প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শাহনাজ খুশি: ‘মডেল’, ‘অভিনেত্রী-অভিনেতা’ ‘আগাছা’ এবং মিডিয়ার দায়িত্বশীলতা

শাহনাজ খুশি: একজন মানুষ হঠাৎ কিছু টাকা, কিংবা ত্রাণ বিতরণ করে, অথবা মেম্বার/চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে, কোনো রাজনৈতিক দলে নাম লেখালেই যেমন রাজনীতিবিদ হয়ে যায় না। তেমনি কেউ কোনো সুন্দরী প্রতিযোগীতায় আবেদন করেছিল, অথবা সম্পর্কের সুবাধে বা টাকা/ক্ষমতার জোরে, ২/৪টা নাটক, বিজ্ঞাপনের কোনো একটা কোণায় অংশগ্রহণ করলেই সে মডেল বা অভিনেত্রী হয়ে যায় না। এখন তো কারও অভিনয় করবার শখ থাকলেই, প্রোফাইল ফাইল-আপ করে মডেল/অভিনেত্রী লিখে দিয়ে। ‘রাজনীতিবিদ’ অভিনেত্রী/মডেল’ এ বিশেষণগুলোই বিশেষিত হওয়ার জন্য, নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হয়। লোভ সংবরণ করে, রোজ একটু একটু করে সীমাবদ্ধ অন্ধকারকে দু-হাতে পেছনে ঠেলে, ঐতিহ্যের আলোর নিচে গিয়ে দাঁড়াতে হয়। মানুষের ভালোবাসার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। প্রতিদিনের চর্চায় বিন্দু বিন্দু করে অভিনেত্রী/রাজনীতিবিদ হয়ে উঠতে হয়। ধারণ করতে/বহন করতে হয় সেটা, ওঠাবসা, কথা, পোশাক, রুচি, পরিমন্ডল, পরিবার, দর্শন, ইত্যকার যাবতীয় সব কিছুতে।

আপনি বহন করবেন আপনার আর্দশ, আর জনগণ বহন করবে আপনার আকার/প্রকার/সত্য। এটাই সত্য। তাহলে কেন নিউজগুলো প্রতিদিন এমন হচ্ছে। সকালে মডেল ‘মৌ’ দেখে রীতিমতো ঘাবড়ে গেলাম। কারণ মডেল মৌ বলতে সারা দেশের মানুষ সাদিয়া ইসলাম মৌকেই জানে। অভিনেত্রী থানায়, দেখে কুণ্ঠিত হয়ে যায়। বারবার একই হেডিংয়ে বিব্রত হতে হয়, অভিনয় এবং মডেলিং পেশায় থাকা মানুষের পরিবারগুলোকে। কারও ব্যক্তিগত উশৃঙ্খলতাকে এতো প্রচার করারই বা কি আছে? তাও কিনা যখন দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৩০ থেকে ২৪০ জন মানুষ মারা যাচ্ছে। এ্যাম্বুলেন্স গুলোর বিরামহীন লাশ এবং রোগী টানার সাইরেনে কাতর হচ্ছে সমগ্র সারা শহর/গ্রাম। ডেঙ্গু সহ চিকিৎসা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে দিশেহারা সারাদেশের মানুষ।

প্রিয়জন হারিয়ে সান্ত্বনার জায়গা নেই কারও। মৃত্যু এখন সংখ্যা শুধু। সেখানে প্রহসনের এই নিউজগুলো এতো ফলাও করবার কি এতো প্রয়োজন আছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার বেশি খারাপ লাগে এটা ভেবে যে, ইন্টানেটের কারণে সারা দুনিয়া জানছে এ কথা। সে হোক কোনো ক্রিকেটার/মডেল/অভিনেত্রী/ব্যাংকার অথবা গৃহবধু। সব তো এই ছোট/অসুস্থ দেশটার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ…। যাদের নিউজ নিয়ে এতো হামলে পড়েছেন, তাদের এই নিউজের আগে, ওই পরিচয়গুলোতে কেউ চিনতো না, অথবা কেউ হয়তো তার কাজ থেকে সরে গেছে বহু বছর আগেই। মিডিয়া পচলে দেশ আলোকিত হবে না। মিডিয়াই দেশের একটা ঐতিহ্যের আলো ধরে রাখে, বহন করে। পারলে সে আলোটুকু রক্ষা করেন। এসব আগাছা নিরবে বেছে ফেলেন। আর হ্যাঁ, আগাছা, কিন্তু আগাছায়। এর কোনো আলাদা নাম নেই। আলাদা পদ নেই। না সংস্কৃতিতে, না রাজনীতিতে।

বিঃদ্র : (যারা মিডিয়ার কর্ণধার, যাদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদদে তরতর করে বেড়ে উঠছে এমন আগাছা, তারাও বোধ করি এ দায়ভার এড়িয়ে যেতে পারবেন না!) লেখক : অভিনেত্রী। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত