং টেকনিক ব্যবহার করে সেটাই হুবহু তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা।

এই গবেষণার লেখক ডং-হি কাং বলেছেন, এই আবিষ্কারের ফলে কালচারড মাংসের জন্য টেকসই ভবিষ্যতের দুয়ার খুলে যেতে পারে। এর ফলে বিদ্যমান মাংসের মতো মাংস তৈরি করা সম্ভব হবে।

এই স্টেক তৈরি করতে কত টাকা খরচ হয়েছে বা কবে নাগাদ এই মাংস বাজারে আসবে সে ব্যাপারে অবশ্য কিছু জানায়নি গবেষক দলটি।

ওয়াগউকে ইংরেজি ভাষায় রূপান্তর করলে এর অর্থ দাঁড়ায় ‘জাপানিজ গরু’। এই মাংস বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত। এটার মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে ‘ইন্ট্রামাসকুলার ফ্যাট’ এবং মার্বেলিং থাকে।

এই মার্বেলিং ইফেক্টের কারণে এই স্টেক অত্যন্ত সুস্বাদু হয়ে থাকে। আর এজন্যই এই মাংস বিশ্বের সবচেয়ে দামি স্টেক।

তবে বর্তমানে পশুপালনের কৌশলগুলো অস্থিতিশীল বলে বিবেচনা করা হয়, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্ভিদভিত্তিক বিকল্প এবং এ ধরনের কালচারড মাংসের চাহিদা বাড়ছে।

গবেষক দলটি জানিয়েছে, বর্তমানে প্রচলিত ‘কালচারড মিট’ দুর্বলভাবে সংগঠিত পেশী ফাইবার কোষ দিয়ে তৈরি হচ্ছে, যা প্রকৃত গরুর স্টেকের জটিল গঠন পুনরুত্পাদন ব্যর্থ।

জাপানি গবেষকদের দলটি বলছে, তারা এমন একটি থ্রিডি প্রিন্টিং পদ্ধতি তৈরি করেছেন যার মাধ্যমে কিনতারো ক্যান্ডি যেভাবে বানানো হয়, সেই একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষকরা থ্রিডি প্রিন্টিং ব্যবহার করে পেশী, চর্বি এবং রক্তনালীর মতো বিভিন্ন টিস্যু তৈরি করেন এবং পরে সেগুলোকে সংহত করেন।
গবেষণার লেখক বলছেন, এর ফলে ‘সিনথেটিক মাংস’ উৎপন্ন হয়, যেটা দেখতে অনেকটা সত্যিকারের স্টেকের মতো। তিনি আরও বলেন, একই পদ্ধতি ব্যবহার করে আরও জটিল কাঠামো তৈরি করা সম্ভব।

গবেষকদের দল জানিয়েছেন, তারা বোভাইন স্যাটেলাইন সেল এবং অ্যাডিপোস-উৎপন্ন স্টেম সেল, এই দুই ধরনের সেল ব্যবহার করেছেন।

তারা বলছেন, ল্যাবের পরিস্থিতি অনুকূল থাকা সাপেক্ষে এই দুই সেল একত্র করে প্রয়োজনীয় যেকোনো ধরনের সেল তৈরি করার মাধ্যমে কালচারড মিট তৈরি করা সম্ভব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত