প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অমি রহমান পিয়াল: বিশ্ব আমাদের পিছু নিয়েছে খামোখা, সর্বনাশ না ঘটিয়ে ছাড়বে না!

অমি রহমান পিয়াল: ৪-৫ দিন আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নামক প্রতিষ্ঠানটি একটা জরিপ প্রকাশ করেছে। ওরা বলেছে যে, ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ভারতের চেয়ে বেশি হবে। আমি যেহেতু বিশ^ব্যাংক কিংবা আইএমএফÑ তাদের কারোরই পরিসংখ্যান বিশ^াস করিনি কখনো, তাই ওই খবরটাকে খুব একটা গুরুত্ব দিইনি। শুধু মনটা একটু ভালো লেগেছে যে এমন একটা সংবাদ সাময়িক সত্যি না হলেও বঙ্গবন্ধু বৎসরকে বাংলার মানুষ স্মরণ রাখবে এই কারণে। আমি আরও ভেবেছিলাম যে এই সাময়িক ভারতকে ছাড়িয়ে যাওয়াটা ক্ষণস্থায়ী হতে বাধ্য। কারণ কোভিডে ভারত কাবু হয়েছে ক্ষণিকের তরে বছর দুয়েকের মধ্যেই আবার ফিরে দাঁড়াবে। বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাওয়া তো ভারতের লক্ষ্য হতে পারে না, তাদের লক্ষ্য সুদূর প্রসারি, তারা ছুঁবে চীনকে এবং চেষ্টা চালাবে চীনকেও ছাড়িয়ে যেতে। কিন্তু কীসের কী। ভারতের সব প্রজাতির সংবাদ মাধ্যম গেলো ক্ষেপে। সেকি ক্ষেপা। সে যাই হোক, আমি ওদের ক্ষেপামো দেখে ভয় পেয়ে গেছিলাম। তোমরা অনেকেই জানো, সত্তরের দশকে শ্রীলঙ্কার মতো শান্তিপ্রিয় (তখন পর্যন্ত তাই সত্যি ছিলো) একটা দেশের শিক্ষার হার ছিলো ৯৮ শতাংশ আর মাথাপিছু আয় ছিলো ভারতের দ্বিগুণ। কিন্তু কোথা থেকে কী হয়ে গেলো, শ্রীলঙ্কার তামিল যুবক কিশোরদের হাতে বিশে^র অত্যাধুনিক অস্ত্র সস্ত্র এসে গেলো, কথা নেই বার্তা নেই তামিল টাইগারের জন্ম হলো।

ব্যস্, সেই যে গার্মেন্টস শিল্প বাংলাদেশে আসা শুরু হলো, এখন তো বাংলাদেশ এই খাতে শ্রেষ্ঠত্বের পথে। অথচ সেই কালে শ্রীলঙ্কা ছিলো বিশ^সেরা। আজও শ্রীলঙ্কা সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি। স্বভাবতই আমি ভীত। কারণ মিয়ানমারের সাথে কোনো ছুঁতায় যুদ্ধ বাঁধলে ৫ দিনেই বাংলাদেশের অর্থনীতি শেষ, মিয়ানমারের তো দুই কান অলরেডজ কাটা, তাই ওরা চলে রাস্তার মাঝখান দিয়ে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর কন্যা সে পথ মারাচ্ছেন না, তিনি বলে দিয়েছেন- হাবভাব দেখে মনে হয় না মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের কখনো ফেরত নেবে। তাই তিনি দশ লাখ রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী নিবাস তৈরি করে চলেছেন, যদিও বলতে হচ্ছে ওগুলো সব অস্থায়ী বসবাসের জন্য। কাজেই যুদ্ধের অজুহাত খুঁজে পাওয়া মিয়ানমারের জন্য কঠিন। অথচ টেকনাফকে ঘিরে রোহিঙ্গাদের একটা স্বাধীন বাসভূমির স্বপ্ন আমেরিকা এবং অন্যেরা দেখছিল বেশ কয়বছর ধরে। তাতে বঙ্গোপসাগরের তীরে নৌ-ঘাঁটি করতে কোনো সমস্যা হতো না। সে ভয় আমার তাই কেটে গেছে, কিন্তু শরণার্থী ভয় তবু থেকেই গেলো। কোনো কারণে যদি আসামের এক-দেড় কোটি মুসলমান হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশে চলে আসবে, সেটা আমাদের জন্য যুদ্ধ মোকাবেলার সামিল হবে, ফলে ধ্বংস হতে সময় লাগবে না।

একমাত্র আশা ছিলো, দুই-চার দিন এই নিয়ে হৈচৈ হবে বটে, তবে ভারত সংবাদটা ভুলে যাবে দ্রুত। কিন্তু কীসের কী! ভারত সরকার হিসেব দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে, কীভাবে কেন ভারতের জিডিপি বাংলাদেশের তুলনায় ১১ গুণ বেশি (পরিসংখ্যান সত্য), কাজেই ইত্যাদি। তাতে ভয়টা একটু বেড়েই ছিলো। গত তিন দিনের বিশ^ সংবাদে নানা রকম হেডলাইন সংবাদে আমি সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। একটা হেডলাইন ছিলো, আগামী ২০২৫ সাল পর্যন্ত শত চেষ্টা করেও ভারত বাংলাদেশকে পেছনে ফেলতে পারবে না। পরের দিন দেখলাম ব্লুমবার্গ সংবাদ, তাদের হেডলাইন রীতিমতো ঘৃণ্য। বলছে, ভারত চীনকে ছুঁবে তো পরে, আগে বাংলাদেশকে হারাতে পারে কিনা দেখি! আর বিজনেস টাইমসে লিখেছে, বাংলাদেশের সাথে হেরে যাওয়া ভারত চীনকে ছুঁতে পারবে, এমন দূরাশা সমীচীন মনে হয় না। পিয়াল, খেয়াল রাখতে হবে যে আমি হেডলাইনগুলো লিখলাম নিজের পরিভাষায়, যেহেতু অক্ষরে অক্ষরে মনে রাখতে পারি না কখনো। অর্থাৎ বিশ্ব আমাদের পিছু নিয়েছে খামখা, সর্বনাশ না ঘটিয়ে ছাড়বে না। কথায় আছে না, গরিবের মেয়ের সুন্দরী হতে নেই, কিংবা বিধবা সুন্দরীর অসহায়ত্ব গুছবার নয়? (মুরুব্বি বার্তা) ফেসবুক থেকে

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত