প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. রায়হানা শামস্ ইসলাম : বিজ্ঞানে নারী, বিশ্ব ও বাংলাদেশ

ড. রায়হানা শামস্ ইসলাম : ১১ ফেব্রুয়ারি ছিল ‘International Day of Women and Girls in Science’। নানা ধরনের অসংখ্য দিবস পালনের ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত অনীহা আছে। তা সত্ত্বেও এ বিশেষ দিবসের পরিপ্রেক্ষিতে কলম ধরলাম, কারণ বিষয়টি আমার দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানজগতের একজন নারী হিসেবে এবং কন্যাসন্তানের জননী হওয়ায় প্রসঙ্গটি একেবারেই আমার নিজস্ব যেন! সাধারণভাবে শিক্ষায় নারীর অগ্রগতি, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নারীর অংশগ্রহণ সবসময়ই গুরুত্ববহ এক আলোচনার ক্ষেত্র। উপরন্তু বিজ্ঞানশিক্ষায় মেয়েদের বর্তমান অবস্থান ও সার্বিকভাবে নারীর বিজ্ঞানপ্রবণতা মনোযোগী পর্যালোচনার দাবি রাখে। পরিস্থিতি অনুধাবনের জন্য পাঠকদের সামনে প্রথমে কিছু পরিসংখ্যান পেশ করতে চাই।

STEM (Science, Technology, Engineering & Mathematics) ফিল্ডে নারীদের বর্তমান অবস্থান কী? যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী সে দেশের বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ৪৩ শতাংশ পেশাজীবী হলেন নারী। ইউরোপিয়ান কমিশনের তথ্যসূত্রে ইউরোপে ৪২ শতাংশ STEM-পিএইচডিধারী হলেন নারী। নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক পরিসংখ্যান। ইউনেস্কো বলছে, সারা বিশ্বে বিজ্ঞানে গবেষকদের এক-তৃতীয়াংশ নারী। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া এদিক দিয়ে অগ্রণী অবস্থায় আছে। এখানে প্রায় ৫০ শতাংশ নারী গবেষক STEM ফিল্ডে। ইরান ও আরব দেশগুলোও খুব ভালো অবস্থানে আছে। তুলনায় যদি জাপানকে বিবেচনা করি, এ সংখ্যা মাত্র ২৫ শতাংশ।

এখানে বলে রাখা ভালো, বিজ্ঞান ক্ষেত্রে নারীদের যে পরিসংখ্যান, তা অনেকটাই লাইফ সায়েন্স বা মেডিসিনের কল্যাণে। এ শাখাগুলোতে নারীদের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি। বিপরীতে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং বা কম্পিউটার টেকনোলজিতে নারীদের অংশগ্রহণ এখনো অনেক অপ্রতুল। বেশি গণিত-ঘনিষ্ঠ বিষয়গুলোতে মেয়েদের সংখ্যা এক-পঞ্চমাংশ মাত্র। একটা পুরুষবাচক মানসিক ইমেজ বিরাজ করে গণিতঘন বিষয়কে ঘিরে। এর প্রতিফলন আমরা সর্বোচ্চ স্তরেও দেখতে পাই। পদার্থবিজ্ঞানে এ-যাবৎ নোবেল পেয়েছেন মাত্র চারজন নারী। গণিতের সর্বোচ্চ পুরস্কার বলে খ্যাত ফিল্ডস মেডেল পেয়েছেন একজন মাত্র নারী, ইরানের মারিয়াম মির্জাখানি। সেই তুলনায় রসায়নে সাতজন ও মেডিসিনে নোবেল জিতেছেন ১২ জন। কভিড-১৯ গবেষণায় যারা শীর্ষ ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে নারীরা অন্যতম। ড. কেজমিকিয়া করবেট ও ড. ওজলাম টুরেসি এমন দুটি নাম।

মেয়েদের স্নাতক পর্যায়ে বিজ্ঞানকে বেছে নেয়ার বিষয়টি যদি আমরা বিবেচনা করি তাহলে দেখব যুক্তরাষ্ট্রে নারী গ্র্যাজুয়েটের মোট সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে অনেকটা বেশি (নারী ৫৮ শতাংশ) হওয়া সত্ত্বেও STEM গ্র্যাজুয়েট নারীরা ৩৮ শতাংশ। আবার STEM-এ মেডিসিন বা লাইফ সায়েন্সে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় অনেক বেশি। দক্ষিণ কোরিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তুলনায় মেডিসিনে মেয়েরা চার গুণ। মালয়েশিয়ায় ফার্মেসি পড়ছে যত মেয়ে, তার অর্ধেক পড়ছে ইঞ্জিনিয়ারিং। সুতরাং সেই একই চিত্র—গণিতপ্রধান ক্ষেত্রগুলোতে মেয়েদের অংশগ্রহণের প্রবণতা কম।

