প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আমি কে চিনিস’ এই জিনিস কোনো সভ্য দেশে পাবেন না

কামরুল হাসান মামুন, ফেসবুক থেকে, আমার ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার এসএমএস এসেছে। এখন আমারতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কোন আইডি নাই। আবার বাবা মুক্তিযোদ্ধাও না। এখন আমার কি হবে? যদিও গাড়িতে একটা স্টিকার আছে। কিন্তু যেখানে এই প্যান্ডেমিক সিচুয়েশনে একজন এপ্রোন পড়া ডাক্তার যার গাড়িতেও স্টিকার আছে তাকে যেই পরিমান হেনস্তা হতে দেখলাম এবং তাতে সেই ডাক্তারের প্রেসার যেই পরিমান বাড়তে দেখলাম তাতে আমি মারাত্মক ভয় পেয়েছি।

এইরকম পরিস্থিতিতে নির্ঘাত আমার স্ট্রোক করত এবং তাৎক্ষণিক মারা যেতে পারতাম। তবে একটু আধটু ক্ষমতা থাকলে স্ট্রোক করে না বরং তারা বলে: “আমি কে চিনিস”! এইটা সকল স্কেলেই পাওয়া যায়। অর্থাৎ একদম উঁচু তালার ক্ষমতাবান থেকে শুরু করে পাড়ার উঠতি মাস্তানের মুখেও শোনা যায়। এই জিনিস কিন্তু কোন সভ্য দেশে পাবেন না। ভিআইপি বা “আমি কে চিনিস” এইগুলোর একটা প্যাটেন্ট নিয়ে নেওয়া উচিত।

পরিস্থিতিটা বুঝুন মহিলা কেবলই কোন চেংড়া সদ্য এমবিবিএস পাশ ডাক্তার না। তিনি সহযোগী অধ্যাপকও। তার পরনে সাদা রঙের এপ্রোন আছে এবং তিনি নিজ গাড়িতে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। এরপরও পুলিশ জিজ্ঞেস করতে পারতেন “আপনি কি ডাক্তার?” এই পর্যায়েতো কারো রাগারাগির প্রশ্ন আসেনা। এরপরও পুলিশ কেন বিশ্বাস করলেন না যে উনি ডাক্তার? যদি কোন কারণে বিশ্বাস না হয়ে থাকে তাহলে চুপি চুপি উনার পিছু নিতে পারতেন বা গোয়েন্দা লাগিয়ে খোঁজ নিতে পারতেন। আমরা যেই সময় অতিবাহিত করছি সেই সময়ে ডাক্তার হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পেশা। সেই সময়ে একজন ডাক্তারকে কেন উত্তেজিত করা হলো? কেন তাকে হেনস্থা বা উত্তক্ত করা হলো? কেবল সময়ের কারণে এখন ডাক্তারদের মধ্যে এক ধরণের অহমবোধ কাজ করতেই পারে। যেইভাবে তেক্ত করা হয়েছে তাতে সেই ডাক্তার মাথা ঠিক রাখতে পারেননি। তারপর উনি যা করেছেন তা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। উনার করা উচিত হয়নি। সব কিছুর একটা cause এবং effect আছে। এখানে আমরা ইফেক্ট নিয়ে বেশি চেল্লা ফাল্লা করছি কিন্তু cause টা নিয়ে তলিয়ে ভাবছি না। Cause টা হলো পুলিশ কেন তার এপ্রোন এবং গাড়ির স্টিকার থাকার পরও ঘটনাকে ওই দিকে টেনে নিল? ঢাকা শহরের কয়জন মানুষ তার আইডি নিয়ে ঘুরে?

তবে এরপর সবাই তাদের নিজ নিজ মুক্তিযোদ্ধা বাবাকে টেনে এনে অসভ্যতা দেখিয়েছেন। বাবা মুক্তিযোদ্ধা বলে আপনাদের কারো অসভ্য খারাপ আচরণ জায়েজ হয়ে যায় না। বরং আপনাদের বাবার যেই জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন সেই কারণটাকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন। উনাদের স্যাক্রিফাইসকে আপনারা অপমান করেছেন। বাবা মুক্তিযোদ্ধা বলে এক্সট্রা favor পাওয়া বা নিয়ে পদ পদবি ও প্রমোশন নিলে এইরকম ঔদ্ধত্যপনা চলে আসে। নিয়ে পদ পদবি ও প্রমোশন ইত্যাদি কেবল যোগ্যতার নিরিখেই অর্জনের বিষয়। এই জায়গায়টাতেই আমাদের একটা গলদ। উনারা মুক্তিযুদ্ধতো এই জন্য করেননি যে ভবিষ্যতে তার ছেলেমেয়েরা এইটাকে ভাঙিয়ে চাকুরী নিবে, প্রমোশন নিবে, আকাম কুকাম করবে।

আরেকটা বিষয়। এই ধরণের ঘটনা কখন ঘটে? যখন একজন মানুষের উপর অর্পিত ক্ষমতা আর অর্জিত জ্ঞান যদি সমানুপাতিক না হয়। তখনই তারা ধরাকে সরা জ্ঞান করে। সরকারের প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশের প্রায় সকল বাবা-মায়েরা সন্তানদের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বানাতে চান কিন্তু তারাই আবার ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারদের নাজেহাল করেন। এর শানে নূযুলটা আজও বুঝতে পারলাম না।

সর্বাধিক পঠিত