শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ৮৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ ◈ ফেরদৌসী মিষ্টির আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন যে ৬৭ নারী নেত্রী ◈ দীপকের আটক ঘিরে নেতৃত্বের সংকট, বিকল্প পরিকল্পনা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত সিজেপির ◈ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ওঠা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কাভার্ডভ্যান চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা যেভাবে উদ্ধার হলো ◈ মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানত না ঢাকা, তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি ◈ হাসিনা-কামালসহ হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চাইবে বাংলাদেশ, ভারতকে কনস্যুলার সংলাপে চাপ ◈ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, ৮-১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন-উত্তর বিক্রি: গ্রেপ্তার ৭ ◈ জামায়াত কার্যালয়ে হামলা: কুমিল্লা মহানগর কমিটি বিলুপ্ত, তদন্ত কমিটি গঠন ◈ ভারতে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন শাহিদাদের

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:৪৫ বিকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ সকাল

প্রতিবেদক : মনজুর এ আজিজ

ইরানে হামলায় গ্যাস সংকটে পড়বে বাংলাদেশ!

মনজুর এ আাজিজ : ইরানে হামলায় টালমাটাল হয়ে পড়তে পারে বিশ্বের জ্বালানি খাত। এক্ষেত্রে বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেল সরবরাহে তেমন প্রভাব না পড়লেও এলএনজি আমদানি ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনিতেই দেশে গ্যাস সংকটে নাকাল অবস্থা, আমদানি করেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না ঘাটতি। এরপর এলএনজি আমদানি ব্যহত হলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

বর্তমানে দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক ১৭১৪ মিলিয়ন ঘনফুট (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আর আমদানি করে যোগান দেওয়া হচ্ছে ৮৫০ থেকে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তিতে আনার এলএনজির প্রায় পুরোটাই আসছে হরমুজ প্রণালি হয়ে। ইরান সংকট দীর্ঘায়িত হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে আনা-নেওয়া করা হয়। ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্জ দ্বীপ থেকে এ পথ দিয়ে তেল সরবরাহ হয়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই ইরান সংকট বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বালানি তেল আমদানির চুক্তিগুলো হয় ৬ মাস মেয়াদী। আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। আশা কথা হচ্ছে এগুলো আসবে চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। এই রুটে ইরান সংকটের প্রভাব পড়বে না।

Advertisement

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সব ধরণের জ্বালানির মজুদ ২০ দিনের উপরে রয়েছে। আবার কিছু জাহাজ খালাসের অপেক্ষায়, কতগুলো পথে রয়েছে। আশা করি জ্বালানি তেল সরবরাহে কোন রকম বিড়ম্বনা তৈরি করবে না।
পরিশোধিত জ্বালানি তেলে সমস্যা না হলেও সৌদি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল আমদানিতে প্রভাব পড়তে পারে। ইস্টার্ন রিফাইনারী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত গণমাধ্যমকে বলেন, এখনই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ক্রুড অয়েল আমদানিতে প্রভাব পড়তে পারে।

জ্বালানি তেলে কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও টেনশন বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে। এক সময় দেশীয় গ্যাসফিল্ডগুলো থেকে ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যেতো। দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোর মজুদ কমে যাওয়ায়, প্রতিদিনই কমছে উৎপাদন। প্রয়োজন ছিল তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জোর পদক্ষেপ, সেদিকে না গিয়ে আমদানির পথে পা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ।

গ্যাস ঘাটতি মোকাবিলায় ২০১৮ সাল থেকে জিটুজি ভিত্তিতে কাতার থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করা হয়। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে খোলাবাজারের পাশাপাশি ওমান থেকেও এলএনজি আমদানি শুরু করা হয়। যার প্রায় পুরোটাই হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। যে কারণে ৪ হাজার কিলোমিটার দুরে যুদ্ধের দামামায় বাংলাদেশের আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখছেন অনেকেই।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এখনই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাচ্ছে না, আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

  • সর্বশেষ