প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দেশে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের প্রধান কারণ স্ট্রোক

শাহীন খন্দকার : [২] মৃত্যু ও পঙ্গু হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম অবস্থান হচ্ছে স্ট্রোক বলেই দেশের বিশেষজ্ঞদের দাবি। বর্তমানে স্ট্রোকজনিত মৃত্যু শুধু জাতীয় সমস্যা নয়, স্ট্রোক হচ্ছে বিশ্বজনীন সমস্যা। স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতি মিনিটে চার জন আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৯ লাখ। ইত্তেফাক।

[৩] স্ট্রোক ব্রেন বা মস্তিস্কের রোগ ,তবে হৃদরোগ নয় । বর্তমানে স্ট্রোকজনিত মৃত্যু শুধু জাতীয় সমস্যা নয়; বিশ্বজনীন সমস্যা। স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৯ সালে ওয়ার্ল্ড স্ট্রোক অর্গানাইজেশনের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বিশ্বে প্রতি ২ সেকেন্ডে ১ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং প্রতি ৪ সেকেন্ডে ১ জন মৃত্যুবরণ করেন।

[৪] বিশ্বজুড়ে স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আট কোটির বেশি, এর মধ্যে স্থায়ীভাবে নিস্ক্রিয় অথবা পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে আছেন প্রায় পাঁচ কোটি। বাংলাদেশে স্ট্রোক রোগীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। আর সরকারি হাসপাতালে যত রোগী মৃত্যুবরণ করেন তার ২০ শতাংশই স্ট্রোক রোগী। প্রথম আলো।

[৫] স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের যৌথ এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি ১ হাজার জনের মধ্যে ১১ দশমিক ৩৯ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। মূলত ৪০ বা তার বেশি বয়স্ক মানুষদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেক বেশি। স্ট্রোকের ঝুঁকির জন্য বেশি দায়ী উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ধূপমান।

[৬] বিখ্যাত গবেষণাপত্র ল্যানসেটের গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ২১ শতাংশ মানুষ ধূপমানে অভ্যস্ত। প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ফলে বাংলাদেশের স্ট্রোকের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী দেশে বছরে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষ স্ট্রোকে মৃত্যুবরণ করেন।

[৭] এদিকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের প্রজেক্ট পরিচালক জহুরুল হক চৌধুরী বলেন, ৬০ বছরের বেশি বয়সিদের স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন, কোলেস্টেরল বেশি, ডায়াবেটিস, খাদ্যাভাস (ফাস্ট ফুড, রেড মিট, অ্যালকোহল),বংশগত কারণে (বাবা-মার হলে হওয়ার সম্ভাবনা থাকে) স্ট্রোক হতে পারে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও বিশ্বমানের স্ট্রোকের চিকিৎসা আছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ১০০ বেডের স্ট্রোক ইউনিট রয়েছে। সারা বিশ্বের উন্নত দেশে যে চিকিৎসাব্যবস্থা তার সব কিছু এখানে রয়েছে।

[৮] চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই ইউনিট চালু হয়েছে। তিনি বলেন, ইসকেমিক স্ট্রোক বা রক্তনালী বন্ধ হয়ে গিয়ে যে স্ট্রোক হয় তার জন্য পুরো বিশ্বে প্রচলিত থ্রম্বোলাইসিস চিকিৎসা এখন বাংলাদেশেও বিদ্যমান। মাথায় রক্ত জমাট বাধা রোগীরা আক্রান্ত হওয়ার পর তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে আসলে একটা ইনজেকশন দেওয়া হয়। এতে স্বাভাবিক হয়ে বাসায় ফিরে যেতে পারে রোগী।

[৯] স্ট্রোকের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বলেন, যদি কারও শরীরের এক দিকে অবশ বোধ হয় তাহলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যদি এক হাত অন্য হাতের চেয়ে দুর্বল লাগে এবং কথা বলতে আড়ষ্ঠতা বোধ হয় তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে হঠাৎ করে শরীর ভারসাম্যহীন হয়। হাঁটতে গেলে পড়ে যায়।

[১০] হঠাৎ করে তীব্র মাথাব্যথা দেখা দেয়। স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে যদি জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা করানো যায় তাহলে ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে বলে জানান। তারা বলেন, স্ট্রোক প্রতিরোধের আরেকটা উপায় হলো ওষুধের মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা। সেসঙ্গে ওজন কমানো, নিয়মিত শরীরচর্চা করা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ত্যাগ করা।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত