শিরোনাম
◈ যেসব আমলে গুনাহ মাফ হয় জুমার দিনে ◈ ‘অপারেশন গজব লিল হক’ অর্থ কী? কেন শুরু করল পাকিস্তান? ◈ বিএনপি ক্ষমতায় আসায় আওয়ামী লীগে স্বস্তি, অপেক্ষা সবুজ সংকেতের ◈ দে‌শের বি‌ভিন্ন জায়গায় চল‌ছে মবসন্ত্রাস, মববিরোধী সরকার কি এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে? ◈ সেনাবাহিনীর ৬ উচ্চ পদে রদবদল, কোন দায়িত্বে কে ◈ ছোট বেলায় স্পেনের বয়স‌ভি‌ত্তিক দ‌লে খেলার প্রস্তাব পেয়েছিলেন মেসি ◈ এলএনজি আকারে গ্যাস আনার পরিবর্তে ভোলায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করবে সরকার ◈ এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ইফতারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন ◈ মোহাম্মদপুর ও আদাবরে সাঁড়াশি অভিযানে ৯৫ জন গ্রেফতার ◈ ইরানের পেস্তা রপ্তানি সাফল্য: ৯ মাসে ৭৩০ মিলিয়ন ডলার আয়!

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৬ দুপুর
আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চীনের হিউম্যানয়েড রোবট সেনা ভাইরাল, সত্যতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক

মানুষের মতো দেখতে হিউম্যানয়েড রোবট, হাতে অ্যাসল্ট রাইফেল—এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, চীনের সামরিক বাহিনী যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রোবট সেনাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ভিডিওটি দেখে অনেকেই ধারণা করছেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে হয়তো মানুষের জায়গা নেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–চালিত রোবট। তবে যাচাই–বাছাই করে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, মানুষের মতো আকৃতির একটি রোবট অস্ত্র হাতে গুলি চালাচ্ছে। পোস্টে লেখা ছিল—চীন আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক পরিষেবার প্রস্তুতির জন্য রোবটদের প্রশিক্ষণ শুরু করেছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় চীনের কোম্পানি ইউনিট্রি রোবটিক্স–এর তৈরি রোবটের কথা। দাবি করা হয়, তাদের হিউম্যানয়েড রোবটের লাইভ ফায়ার পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ভিডিওটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন এটি ভবিষ্যৎ যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা—যেখানে মানুষের বদলে এআই–চালিত যন্ত্র লড়াই করবে।

তবে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মালিকানাধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্ম এক্সএআই–এর চ্যাটবট ‘গ্রোক’ বিশ্লেষণে জানায়, ভিডিওটি সম্ভবত এআই দিয়ে তৈরি। গ্রোক সতর্ক করে বলেছে, ২০২৬ সালে চীনের সামরিক বাহিনীর লাইভ ফায়ার পরীক্ষায় ইউনিট্রি হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারের কোনো নির্ভরযোগ্য বা যাচাই করা প্রতিবেদন নেই। বরং ভিডিওটির ভিজ্যুয়াল ও গতিবিধি বিশ্লেষণ করে মনে হয়েছে, এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি বা সম্পাদিত।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, ইউনিট্রির আসল প্রদর্শনীগুলো মূলত সাধারণ ও বেসামরিক প্রয়োজনে সীমাবদ্ধ ছিল। উদাহরণ হিসেবে বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠানে রোবটের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়। চীনে অতীতে সামরিক পরীক্ষায় চার পায়ের রোবট ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে, তবে মানুষের মতো হিউম্যানয়েড রোবটকে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ প্রশিক্ষণে ব্যবহার করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ ধরনের দাবি নতুন নয়। এর আগে সামাজিক মাধ্যমে বলা হয়েছিল, চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি)–সংলগ্ন এলাকায় টহলের জন্য এআই–চালিত রোবট মোতায়েন করেছে। তবে সেসব দাবিরও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চীন অবশ্য আলাদাভাবে জানিয়েছে, তারা সীমান্ত পারাপার এলাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সহায়তার মতো অ–সামরিক কাজে হিউম্যানয়েড রোবট পরীক্ষা করছে।

শেনজেনভিত্তিক ইউবিটেক রোবটিক্স একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ভিয়েতনাম সীমান্তে হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহের চুক্তি করেছে। এই প্রকল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ‘ওয়াকার এস২’ নামের উন্নতমানের একটি রোবট, যা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উন্মোচন করা হয়।

এই রোবটকে বিশ্বের প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা নিজে নিজেই নিজের ব্যাটারি পরিবর্তন করতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করা সম্ভব হয়। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, কাস্টমস ও লজিস্টিক কার্যক্রমে এটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিতে পারে।

সাম্প্রতিক ভাইরাল ভিডিওটি এমন সময় সামনে এসেছে, যখন চীন হিউম্যানয়েড রোবট প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ইউনিট্রি রোবোটিকস সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে মানুষের সঙ্গে রোবটের মার্শাল আর্ট প্রদর্শন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

এ ছাড়া ‘ম্যাজিকল্যাব’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান একই ধরনের অনুষ্ঠানে রোবট দিয়ে নাচের প্রদর্শনী করেছে। আবার ‘নোয়েটিক্স রোবোটিকস’ প্রায় মানুষের মতো দেখতে হিউম্যানয়েড উপস্থাপন করেছে। বেইজিংভিত্তিক ‘গ্যালবট’ এমন রোবট দেখিয়েছে, যা আখরোট ভাঙা, সসেজ তৈরি ও কাপড় ভাঁজ করার মতো দৈনন্দিন কাজ করতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান শ্রম ব্যয় এবং কমতে থাকা কর্মক্ষম জনসংখ্যার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীন রোবোটিকস খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। বিশ্বের উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর অটোমেশনকে গুরুত্ব দিচ্ছে দেশটি।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রোবোটিকসের তথ্য অনুযায়ী, চীন এখনো বিশ্বের বৃহত্তম ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবট বাজার। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে যত রোবট স্থাপন করা হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে চীনে।

বর্তমানে হিউম্যানয়েড রোবটগুলো মূলত বিনোদন, প্রদর্শনী এবং পরীক্ষামূলক শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে বিপুল ভর্তুকি দিয়ে কয়েক ডজন কোম্পানি এগুলোকে কারখানা, লজিস্টিক সেন্টার ও গবেষণাগারে পরীক্ষা করছে, তবে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

ফলে ভাইরাল ভিডিওটি যুদ্ধের প্রস্তুতির চিত্র তুলে ধরলেও, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সেটি নিশ্চিতভাবে যাচাই করা যায়নি। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির যুগে বাস্তব ও কৃত্রিম কনটেন্টের পার্থক্য বোঝা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে—আর এই ঘটনাও তারই একটি উদাহরণ। তথ্যসূত্র : দ্য ইকোনমিক টাইমস

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়