স্নাতক পর্যায়ে STEM-নারী পরিসংখ্যান: কানাডা ৪৪ শতাংশ, যুক্তরাজ্য ৩৫, দক্ষিণ কোরিয়া ৩৯, জাপান ২৫, শ্রীলংকা ৪৭, মালয়েশিয়া ৫৯, ব্রুনাই ৫৭ ও ইরান ৬৭ শতাংশ (তথ্যসূত্র: ইউনেস্কো, OECD ও অন্যান্য)। আমরা দেখতে পাচ্ছি, মুসলিম দেশগুলোই এদিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে। ভারত সরকারের তথ্য (২০১৮-১৯) অনুসারে ভারতে নারী স্নাতক আইটি/কম্পিউটার ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ, বিজ্ঞানের অন্যান্যতে ৫৪ শতাংশ ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৩১ শতাংশ। আইটি ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিবেচনা করলে নারীদের ক্ষেত্রে ভারতকে বিশ্বের মধ্যে একটি ব্যতিক্রম ধরতে হবে!

স্নাতক পর্যায়ে STEM-নারীর গ্লোবাল গড় ৩৫ শতাংশ। এবার বাংলাদেশের দিকে তাকাই। সাধারণভাবে যদি বলি, স্কুল পর্যায়ে বাংলাদেশে জেন্ডার প্যারিটি ইনডেক্সের প্রভূত উন্নতি হয়েছে। গত দুই দশকে মেয়েদের সেকেন্ডারি স্কুল এনরোলমেন্ট আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এখন মেয়েদের সংখ্যাই (৫৪ শতাংশ) ছেলেদের চেয়ে বেশি। এসএসসিতে মেয়েদের পাসের হারও ছেলেদের তুলনায় ভালো। তবে বোর্ডগুলোর পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, কলেজে এসে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বিজ্ঞান বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশে স্নাতক শিক্ষায় STEM ক্ষেত্র বেছে নেয়া মেয়েদের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। জেন্ডার গ্যাপ কমছে, এতে কোনোই সন্দেহ নেই। আমার মা যখন পদার্থবিজ্ঞানে পড়তেন তখন তিনি তার ক্লাসে একমাত্র মেয়ে ছিলেন। আমার সময়ে আমরা দুজন মেয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলাম আর এখন ৯০ জনের ক্লাসে সহজেই ২৫ জনের মতো ছাত্রী পাই। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হলেও বাস্তব অবস্থার একটা ধারণা তো এ থেকে পাওয়া যায়ই। ডেইলি স্টারের তথ্যমতে, ৩০ শতাংশের বেশি নারী ইদানীং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নে পড়ছে। বায়োলজিক্যাল সায়েন্স অথবা মেডিসিনে ছাত্রীরা ৬০ শতাংশ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্যাল সায়েন্সে ২৬ শতাংশ ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্সে ৪৭ শতাংশ নারী। বুয়েটে এক-পঞ্চমাংশ ছাত্রী। সারা বিশ্বের সঙ্গে তুলনা করলে সংখ্যাগুলো নিরাশাব্যঞ্জক মনে হয় না।

আমাদের দেশে বিজ্ঞানে মেয়েরা শুধু যে সংখ্যায় বেড়েছে তা নয়, তারা ফলাফলেও ভালো করছে। আমার বিভাগে প্রতি বর্ষের রেজাল্টে মেয়েরা নিয়মিতভাবে প্রথম সারিতে থাকছে। পদার্থবিজ্ঞানের মতো জটিল গণিত-ঘনিষ্ঠ বিষয়ে মেয়েরা মোটেই পিছিয়ে নেই। আমার অভিজ্ঞতায় ছাত্রীদের তুলনামূলকভাবে পড়াশোনায় বেশি মনোযোগী ও যত্নবান দেখেছি। স্নাতকোত্তর গবেষণা থিসিসেও তারা দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় রাখছে। শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে এর পুরোপুরি প্রতিফলন পড়ছে না যদিও। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদে মাত্র ১৪ শতাংশ নারী ফ্যাকাল্টি।

এর একটা কারণ হতে পারে যে উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে এসে জেন্ডার বিভাজনটা আবার বাড়তে থাকে। মাস্টার্সের পর বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করে অনেক ছাত্রীর শিক্ষার গতি শ্লথ হয়ে আসে। অনেকেরই একটা বিরতি পড়ে যায়। স্বামীর পেশা ও কর্মস্থলের ওপর স্ত্রীর ভবিষ্যৎ শিক্ষার পরিকল্পনা নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। আবার কোনো কোনো মেয়ের ক্ষেত্রে বিদেশে ভালো স্কলারশিপ পাওয়া সত্ত্বেও অভিভাবকরা একা যেতে দিতে চান না। বাংলাদেশের মতো অনারীবান্ধব, অনিরাপদ দেশে মেয়েকে দূরের শহরে একা থেকে পড়তে দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু অপেক্ষাকৃতভাবে অনেক নিরাপদ বিদেশের মাটিতে কেন জানি পাঠাতে স্বস্তি বোধ করেন না অনেকেই! তবে এ চিন্তাধারার অনেক পরিবর্তন হয়েছে, সেটাও ঠিক। বহু মেয়ে বাইরে উচ্চতর শিক্ষায় যাচ্ছে এবং ভালো ফলাফল করে দেখাচ্ছে।

সন্তান জন্মের পর পিএইচডি ও পরবর্তী গবেষণা আরো কঠিন হয়ে পড়ে। বিজ্ঞান গবেষণায় যে একনিষ্ঠ মনোযোগের প্রয়োজন হয়, সন্তানের মা হিসেবে সেটা অনেক নারীর পক্ষেই পুরোপুরি দেয়া সম্ভব হয় না। সন্তান জন্মদানের পর নারীর যে মানসিক ও শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন সাধিত হয়, সেটাও তার কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। উদাহরণস্বরূপ পোস্ট-নেয়টাল ডিপ্রেশন ও ব্রেইন ফগের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। গবেষণা ৯টা-৫টা চাকরি নয়। এর ব্যাপ্তি কর্মক্ষেত্র ছাড়িয়ে গৃহেও প্রবেশ করে। শুরু হয় নারীর পেশা আর সংসারের মাঝে ভারসাম্যের প্রয়াস। সন্তান স্বভাবতই মায়ের কাছে অগ্রাধিকার পায় এবং অধিকাংশ নারী তার পেশাগত কর্ম ও গবেষণাকে সংকুচিত করতে বাধ্য হন। এটি প্রায় সব সমাজের জন্যই প্রযোজ্য। বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। তবে আজকাল সব রকমের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নারীরা তার পরও যথাসাধ্য প্রচেষ্টা জারি রাখছেন। উদাহরণ হিসেবে icddr,b-এর ইমেরিটাস বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের (BAS) ফেলো ড. ফেরদৌসি কাদরীর নাম বলা যায়। তিনি গবেষণায় অবদানের জন্য ২০২০ সালে সম্মানসূচক লরিয়েল-ইউনেস্কো পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সারা বিশ্বে পাঁচজন সেরা নারী বিজ্ঞানীকে গত বছর ইউনেস্কো এ পুরস্কার দেয়। উল্লেখ্য, গতবারের রসায়নের নোবেল বিজয়ী দুই নারীর একজন, ইমানুয়েল কারপেন্টার, ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর এ পুরস্কার লাভ করেছিলেন। ইতালিতে অবস্থিত The World Academy of Sciences (TWAS) 2020 সালে সারা বিশ্বে যে কয়জন TWAS ফেলো মনোনীত করেছে, তার মধ্যে তিনজন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী আছেন। তাদের দুজন নারী—একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, অন্যজন icddr,b-এর।

সুইজারল্যান্ডের সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, জীববিজ্ঞান ও রসায়ন পছন্দের অনুপাতে ছেলে-মেয়ে প্রায় সমান। অথচ গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ছেলেদের তুলনায় মাত্র এক-চতুর্থাংশ মেয়ের পছন্দ এ বিষয়গুলো। STEM ক্ষেত্রে নারীদের স্বল্পতা এ বিষয়গুলোর ব্যাপারে একটা পুরুষবাচক ইমেজ তৈরি করেছে, যা স্কুল পর্যায়ের মেয়েদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করছে। এভাবে একটা পৌনঃপুনিক প্রভাব তৈরি হচ্ছে। একটি গবেষণা করা হয়েছিল কিন্ডারগার্টেন থেকে প্রাইমারি স্কুলের শিশুদের ওপর, যেখানে তাদের পেশাজীবীদের ছবি আঁকতে দেয়া হয়েছিল। মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ শিশু বিজ্ঞানী হিসেবে কোনো নারীর ছবি এঁকেছে! উপলব্ধির আগেই সামাজিক ধারণাগুলো শিশুদের মনে এভাবে গেঁথে যায়।

