শিরোনাম
◈ ইয়াবা পাচারে বদলেছে রুট, বাড়ছে রেল-নৌ ও পাহাড়ি পথের ব্যবহার ◈ বিদেশিবিরোধী উত্তেজনায় আতঙ্কিত দক্ষিণ আফ্রিকার অভিবাসীরা ◈ আর্মব্যান্ড ছাড়াই হামজা নেতা: থমাস ডুলি ◈ তুচ্ছ ঘটনায় বারবার সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ ◈ পাথর নিক্ষেপ ঠেকাতে কক্সবাজারগামী ট্রেনে বসছে সিসি ক্যামেরা ◈ গোয়েন্দা নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য: পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নাকচ করেনি সৌদি ◈ দফায় দফায় হামলা, ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি ◈ ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক দাম ও কৃত্রিম সংকট নিয়ে কড়া বার্তা বাণিজ্যমন্ত্রীর, ব্যবসায়ীদের যা বললেন ◈ জার্মানিতে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার চাকরি, আবেদন করতে পারবেন যারা ◈ আকাশসীমার জটিলতা কাটল, ১ অক্টোবর থেকে আসছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম

প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ০৭:১০ সকাল
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ০৭:১০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] নামে জনসেবা ক্লিনিক, ভেতরে অপচিকিৎসা

এইচ এম শাহনেওয়াজ: [২] রাজশাহীর পুঠিয়ায় জনসেবা ক্লিনিক এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপ ও অপচিকিৎসায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। ভূক্তভোগীরা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং ক্লিনিক মালিক স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে দেদারছে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

[৩] ভূক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পুঠিয়া সদরে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের নিচতলায় জনসেবা ক্লিনিক এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টার নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসে বুলবুল আহমেদ নামের এক ব্যাক্তি। ক্লিনিকের নাম জনসেবা রাখা হলেও তা এখন জনদূর্ভোগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। ক্লিনিকের সামনে বড় বড় চিকিৎসকের নামে সাইবোর্ড ঝুলিয়ে রাখলেও এদের মধ্যে কোনো চিকিৎসক এখানে আসেন না। দু’একজন আসলেও তারা নিয়মিত নয়। চিকিৎসক না আসলেও ক্লিনিক মালিক বসে নেই। অল্প টাকায় ভালো চিকিৎসা দেয়ার নামে দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী সংগ্রহ করে ভর্তি করাচ্ছেন। এদের মধ্যে কেউ মোটামুটি সুস্থ্য হলেও অনেকের আরো দুর্ভোগের কারণ হয়ে দেখা দিচ্ছে। এছাড়া ওই ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে সুন্দরী মেয়েদের চাকুরি দেয়ার নামে অসামাজিক কাজ করানোর অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

[৪] পুঠিয়া সদর এলাকার কাঠালবাড়ীয়া গ্রামের মৃত আবুল খায়ের স্ত্রী বলেন, গত বছরের শেষের দিকে এই ক্লিনিকের এক দালালের প্রলোভনে আমি জরাযু অপারেশন করাতে গিয়ে ছিলাম। পরে সেখানকার ডাক্তার জরাযুর পরিবর্তে আমার মূত্রনালি কেটে ফেলেছে। এতে গত এক বছর থেকে আমি চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছি।

[৫] শাহবাজপুর এলাকার জনৈক ব্যাক্তি বলেন, শারিরীক সমস্যা দেখা দেয়ায় আমার মেয়ের এমআর করাতে এই ক্লিনিকে এনেছিলাম। সেখানে একজন ভূয়া ডাক্তার মেয়ের জরাযু কেটে ফেলে। পরে তাকে দীর্ঘদিন রামেক হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করানো হয়।

[৬] নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই ক্লিনিকের সাবেক একজন মহিলা কর্মচারী বলেন, উপজেলার মধ্যে যতো ক্লিনিক ও প্যাথলজি সেন্টার রয়েছে এর মধ্যে জনসেবা ক্লিনিকের সেবার মান খুবই খারাপ। মালিকপক্ষ বড় বড় চিকিৎসকের নাম ভাঙ্গিয়ে স্বামী-স্ত্রী ডা. সেজে সকল প্রকার অপারেশন করছে। তাদের ভুল অপারেশনের কারণে অনেক রোগী পঙ্গু হওয়ার পথে। পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে সেবিকার পরিচয়ে এক ডজন সুন্দরী মহিলা রেখে অসামাজিক কার্যক্রম চালাচ্ছে।

[৭] পৌরসভা মেয়র রবিউল ইসলাম রবি বলেন, জনসেবা ক্লিনিকের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে একটি রোগীকে অপারেশনের নামে পিত্তথলি কেটে দেয়া ও অপর এক কিশোরীকে ওই ক্লিনিকে চাকুরী দেয়ার নামে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ দুই ঘটনায় ভূক্তভোগীর পরিবার আমার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। পরে শুনেছি টাকা-পয়সা দিয়ে ক্লিনিক মালিক তাদের ম্যানেজ করেছে। অপরদিকে ওই ক্লিনিকে গভীর রাতে বহিরাগত লোকজন আসা যাওয়া করে বলে পুঠিয়া ত্রিমোহনী বাজার সমিতির একাধিক নৈশপ্রহরীরা আমাকে অবহিত করেছেন।

[৮] এ বিষয়ে জনসেবা ক্লিনিক এন্ড ডায়গনষ্টিক সেন্টারের মালিক বুলবুল আহমেদ বলেন, এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ ছিল তা সমঝোতা হয়ে গেছে। আর এই ক্লিনিকে অসামাজিক কার্যকলাপ ও ভূয়া চিকিৎসক দিয়ে অপারেশন করানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমার অফিসে আসেন স্বাক্ষাতে কথা হবে।

[৯] রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, ওই ক্লিনিকের অনিয়মের বিষয়ে আমিও শুনেছি। অচিরেই তদন্ত পূর্বক আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সম্পাদনা: হ্যাপি

  • সর্বশেষ