মনজুর এ আাজিজ : ইরানে হামলায় টালমাটাল হয়ে পড়তে পারে বিশ্বের জ্বালানি খাত। এক্ষেত্রে বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেল সরবরাহে তেমন প্রভাব না পড়লেও এলএনজি আমদানি ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনিতেই দেশে গ্যাস সংকটে নাকাল অবস্থা, আমদানি করেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না ঘাটতি। এরপর এলএনজি আমদানি ব্যহত হলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
বর্তমানে দেশীয় উৎস থেকে দৈনিক ১৭১৪ মিলিয়ন ঘনফুট (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) আর আমদানি করে যোগান দেওয়া হচ্ছে ৮৫০ থেকে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তিতে আনার এলএনজির প্রায় পুরোটাই আসছে হরমুজ প্রণালি হয়ে। ইরান সংকট দীর্ঘায়িত হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে আনা-নেওয়া করা হয়। ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্জ দ্বীপ থেকে এ পথ দিয়ে তেল সরবরাহ হয়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই ইরান সংকট বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বালানি তেল আমদানির চুক্তিগুলো হয় ৬ মাস মেয়াদী। আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। আশা কথা হচ্ছে এগুলো আসবে চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। এই রুটে ইরান সংকটের প্রভাব পড়বে না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সব ধরণের জ্বালানির মজুদ ২০ দিনের উপরে রয়েছে। আবার কিছু জাহাজ খালাসের অপেক্ষায়, কতগুলো পথে রয়েছে। আশা করি জ্বালানি তেল সরবরাহে কোন রকম বিড়ম্বনা তৈরি করবে না।
পরিশোধিত জ্বালানি তেলে সমস্যা না হলেও সৌদি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ক্রুড অয়েল আমদানিতে প্রভাব পড়তে পারে। ইস্টার্ন রিফাইনারী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত গণমাধ্যমকে বলেন, এখনই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ক্রুড অয়েল আমদানিতে প্রভাব পড়তে পারে।
জ্বালানি তেলে কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও টেনশন বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে। এক সময় দেশীয় গ্যাসফিল্ডগুলো থেকে ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যেতো। দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোর মজুদ কমে যাওয়ায়, প্রতিদিনই কমছে উৎপাদন। প্রয়োজন ছিল তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জোর পদক্ষেপ, সেদিকে না গিয়ে আমদানির পথে পা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ।
গ্যাস ঘাটতি মোকাবিলায় ২০১৮ সাল থেকে জিটুজি ভিত্তিতে কাতার থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করা হয়। এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে খোলাবাজারের পাশাপাশি ওমান থেকেও এলএনজি আমদানি শুরু করা হয়। যার প্রায় পুরোটাই হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। যে কারণে ৪ হাজার কিলোমিটার দুরে যুদ্ধের দামামায় বাংলাদেশের আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখছেন অনেকেই।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, এখনই এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাচ্ছে না, আমরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সমস্যা দেখা দিতে পারে।