কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের নাতিশীতোষ্ণ ও শুষ্ক ফল বিষয়ক দপ্তরের মহাপরিচালক জানান, চলতি ইরানি ক্যালেন্ডার বছরের প্রথম নয় মাসে (২১ মার্চ–২১ নভেম্বর ২০২৫) ৬৭টি দেশে—যার মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৮টি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে—১ লাখ টন পেস্তা রফতানি হয়েছে, যার মূল্য ৭৩০ মিলিয়ন ডলার।
দারিউশ সালেমপুর বলেন, ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের কাস্টমসের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম নয় মাসে প্রায় ১ লাখ টন পেস্তা (খোসাসহ পেস্তা, পেস্তা কার্নেল, সবুজ পেস্তা কার্নেল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পণ্য) লক্ষ্যবস্তু দেশগুলোতে রফতানি করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি রফতানি হয়েছে তুরস্ক, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া, কিরগিজস্তান, ইরাক, কাজাখস্তান, পাকিস্তান এবং চীনে।
তিনি আরও জানান, গত বছর দেশে পেস্তা উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানিতে নজিরবিহীন সাফল্য অর্জিত হয়েছে; ১ লাখ ৭৫ হাজার টনের বেশি পেস্তা রপ্তানি করে ১.৭ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে।পেস্তা উৎপাদন ও রফতানিতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মূল্যবান পণ্যের উৎপাদন ও রফতানি টেকসই রাখতে কৃষি মন্ত্রণালয় গত বছর স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় মান সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় “কমপ্লিমেন্টারি অ্যাকশন” কর্মসূচি চালু করেছে।
সালেমপুর ১৪০৪ ইরানি বছরে (মার্চ ২০২৫–মার্চ ২০২৬) দেশের তাজা ও শুকনা পেস্তার মোট উৎপাদন প্রায় ৩ লাখ টন হবে বলে অনুমান করেন। তিনি বলেন, ৬ লাখ হেক্টরের বেশি পেস্তা বাগান নিয়ে আবাদি জমির দিক থেকে ইরান বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে।কিছু জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ ও ভারসাম্যহীনতা সত্ত্বেও এ বছর পেস্তা উৎপাদনের সামগ্রিক অবস্থা ভালো বলে তিনি মন্তব্য করেন। উৎপাদিত পণ্যের একটি অংশ গুদামে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা চাহিদা অনুযায়ী ধীরে ধীরে রফতানি বা অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেস্তা তাজা অবস্থায় সরবরাহ ও ভোগ করা হলেও অধিকাংশ শুকনা ও প্রক্রিয়াজাত পেস্তা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক—উভয় বাজারেই সরবরাহ করা হয়।ইরানি পেস্তা বিশ্বজুড়ে “পারস্যের সবুজ সোনা” নামে পরিচিত, যার স্বতন্ত্র স্বাদ ও উচ্চমানের জন্য এটি সমাদৃত। ৬ লাখ হেক্টরের বেশি বাগান নিয়ে ইরান বিশ্বে পেস্তা চাষের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয়। এখানে আকবরি, আহমদ আগায়ি এবং ফানদোগি জাতের পেস্তা উৎপাদিত হয়।
এই বাদাম শুধু সুস্বাদু খাদ্য নয়, অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ-৬৫টির বেশি দেশে এটি রফতানি হয়। জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ইরান কঠোর উৎপাদন মান বজায় রাখে। পেস্তা পারস্য সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধি ও আতিথেয়তার প্রতীক হিসেবে হাজার বছরের ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। সূত্র : তেহরান টাইমস