বলা হয়ে থাকে, পুরুষরা বস্তু নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসে আর নারীরা মানুষকে নিয়ে। ছেলেদের প্রবণতা বাস্তবভিত্তিক ও অনুসন্ধানী, অন্যদিকে মেয়েরা শৈল্পিক ও সামাজিক, এমন কথাও আছে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পুরুষের আধিক্য ব্যাখ্যা করতে তাদের spatial দক্ষতার কথা বলা হয়। বহু গবেষণা হয়েছে, কিন্তু গবেষকরা কোনো নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট উপসংহারে পৌঁছতে পারেননি এখনো। গণিতঘন বিষয়গুলোতে মেয়েদের তুলনামূলক স্বল্পতার ব্যাখ্যা হিসেবে এসেছে প্রকৃতিদত্ত কারণ, যেমন—ব্রেইনের আয়তন, ব্রেইনের গঠনগত পার্থক্য, হরমোনের প্রভাব ইত্যাদি এবং সামাজিক কারণ, যেমন—বিজ্ঞানকে নারীবান্ধব না ভাবা, সমাজে প্রচলিত বৈষম্য, জেন্ডার স্টেরিওটাইপ ইত্যাদি।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ বছর বয়সীদের SAT-M (গণিত) পরীক্ষায় সেরা ফলাফলকারীদের মধ্যে মেয়েদের আনুপাতিক সংখ্যা ২০ বছরে পাঁচ গুণ বেড়েছে। তিন দশকে বেড়ে ২০০১ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে গণিতে ৪৮ শতাংশ স্নাতক ও ২৯ শতাংশ পিএইচডি ডিগ্রিধারী নারী। উভয় পরিসংখ্যানই সামাজিক পরিবর্তনের প্রভাব নির্দেশ করে। কারণ এ দু-তিন দশকে নিশ্চয়ই মেয়েদের জৈবিক বিবর্তন সংঘটিত হয়ে যায়নি! কিন্তু পিএইচডি ডিগ্রিধারীর সংখ্যায় প্রভূত উন্নতির সঙ্গে সংগতি রেখে নারী ফ্যাকাল্টির সংখ্যা সেভাবে বাড়েনি। ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের তথ্য (২০০৫-০৬) অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতঘন বিষয়ে নারী প্রফেসর মাত্র ৩ থেকে ১৫ শতাংশ। খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই এই দশা!

মেয়েদের সামর্থ্যের নয়, বরং আগ্রহের ভিন্নতা তাদের STEM-এর তুলনায় non-STEM বিষয় বেশি বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে, এমন হওয়া খুবই সম্ভব। স্ট্যাটিস্টিকস-কানাডার জরিপ দেখেছে যে কিছু ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি গণিত দক্ষতা সত্ত্বেও অনেক মেয়ে STEM বিষয় বেছে নেয় না। তাছাড়া মেয়েদের উৎসাহিত করার মতো পর্যাপ্তসংখ্যক বিজ্ঞানী নারী রোলমডেল এখনো নেই, এটাও একটা কারণ বৈকি।

বিগত কয়েক দশকে বিজ্ঞানে নারীর প্রশংসনীয় অগ্রগতি হয়েছে। চতুর্থ শতাব্দীর গণিতবিদ হাইপেশিয়া (Hypatia), বিশ শতকের পদার্থবিজ্ঞানী মারি কুরিসহ (Marie Curie) আরো অগুনতি পথিকৃতের উত্তরসূরি আজকের STEM নারীরা। বিজ্ঞানে নারীর অবস্থান ও অবদান আরো শক্তিশালী হবে, নারীরা তাদের বিজ্ঞান সক্ষমতা আরো কার্যকরভাবে বিশ্বের কাজে লাগাতে সক্ষম হবেন—এমন আশা আজ মোটেই কোনো দুরাশা নয়!

 

ড. রায়হানা শামস্ ইসলাম: অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত