প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্ত্রীর মামলায় কারাগারে বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি

ডেস্ক রিপোর্ট: যৌতুক এবং পরকীয়ায় লিপ্ত হবার ঘটনায় স্ত্রীর দায়ের করা নারী নির্যাতন মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মামুনুর রহমান মামুনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার রংপুরের চিফ জুডিশয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শওকত আলী এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, রংপুর মহানগরীর ধাপ কাকলী লেনের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মামুনুর রহমান মামুনের সাথে ১১ বছর আগে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পান্থপাড়া গ্রামের মনসুর আলী মণ্ডলের মেয়ে রুপালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মাফরুহা আখতারের সাথে বিয়ে হয়।

বিয়ের পর স্বামীর বাবার বাড়ি রংপুর নগরীর ধাপ কাকলী লেনের বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। তাদের চার বছরের একটি মেয়ে সন্তান আছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, তার স্বামী বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর কার্যালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিসহ ভাইরাল হলে ব্যাংকে তোলপাড় শুরু হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে প্রায়শই তাকে মারধর করতেন স্বামী মামুন।

অবশেষে পরকীয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে মামুন ওয়াদা করে তিনি আর পরকীয়ায় লিপ্ত হবেন না এবং স্ত্রীকে নির্যাতন করবেন না। কিন্তু কিছু দিন না যেতেই আবারো ওই নারীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হন। এ সব ঘটনার ছবি এবং তাদের মোবাইলে দেয়া শত শত ম্যাসেজ ও অডিও প্রকাশ পেলে ঘটনার প্রতিবাদ করলে আসামি মামুন আবারো তাকে অমানুষিক নির্যাতন করেন।

শুধু তাই নয় ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে ওই টাকা দিয়ে তাদের বাসার তৃতীয় তলা নির্মাণ করা হবে। টাকা দিতে না পারায় চলতি বছরের ২১ মে তারিখে বেদম মারধর করে গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। গভীর রাতে চার বছরের মেয়ে সন্তানসহ বাসা থেকে বের করে দেন। গুরতর অসুস্থ অবস্থায় গোবিন্দগঞ্জে বাসায় এসে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে চলতি বছরের ১ জুলাই রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের কোতয়ালী থানায় মাফরুহা আখতার নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করে। যার নম্বর ৩ তারিখ ১/০৭/২০ইং।

মামলা দায়েরের পর বাদিকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন আসামি মামুন। ফলে জীবনের নিরাপত্তাহীনতার আশংকায় রুপালী ব্যাংক রংপুর সেন্ট্রাল রোড শাখা থেকে বগুড়া শাখায় বদলি নিয়ে সেখানে চাকরি করছেন বাদি।

এদিকে এ ঘটনার দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামি মামুনুর রহমান হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বাদিপক্ষের আইনজীবী পিপি আব্দুল মালেক অ্যাডভোকেট ও রইছ উদ্দিন বাদশা জানান, আসামি তার স্ত্রীর প্রতি যে অমানুষিক নির্যাতন করেছে তার ভিডিও চিত্র তিনি নিজেই ধারণ করে রেখেছেন তার পরকীয়ায় লিপ্ত হওয়া প্রেমিকাকে দেখানোর জন্য। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ছবি প্রেমিকার কাছে দেয়া শত শত ম্যাসেজ ও অন্য কাগজ-পত্র প্রমাণ করে আসামি একজন নারী নির্যাতনকারী বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। নয়া দিগন্ত

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত