দেশে ক্রেডিট কার্ডকে এখনো দেখা হয় শুধু খরচের উপায় হিসেবে। এর পেছনে অবশ্য কারণও আছে। প্রায় সময় গ্রাহকরা ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে তাদের অসতর্কতায় কার্ডের ওপর নানা মাশুল আরোপের অভিযোগ তোলেন।
এছাড়া সুদ, বার্ষিক ফি, লেট ফি, ক্যাশ অ্যাডভান্স চার্জসহ আরো নানা রকম ফি রয়েছে। নিচের ১০ কৌশল অনুসরণ করলে কার্ড ব্যবহারে এসব মাশুল থেকে বাঁচা সম্ভব।
গ্রেস পিরিয়ড অনুসরণ করতে হবে, পরিশোধ করতে হবে পুরো বিল
ক্রেডিট কার্ডে সাধারণত ২০-৪৫ দিনের গ্রেস পিরিয়ড থাকে। এ সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ করলে সুদ লাগে না। তবে অনেক গ্রাহক ‘মিনিমাম পেমেন্ট’ পরিশোধ করে নিশ্চিন্ত থাকেন। এতে পুরো বকেয়ার ওপর সুদ চার্জ করা শুরু হয়। সেজন্য সোজা নিয়ম অনুসরণ করে মাস শেষে পুরো বিল পরিশোধ করে দেয়া উত্তম।
এড়াতে হবে ‘মিনিমাম পেমেন্টের’ ফাঁদ
ক্রেডিট কার্ডে বিলিং বার্তার সঙ্গে ‘মিনিমাম পেমেন্ট’ বা ‘মিনিমাম ডিউ’ নামে একটি কথা জুড়ে দেয়া হয়। এর অর্থ হলো জরিমানা এড়াতে ন্যূনতম উল্লেখিত টাকা পরিশোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে অপরিশোধিত বাকি টাকার ওপর সুদ আরোপ হতেই থাকে। ধরা যাক একজন গ্রাহকের ৫০ হাজার টাকা বকেয়া। তিনি ৫ হাজার টাকা ‘মিনিমাম পেমেন্ট’ পরিশোধ করলেন। সেক্ষেত্রে বাকি ৪৫ হাজার টাকার ওপর সুদ আরোপ হবে। পরবর্তী সময়ে আবার সুদের ওপর সুদ।
সুদহার জানতে হবে, সংগ্রহ করতে হবে কম সুদের কার্ড
ব্যাংকভেদে একেক কার্ডের একেক রকম সুদহার নির্ধারিত হয়। সব কার্ডের সুদহার এক নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কার্ডের বার্ষিক সুদহার ১৫-১৭ শতাংশও হতে পারে। সেক্ষেত্রে নিয়মিত গ্রাহকদের উচিত ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলা। অনেক সময় সুদহার কমানো বা ফি মওকুফের সুযোগ থাকে।
ক্যাশ অ্যাডভান্স থেকে দূরে থাকতে হবে
ডেবিট কার্ডে থাকা টাকা গ্রাহকের নিজের। কিন্তু ক্রেডিট কার্ডের টাকা গ্রাহকের নয়। মনে রাখতে হবে, ক্রেডিট কার্ডের মূল উদ্দেশ্য কেনাকাটা করা। এক্ষেত্রে ব্যয় হওয়া টাকা আবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করে দিতে হয়। সেজন্য সবসময় ক্যাশ অ্যাডভান্স থেকে দূরে থাকাই উত্তম। কারণ এতে কার্ডভেদে ২-৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ গুনতে হতে পারে। খুব জরুরি না হলে কার্ড দিয়ে নগদ টাকা তোলা ঠিক হবে না।
নেয়া যায় বার্ষিক ফি মওকুফের সুযোগ
অনেক ব্যাংক নির্দিষ্ট পরিমাণ খরচ করলে বার্ষিক ফি মওকুফ করে। শর্তগুলো পড়ে দেখতে হবে। যদি কার্ড খুব কম ব্যবহার করা হয়, তাহলে ব্যাংকে ফোন করে ফি ওয়েভারের আবেদন করা যায়।
ইএমআই নেয়া যাবে, তবে হিসাব বুঝে
কার্ডের ইএমআই অফার সবসময়ই আকর্ষণীয়। ‘শূন্য শতাংশ সুদ’ লেখা থাকলেও কার্ডের প্রসেসিং ফি বা হিডেন চার্জ থাকতে পারে। আবার পেমেন্ট গেটওয়েরও বিভিন্ন ফি থাকে। তাই ইএমআইতে কেনাকাটার আগে মোট কত টাকা ব্যয় হবে তা গুনে নেয়া প্রয়োজন।
রিওয়ার্ড পয়েন্ট কাজে লাগাতে হবে
রিওয়ার্ড পয়েন্ট পড়ে থাকলে লাভ নেই। অনেক কার্ডে পয়েন্টের মেয়াদ থাকে। সময়মতো ব্যবহার না করলে সেগুলো বাতিল হয়। পয়েন্ট দিয়ে কেনাকাটা বা বিল অ্যাডজাস্ট করলে কার্যত খরচ কমে।
বন্ধ করে দিতে হবে অপ্রয়োজনীয় কার্ড
একাধিক কার্ড মানে একাধিক ফি। যে কার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে না, সেটি বন্ধ করে দেয়া উচিত। তবে একেবারে পুরনো, ভালো ট্র্যাক রেকর্ড থাকা কার্ড হুট করে বন্ধ করলে তা গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোরে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আগে ব্যাংকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।
বিলিং সাইকেল নিজের সুবিধামতো ঠিক করে নিতে হবে
যদি কেউ বেতন পায় মাসের ২৫ তারিখে, আর তাকে বিল পরিশোধ করতে হয় ১০ তারিখে। তাহলে চাপ তৈরি হবে। অনেক ব্যাংক বিলিং ডেট পরিবর্তনের সুযোগ দেয়। সময় মিলিয়ে নিলে দেরি হওয়ার ঝুঁকি কমে।
স্টেটমেন্ট নিয়মিত খুঁটিয়ে দেখা উচিত
অজানা লেনদেন বা ভুল চার্জ হলে দ্রুত ব্যাংকে অভিযোগ করতে হবে। দেরি করলে টাকা ফেরত পাওয়া কঠিন হয়। এক্ষেত্রে কার্ড স্টেটমেন্ট দেখাকে গ্রাহকের অভ্যাসে পরিণত করা উচিত।
সূত্র: বণিক বার্তা